দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল থেকে ২০টি বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বেচারাম প্রামাণিক (৪৩) নামে একজন ভারতীয় ট্রাকচালককে আটক করেছেন আনসার সদস্যরা। ওই পাসপোর্টগুলোতে সাইবেরিয়ান ভিসা লাগানো। যা দেশের ১৪টি জেলার বাসিন্দার নামে করা।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল গেট থেকে পাসপোর্টসহ তাকে আটক করা হয়। তার ট্রাকটির নম্বর WB-25, F-4310।
এদিকে ঘটনাটি জানতে পেরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই পাসপোর্টধারীদের ব্যাপক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এসব পাসপোর্টধারী কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা অন্য কোনো অপরাধী চক্র কিনা তা তদন্ত করছে পুলিশ।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সাইবেরিয়ান ভিসা লাগানো পাসপোর্টগুলো ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে এনেছিল ট্রাকচালক বেচারাম প্রামাণিক। সবগুলো পাসপোর্টে ২৪ জুন তারিখে সার্বিয়ার ভিসা লাগানো রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাইবেরিয়ায় গিয়ে কেউ কেউ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশে প্রবেশের জন্য এ ভিসা লাগিয়েছিল।
বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা সংস্থা আনসার কমান্ডার হেলালউজ্জামান জানান, আগে থেকে তাদের কাছে গোপন সংবাদ ছিল- ভারত থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় এক ট্রাকচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশি বেশকিছু পাসপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। পরে তারা বন্দরের ভেহিকেল টার্মিনাল গেটে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেন। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ওই ট্রাকচালক পেট্রাপোল বন্দরের কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বন্দর ভেহিকেল টার্মিনাল গেটে এলে তার কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ওই ব্যাগের মধ্যে থেকে বাংলাদেশি ২০টি পাসপোর্ট পাওয়া যায়। ওই পাসপোর্টের প্রত্যেকটিতে সাইবেরিয়ার ভিসা লাগানো রয়েছে। আটক ট্রাকচালককে পাসপোর্টসহ থানা-পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
জব্দ হওয়া পাসপোর্টধারীরা হলেন চাঁদপুরের মনোহরগাজীর ছেলে মোজাম্মেল হোসেন, নোয়াখালীর রফিউল্লার ছেলে ইমরান হোসেন, কিশোরগঞ্জের রিপন মিয়ার ছেলে অপূর্ব মিয়া, ঢাকার আব্দুল মাজিদের ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাজি আব্দুল মান্নানের ছেলে ইসহাক, সাতক্ষীরার খলিল গাজীর ছেলে হুমায়ন কবির, ঢাকার দানেশ আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম, গাজীপুরের আব্দুর রশিদের ছেলে আবুল হোসেন, মানিকগঞ্জের আবুল কাশেমের ছেলে শরিফুল ইসলাম, নোয়াখালীর আব্দুল মোতালেবের ছেলে আব্দুল কাদের, আলাউদ্দীনের ছেলে আব্দুল আজিজ, সাহেব উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রহিম, অমল চন্দ্র দাসের ছেলে রুপম চন্দ্র দাস, সাতক্ষীরার রেজাউল ইসলামের ছেলে তানভির হাসান, নজরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেনের ছেলে পলাশ হোসেন, নুর মোহাম্মদ শেখের ছেলে জাকারিয়া, ইউনুছের ছেলে আবু সাঈদ, ফেনীর মোরশেদ আলমের ছেলে আব্দুল করিম ও নরসিংদীর বাতেন মিয়ার ছেলে ফাহিম মিয়া।
বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল মিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশি ২০টি পাসপোর্টসহ এক ভারতীয় ট্রাকচালককে বেনাপোল কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালের গেটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা আটক করেন। শুক্রবার দুপুরের পর ওই ট্রাকচালক ও জব্দ করা পাসপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। এদিন বিকেলে তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই ট্রাকচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি- ভারতীয় আদম ব্যাপারীরা ওই দেশে অবস্থিত সাইবেরিয়া হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টগুলোতে ভিসা লাগিয়েছে। ভারতীয় এক আদম ব্যাপারী তার কাছে পাসপোর্টগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য দেন। ট্রাকচালক বাহক হিসেবে কাজ করছিলেন।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই পাসপোর্টধারীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এসব পাসপোর্টধারী কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী বা অন্য কোনো অপরাধী চক্রের সদস্য কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওইসব জেলায় গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরতদের কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছে।