দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলজট তৈরি হয়েছে। গত রবিবার রাত থেকে শুরু হয়ে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে নগরের কোথাও হাঁটুসমান কোথাও আবার কোমরসমান পানি জমেছে। নিচু এলাকার অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানে ময়লা পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া নগরজুড়ে গণপরিবহনের চলাচল ছিল কম। সবমিলিয়ে নগরবাসীতে এ দুই দিন সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে নগরের আগ্রাবাদ, মেহেদীবাগ, চকবাজার, বাকলিয়া, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, পাঁচলাইশ, প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কোমরসমান পানি দেখা গেছে। এসব সড়কে যান চলাচল ছিল একেবারে কম। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অফিসগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।
নগরের ওয়াসা এলাকার বাসিন্দা আবদুল আলীম। মেয়েকে স্কুল আনতে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে বের হয়েছিলেন। প্রতিদিনের মতো সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা নেন। কিন্তু সোমবার তাকে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অটোরিকশায় উঠতেই চালক দ্বিগুণ ভাড়া চাইলেন। বাসায় তো ফিরতে হবে। বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছি।’
২ নম্বর গেট এলাকায় কথা হয় শিক্ষার্থী মো. রাব্বির সঙ্গে। সে বলে, ‘বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে দেখি হাঁটুসমান পানি। ছাতা নিয়েও লাভ হয়নি। ভিজে গেছি। ভেজা কাপড়েই স্কুলে যেতে হচ্ছে।’
বিকেলের দিকে জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেটসহ বিভিন্ন উঁচু এলাকার সড়কের পানি সরে গেলেও নিচু এলাকায় পানি তখনো নামেনি। বিশেষ করে উত্তর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর, মোহরা কাপাসগোলা, চকবাজার এলাকায় তখনো পানি আটকে থাকে। এ কারণে সেখানকার বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি প্রবেশ করে। স্থানীয়রা তখন মোটর বা অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে পানি কমানোর চেষ্টা করেন।
উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা জানে আলম বলেন, ‘রবিবার সারা রাত ঘুমাইনি। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকেছে। বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির পরিমাণও বাড়ছিল। বালতি দিয়ে পানি বাইরে ফেলে ঘরের জিনিসপত্র কোনোরকম রক্ষা করেছি। সোমবারও সারা দিন ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এখনো পানি কমানোর চেষ্টা করছি।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকার খাল-নালা পরিষ্কার রয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই কারণে কিছু এলাকায় পানি উঠেছে।
এদিকে অতিবর্ষণের কারণে পাহাধসের আশঙ্কা থাকায় বাটালি হিল এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাসাবাড়ি থেকে লোকজনকে সরে যেতে অনুরোধ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (আগের ২৪ ঘণ্টায়) ৫৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসবে। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।