দিনাজপুরে গাঁজা সেবনের অভিযোগে হাতেনাতে আটক বিএডিসির কর্মকর্তা ড. মো. মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন। তিনি কি সত্যিই অপরাধী, না কি একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার?
২৫ জুলাই (শুক্রবার) দুপুরে সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের আমইড় গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমানের বাড়ি থেকে মোজাফফর হোসেনকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি গাঁজা সেবনের সময় ধরা পড়েন এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয় (মামলা নং ৪০)। এর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় খবরের কাগজ- এ 'গাঁজা সেবনের সময় হাতেনাতে আটক বিএডিসির কর্মকর্তা মোজাফফর' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
তবে অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। বিএডিসির অনুমোদিত অফিসিয়াল সফরে থাকাকালে তিনি আম-লিচু ও অন্যান্য ফলদ বাগান পরিদর্শনে ওই এলাকায় যান। সেখানে সাইদুরের সঙ্গে তার পূর্বের একটি লিচু বাগান চুক্তি সংক্রান্ত দলিল ও কাগজপত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে সাইদুরের বাড়িতে যান। এ সময় সাইদুর না থাকায় তিনি তার নাতির সঙ্গে কথা বলছিলেন।
এই মুহূর্তেই ঘটে ঘটনা। পূর্বে জমি নিয়ে বিরোধে জড়ানো সাইদুর ও রাজ্জাক পক্ষের বিবাদ থেকে ঘটনাটি সৃষ্টি হয়। রাজ্জাকের পক্ষ থেকে পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ সেখানে পৌঁছে মোজাফফর হোসেনকে সাইদুর ভেবে জোরপূর্বক আটক করে। পরিচয় জানার পরও তাকে “মাদক সেবনকারী” হিসেবে মামলা দিয়ে হাজতে পাঠানো হয়।
বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আগে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন- যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি। এতে আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি একজন সিনিয়র কর্মকর্তার মর্যাদাও চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এ ছাড়াও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বলা হয় তিনি ছাত্রলীগ করতেন, অথচ বাস্তবে তিনি ছিলেন ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী এবং জুলাই আন্দোলনেরও একজন অংশীদার।
স্থানীয়ভাবে একটি চক্র ও তথাকথিত সমন্বয়করা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাকে ফাঁসাতে ভূমিকা রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের চাপ, প্ররোচনা এবং থানা ঘেরাওয়ের ফলে পুলিশের তরফে তড়িঘড়ি করে মামলা করা হয়, যা আইন ও ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, পুলিশ একটি ভিন্ন মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের বাড়িতে গিয়েছিল। তবে সাইদুল সে সময় বাড়িতে না থাকায় সেখানে অবস্থানরত আগন্তুক মোজাফফর হোসেনকে সাইদুল ভেবে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে পুলিশ বাদী হয়ে মোজাফফরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
সুলতান/মেহেদী/