বর্ষাকালে কখনো গুঁড়িগুঁড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এমন খারাপ আবহাওয়ায় বাজারে ক্রেতারা কম আসছেন। বিক্রিও আগের তুলনায় কম হচ্ছে। তারপরও সবজির দাম কমছে না। তিন দিনের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। করলা, বরবটি, কচুর লতিসহ অধিকাংশ সবজি আবার সেঞ্চুরি ছুঁয়ে গেছে। চালের দামও কমেনি। গরিবের প্রিয় পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প মাছের কেজি ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। তবে মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি-বাদলে সব ভেসে গেছে। এ জন্য সবজি, মাছের দাম বাড়তি।
সোমবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
চড়েছে সবজির দাম
বিভিন্ন বাজারে সবজিও বেশি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আগে থেকে বেগুন, টমেটো ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। গতকাল ৬০ থেকে ৮০ টাকার করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ টাকার কচুরমুখী, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা হয়ে গেছে। ৫০ থেকে ৬০ টাকার ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পটোল, ঝিঙে, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ১২০, কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হয়। পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকা; পাট, লালশাকও ২০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। তবে আগের মতোই পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
হাতিরপুল বাজারের কাজল মিয়া, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের জাকির হোসেনসহ অন্য সবজি বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্ষাকালে অধিকাংশ এলাকা ডুবে গেছে। এর ফলে সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য সবজির দাম বাড়তি।’
বাড়তি দরে চাল বিক্রি
চালের দাম বেড়ে গেলে সরকার চাল কেনার ঘোষণা দেয়। তারপরও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। গতকালও আগের মতোই খুচরা পর্যায়ে মনজুর, রশিদ, সাগরসহ অন্য কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির চালের দাম আরও বেশি ৮২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটাশ চালও ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডালের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। ১৫০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। তবে আমদানি করা এই ডাল আগের মতো ১১০ টাকায়, চিনি ১১০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির দর কমলেও কমেনি মাছের দাম
তিন দিন আগে বিভিন্ন বাজারে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হয়। তবে গতকাল ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ৩১০ থেতে ৩৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার ব্রয়লার মুরগি কমে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সোনালি চিকেন হাউসের মো. শাকিলসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ‘মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। এ জন্য আগের চেয়ে কম দরে বিক্রি করা হচ্ছে।’ তবে দেশি মুরগি আগের মতো ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি এবং ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি করতে দেখা যায়।
বর্ষা মৌসুমে ঘন ঘন বৃষ্টি হলেও বাজারে নদীর মাছের দাম কমছে না। কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ির কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা । বেলে মাছের কেজিও ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে আকারভেদে চাষের রুই ও কাতলা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০ এবং কাচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প মাছ ৩০০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। ইলিশও অনেক চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম একেবারে নাগালের বাইরে চলে গেছে। গতকালও ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় কেজি বিক্রি করতে দেখা যায়। ছোট বা ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দামও দেড় থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।