রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘অর্জন’ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে দিয়েছে আহত জুলাই যোদ্ধারা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত রংপুর সিটি করপোরেশনের বিম লিফটারে উঠে জুলাই যোদ্ধারা স্মৃতিস্তম্ভের শীর্ষে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্প্রে ক্যান ও কালো রং দিয়ে মুছে দেয়।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় জুলাই যোদ্ধারা সিটি করপোরেশনের বিম লিফটার মডার্নে নিয়ে আসে। কয়েকবার চেস্টা করে বিম লিফটাররা ছোট হওয়ায় তারা মুছতে পারছিলেন না। পরে কাঠের মাথায় কাপড় পেচিয়ে তাতে রং ও স্প্রে মেখে শেখ মুজিবের ছবিটি জুলাই বিপ্লবে আহত রাকিবুল ইসলাম মেরাজ ও পৃন্স আহমেদ পলাশ মুছে দেয়। ৩৫ ফিট উচ্চতার এই স্তম্ভের অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো রেখে দেয় তারা।
সেখানে উপস্থিত জুলাই বিপ্লবে আহত রংপুর আরসিসিআই স্কুলে এন্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সিয়াম আহসান আয়ান জানান, আমরা রংপুরবাসী মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী, কিন্তু মুজিববাদে বিশ্বাসী নই। আমরা দেখলাম গোপালগঞ্জে এনসিপি রাজৈনৈতিক কার্যকলাপ করার চেস্টা করেছে। কিন্তু তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা করে হত্যা চেস্টা করেছে তারাই যারা সন্ত্রাসী ও জঙ্গি মুজিববাদে বিশ্বাসীরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে যতটুকু অবদান ছিল তার প্রতি সিমপেথি দেখিয়ে এতদিন আমরা এই স্মৃতিস্তম্ভে তার ছবিটি রেখেছিলাম। কিন্তু যখন অ্যাটাকটা হয়ে গেল আমরা রংপুর থেকে এটা স্পস্ট করে দিতে চাচ্ছি, রংপুর মুজিববাদে বিশ্বাসী নয়, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী। রংপুরে মুজিববাদ ও তাদের সন্ত্রাসবাদের কোনো ঠাই হবে না।
আহত অপর জুলাইযোদ্ধা রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহদি হাসান অনিক জানান, ‘আমাদের রংপুরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলোর মধ্যে ‘অর্জন’ অন্যতম। এটা ৭১ কে প্রেজেন্ট করে। আমরা এটা ভাঙলাম না। কিন্তু এখান থেকে স্বৈরাচারের বাবার যে চিহ্নটা ছিল, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিটা, এখান থেকে মুছে দিলাম। আমরা শেখ মুজিবের ছবির জায়গাটাতে বাংলাদেশের পতাকা অথবা ৭১ এর যারা বীর ছিল তাদের প্রতিকৃতি এখানে আঁকব।
আহত জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হোসেন জানান, মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদের যে ছবিগুলো ছিল রংপুরে আগেই সেগুলো ক্লিয়ার করেছি। শুধু এটা বাকি ছিল। আজ আমরা এটা ক্লিয়ার করলাম।
অপর আহত জুলাই যোদ্ধা রাকিবুল ইসলাম মেরাজ জানান, নতুনভাবে দেশ স্বাধীনের পরে স্বৈরাচার সরকারের প্রতীক বিভিন্ন জায়গা থেকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু মডার্ন মোড়ের ‘অর্জন’ এ দেওয়া শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি মুছে দেওয়ার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপিকে বলেছিলাম। কিন্তু তারা উদ্যোগ নেয় নি। তাই আমরা আহত জুলাইযোদ্ধারা ছবিটি মুছে দিলাম।
অপর আহত জুলাই যোদ্ধা রবার্টসন্সগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুছা আহমেদ জানান, আমার সিটি করপোরেশন থেকে বার বার যোগাযোগ করে বিম লিফটারটি আনলাম। তারা বলেছিল সেটা ৪০ ফিট। কিন্তু এসে দেখলাম স্তম্ভটি ৩৫ ফিট হলেও বিম লিফটারটির উচ্চতা কম হওয়ায় আমরা ভিন্নভাবে চেস্টা করে মুছে দিলাম। এতে আমরা হয়রানির শিকার হয়েছি। এখন মুছে দেওয়া স্থানে মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই বিপ্লব কিংবা বাংলাদেশের পতাকা সংযোজন করা হবে।’
মুছে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছাত্র-জনতা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ বলে ম্লোগান দেয়।
সেলিম সরকার/মাহফুজ