ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
স্বপ্নের রাজপুত্র ইয়ামাল শান্তি সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নে অবদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল আইপিডিসি সজীবতার গান গেয়ে এল বর্ষা বন্ধ চিনিকল চালুর উদ্যােগ ১৫ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সোনারগাঁওয়ে মামলার পর আতঙ্কে ঘরছাড়া ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ১৫ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে জাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার চীনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ওয়েবসাইট চালু তাইওয়ানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আতঙ্কে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিরা বাজেট প্রস্তাবের পর শেয়ারবাজারে উত্থান চমৎকার জয়ফুল মথ টাকা সাদা করার সুবিধা আছে, না নেই! সেনাসংকটে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে চাপে পুতিন নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানির অনুমোদন দেয়নি ভারত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব নিয়োগ হয়নি তিন মাসেও ট্রিলিয়নিয়ার হলেও ইলন মাস্ক থাকেন ৪০০ ফুটের ছোট্ট বাড়িতে সোনালি দিনের খোঁজে স্পেন একসময়ের দাতা এখন গ্রহীতা নীল হাঙরের নাবিক রায়ান মেন্দেস লা রোজার সামনে রূপকথার নায়ক! ১৫ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি পেছনে যুদ্ধ, সামনে বিশ্বকাপ মরুর সাহস, উরুগুয়ের ইতিহাস দুর্দান্ত বেলজিয়ামের সামনে সালাহর মিসর নেদারল্যান্ডসকে জিততে দিল না জাপান প্রথম ম্যাচে যে রেকর্ড ডাকছে মেসিকে
Nagad desktop

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে শেখ মুজিবের ছবি মুছে দিলো আহত জুলাই যোদ্ধারা

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৫:৩১ পিএম
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ থেকে শেখ মুজিবের ছবি মুছে দিলো আহত জুলাই যোদ্ধারা
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘অর্জন’ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে দিয়েছে আহত জুলাই যোদ্ধারা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রংপুর সিটি করপোরেশনের বিম লিফটারে উঠে জুলাই যোদ্ধারা স্মৃতিস্তম্ভের শীর্ষে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্প্রে ক্যান ও কালো রং দিয়ে মুছে দেয়।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় জুলাই যোদ্ধারা সিটি করপোরেশনের বিম লিফটার মডার্নে নিয়ে আসে। কয়েকবার চেস্টা করে বিম লিফটাররা ছোট হওয়ায় তারা মুছতে পারছিলেন না। পরে কাঠের মাথায় কাপড় পেচিয়ে তাতে রং ও স্প্রে মেখে শেখ মুজিবের ছবিটি জুলাই বিপ্লবে আহত রাকিবুল ইসলাম মেরাজ ও পৃন্স আহমেদ পলাশ মুছে দেয়। ৩৫ ফিট উচ্চতার এই স্তম্ভের অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো রেখে দেয় তারা।

সেখানে উপস্থিত জুলাই বিপ্লবে আহত রংপুর আরসিসিআই স্কুলে এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী  সিয়াম আহসান আয়ান জানান, আমরা রংপুরবাসী মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী, কিন্তু মুজিববাদে বিশ্বাসী নই। আমরা দেখলাম গোপালগঞ্জে এনসিপি রাজৈনৈতিক কার্যকলাপ করার চেস্টা করেছে। কিন্তু তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা করে হত্যা চেস্টা করেছে তারাই যারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গি মুজিববাদে বিশ্বাসীরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে যতটুকু অবদান ছিল তার প্রতি সিমপেথি দেখিয়ে এতদিন আমরা এই স্মৃতিস্তম্ভে তার ছবিটি রেখেছিলাম। কিন্তু যখন অ্যাটাকটা হয়ে গেল আমরা রংপুর থেকে এটা স্পস্ট করে দিতে চাচ্ছি, রংপুর মুজিববাদে বিশ্বাসী নয়, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী। রংপুরে মুজিববাদ ও তাদের সন্ত্রাসবাদের কোনো ঠাই হবে না।

