চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় দুই বাংলাদেশিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। শনিবার (২ আগস্ট) উপজেলার নিশিপাড়া ও বিশরশিয়ার পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোদাগাড়ী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি তৌহিদুল ইসলাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু।
নিহতরা হলেন শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর-হঠাৎপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সেরাজুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও একই এলাকার গোলাম মর্তুজার ছেলে সেলিম রেজা (৩৭)। তারা দুজনই পেশায় জেলে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে শিবগঞ্জের মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন শফিকুল ও সেলিম। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে নিশিপাড়া এলাকায় শফিকুলের এবং বিশরশিয়া এলাকা থেকে সেলিম রেজার লাশ উদ্ধার করে বিজিবি-পুলিশ। তবে তারা মাছ ধরতে না কি গরু চোরাচালানির কাজে ভারতে গিয়েছিলেন তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
উদ্ধার করা অপর ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ। ছবি: খবরের কাগজ
শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় পদ্মা নদীতে দুজনের লাশ ভাসতে দেখে বিজিবি আমাদের খবর দেয়। এরপরই পুলিশ পাঠানো হয়। দুটিই অর্ধগলিত লাশ। যার কারণে আঘাতের চিহ্ন বোঝা যাচ্ছে না।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বলেন, ‘মাসুদপুর বিওপির সীমান্ত পিলার ৪/২-এস থেকে আনুমানিক ২.৫ কিমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পদ্মা নদীতে দুজনের লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। ওই দুজনকে বিএসএফ হত্যা করেছে কি না, আমরা নিশ্চিত নই। তবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ভারতের ৭১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা অস্বীকার করেছে।’
আসাদুল্লাহ গালিব/মাহফুজ