আহত অপর জুলাইযোদ্ধা রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহদি হাসান অনিক জানান, ‘আমাদের রংপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলোর মধ্যে ‘অর্জন’ অন্যতম। এটা ৭১ কে প্রেজেন্ট করে। আমরা এটা ভাঙলাম না। কিন্তু এখান থেকে স্বৈরাচারের বাবার যে চিহ্নটা ছিল, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিটা, এখান থেকে মুছে দিলাম। আমরা শেখ মুজিবের ছবির জায়গাটাতে বাংলাদেশের পতাকা অথবা ৭১ এর যারা বীর ছিল তাদের প্রতিকৃতি এখানে আঁকব।

আহত জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হোসেন জানান, মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের যে ছবিগুলো ছিল রংপুরে আগেই সেগুলো ক্লিয়ার করেছি। শুধু এটা বাকি ছিল। আজ আমরা এটা ক্লিয়ার করলাম।

অপর আহত জুলাই যোদ্ধা রাকিবুল ইসলাম মেরাজ জানান, নতুনভাবে দেশ স্বাধীনের পরে স্বৈরাচার সরকারের প্রতীক বিভিন্ন জায়গা থেকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু মডার্ন মোড়ের ‘অর্জন’ এ দেওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে দেওয়ার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপিকে বলেছিলাম। কিন্তু তারা উদ্যোগ নেয় নি। তাই আমরা আহত জুলাইযোদ্ধারা ছবিটি মুছে দিলাম।

অপর আহত জুলাই যোদ্ধা রবার্টসন্সগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুছা আহমেদ জানান, আমার সিটি করপোরেশন থেকে বার বার যোগাযোগ করে বিম লিফটারটি আনলাম। তারা বলেছিল সেটা ৪০ ফিট। কিন্তু এসে দেখলাম স্তম্ভটি ৩৫ ফিট হলেও বিম লিফটারটির উচ্চতা কম হওয়ায় আমরা ভিন্নভাবে চেস্টা করে মুছে দিলাম। এতে আমরা হয়রানির শিকার হয়েছি। এখন মুছে দেওয়া স্থানে মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই বিপ্লব কিংবা বাংলাদেশের পতাকা সংযোজন করা হবে।’

মুছে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছাত্র-জনতা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ বলে ম্লোগান দেয়। 

সেলিম সরকার/মাহফুজ

 

বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
বগুড়ায় মলম ট্যাবলেটে সীমাবদ্ধ সেবা
বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। ছবি: খবরের কাগজ

বগুড়ার সান্তাহারে ৪ লাখ মানুষের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এলাকার মানুষ এখনো পুরোপরি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। ১০ শয্যা করে নারী ও পুরুষের জন্য দুটি ওয়ার্ড ও অপারেশনের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার কথা থাকলেও এখানে এখন শুধু বহির্বিভাগে দিনে ৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর সেখানে রোগীদের দেওয়া হয় শুধু মলম আর ব্যথানাশক ট্যাবলেট। তবে চিকিৎসার এই বেহাল পরিস্থিতির মাঝেও একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার একজন কর্মী এখানে নিয়মিত যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছেন।

আদমদিঘী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি জানান, হাসপাতাটিতে ২৩টি পদ থাকলেও জনবল আছেন মাত্র ১৩ জন। এখনো ইনডোর বা ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়নি। তিনি বলেন, ‘২০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আরও ২০টি পদ সৃষ্টির জন্য কয়েক মাস আগে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য ১০টি পদ ফাঁকা থাকার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ হাসপাতালের জন্য পাঠানো যন্ত্রপাতি বগুড়ায় মোহাম্মদ আলীতে রাখা হয়েছে।’

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি ওয়ার্ড ও অপারেশন ইউনিট তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। একটি কক্ষে বসেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোছা. ফরিদা খাতুন। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে এখানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রোগীর যক্ষ্মা হয়েছে কি না পরীক্ষার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় পরবর্তী চিকিৎসার জন্য।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘বহু বছর আগে উদ্বোধন হলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় আদমদিঘীসহ আশপাশের উপজেলার রোগীদের সাধারণ চিকিৎসার জন্যও বগুড়া, নওগাঁ ও রাজশাহীতে যেতে হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা বলতে রোগীরা যা পান তা হলো ২-৩টি ব্যথানাশক ট্যাবলেট আর মলম। আর সেটি পেতে হাসপাতালে আসতে হয় দুপুরের আগেই, কারণ দুপুরের পর আউটডোর বন্ধ হয়ে যায়।’ 

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে রাব্বি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারিভাবে পাওয়া সব ধরনের ওষুধ বহির্বিভাগ থেকে দেওয়া হয়।’

স্থানীয় একটি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল জোব্বার বলেন, ‘হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হলে বগুড়া ও নওগাঁ জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসা খরচ কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হবে।’ তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনের পর স্থানীয়ভাবে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আশা করছি, এবার এ হাসপাতালটি চালু হবে। কারণ এ হাসপাতালটি নির্মাণ হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়।’

হাসপাতালটিতে গিয়ে আরও দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি কোয়ার্টারগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। হাসপাতালের বারান্দায় জমেছে বালুর পুরু স্তর। অপারেশন ইউনিটের যন্ত্রপাতি এখনো লাগানো হয়নি। পুরো হাসপাতাল চত্বর জঙ্গলে ভরে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছোটখাটো অপারেশনের জন্যও তাদের জেলা সদরে যেতে হয়। জটিল কোনো রোগের চিকিৎসা বা পরামর্শ পাওয়ার কোনো সুযোগ এখানে নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই হাসপাতালে ডাক্তার আছেন মাত্র তিনজন। চাহিদামতো কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। রোগী না থাকায় নার্সদেরও দেখা মেলে না। ইনডোর সুবিধা না থাকায় ভেতরের দুটি ওয়ার্ডের তালা কত বছর ধরে খোলা হয় না, তা হাসপাতালসংশ্লিষ্ট কেউই জানেন না।

চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
চট্টগ্রামে মা-মেয়েকে হত্যা, নেপথ্যে অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অটোরিকশার চুক্তিপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড চেনামতি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। নিহত প্রিয়ন্তী মাহাতা পাঠনিকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

জানা গেছে, বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া ধারালো ছুরি হাতে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে সে প্রিয়ন্তীর ওপর চড়াও হয় এবং তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। মেয়ের চিৎকার শুনে মা এ্যানি বড়ুয়া বাঁচাতে এলে তেজপ্রিয় তাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এরপর মায়ের কোলে থাকা পাঁচ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়াসকেও আছাড় দিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় সে। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসতে থাকলে অভিযুক্ত যুবক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

নিহত এ্যানি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া বিদেশ থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসে। তার কোনো চাকরি বা আয়ের উৎস না থাকায় আত্মীয়তার খাতিরে তাকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনে দেই। টাকা পরিশোধের ব্যাপারে তেজপ্রিয় মাঝেমধ্যে কিছু টাকা দিত, আবার কখনো দিত না। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কখনো কোনো বড় ঝগড়াবিবাদ হয়নি। তবে রিকশা কেনার সময় আমাদের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তিপত্র বা স্ট্যাম্প করা হয়েছিল। আমার ধারণা, ওই লিখিত কাগজটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিতেই সে রাতে আমাদের ঘরে ঢুকেছিল। আমার স্ত্রী-সন্তানরা বাধা দেওয়ায় তাদের এভাবে নৃশংসভাবে খুন করা হলো। আমার গোছানো সোনার সংসারটা নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। আমি এই ঘাতকের ফাঁসি চাই।

এদিকে রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসপি মাসুদ আলম বলেন, নিহতের পরিবারের তথ্য ও আমাদের প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হত্যাকাণ্ডের সাথে তেজপ্রিয় বড়ুয়া নামের ওই যুবক সরাসরি জড়িত। সে ভুক্তভোগী পরিবারের খুবই কাছের পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তেজপ্রিয় এর সাথে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকার একটি লেনদেন ছিল ভুক্তভোগী পরিবারের। মাসিক কিস্তির মাধ্যমে এসব টাকা পরিশোধের কথাও রয়েছে। এসব নিয়ে প্রথমে মেয়েকে এবং পরে মাকে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে হত্যা করে। সে বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের একাধিক টিম ও ডিবি ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নিহত মা ও মেয়ের লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এই ঘটনায় আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এসএন/

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টে গ্রেপ্তারের কথা শুনে চোখ খুলছেন না শিবির নেতা জিসান
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধান বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন। কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও তার ওই নারীর ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ভাষ্য, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে যে জিসান পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু তিনি নিজেকে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে আছেন। এ কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। আত্মগোপনে থাকা শুক্রবার রাতে কুমিল্লা লাকসাম থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই নারীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুরুতে হাসপাতালে এসে জিসান পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই শুনেছেন, তাকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকে তিনি চোখ খুলছেন না।

এদিকে ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান।

তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে। বাকি তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ, নিউরো মেডিসিন বিভাগ ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের।

এই কর্মকর্তা জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জিসান মিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত জানাবেন। তিনি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার অভিনয় করলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর অসুস্থ হলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধারের দাবি করে পরিবার। পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরদিন কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে এক নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় করা মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে চারজনকে। মামলায় ওই নারীকে একাধিকার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।

জিসান ছাড়াও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি হলেন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তাদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। তারা ছাত্রশিবিরের নেতা জিসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শনিবার বিকেলে তাদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার দেখানো হলেও জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, শুক্রবার রাতে যখন লাকসাম থেকে জিসান মিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই খবর পেয়েছেন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকেই তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখাচ্ছেন। বর্তমানে অবস্থাটা এমন হয়েছে যে জিসান চোখই খুলছেন না।’ ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে জিসান অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে তার দাবি।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। অনুসন্ধানকালে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে শুক্রবার রাতে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

জহির শান্ত/এসএন 

গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
গাংনীতে কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭
গাংনী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অবস্থান করছেন আহত রোগীরা। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা থেকে গাংনী বড়বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, গাংনী মহিলা কলেজপাড়ার আব্দুল হালিমের ছেলে নুহু হোসেন (৯), উত্তরপাড়ার কারী মোহাম্মদ আবু ইউসুফের ছেলে মাহাবুব হোসেন (১১), মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া সুলতানা (১৬), চৌগাছা এলাকার আব্দুল মান্নান (৭০), বাজারপাড়ার রাশেদুল হকের মেয়ে ফারিয়া খাতুন (১২), মুকুল হোসেন (৪৫), হাবিবুর রহমান (২২), হাফিজুর রহমান (৬০), ধানখোলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৫৫) এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদি গ্রামের কাদের আলী (৫৬)। এ ছাড়া আরও সাতজন আহত ব্যক্তি মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে গাংনী বড়বাজারের কসাইখানা এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর প্রথমে কয়েকজন পথচারীকে কামড়ে দেয়। তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসা স্থানীয় লোকজনও কুকুরটির আক্রমণের শিকার হন। এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাংনী বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে চলেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামিয়া সুলতানা জানান, দুপুরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কুকুরে কামড়ানো রোগীরা হাসপাতালে আসতে থাকেন। গুরুতর আহতদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সবাইকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তারেক/নাঈম

পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
পাবনায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, অভিযুক্তের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর-আতাইকুলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ও শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টার দিকে আরিয়াডাঙ্গী উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরছিল। পথে স্থানীয় খড় ব্যবসায়ী কাশেম শেখ নামে এক ব্যক্তি তার পথরোধ করে এবং তার হাত ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ ঘটনার পরদিন শুক্রবার শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কাশেম শেখকে অভিযুক্ত করে আতাইকুলা থানায় একটি মামলা করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তিন দিন পার হলেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় রবিবার দুপুরে আরিয়াডাঙ্গী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। তারা কাশেম শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধন শেষ হতেই উপস্থিত উত্তেজিত জনতা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযুক্ত কাশেম শেখের খড়ের দোকানে আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করার পর একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান আরও বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্লীলতাহানির ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত কাশেম শেখকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

জুয়েল/রিফাত/