চট্টগ্রামের পটিয়ায় মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহৃত তিন শ্রমিককে ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে কাজে যাওয়ার সময় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা অপহরণ করে। পরে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। তবে পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
অপহৃতরা হলেন কেলিশহর ইউনিয়নের মফজল আহমদের ছেলে মো. নাছের, একই এলাকার দুলাল শীলের ছেলে পলাশ শীল ও মৃত সুশীল শীলের ছেলে রাজু শীল। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ ‘টাকা দাও, না হলে জীবন যাবে’ লিখে বার্তা পাঠায়। স্থানীয়রা জানান, পলাশ ও রাজুর পরিবার ১ লাখ ২০ হাজার এবং নাছেরের পরিবার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠায়। মুক্তিপণের টাকা পেয়ে শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পলাশ শীলের ভাই বিপ্লব শীল বলেন, ‘আমার ভাই ও অন্যদের মারধর করা হয়েছে। ফোনে হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে।’
পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সৈয়দ চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে পাহাড়ি এলাকায় কিছু সন্ত্রাসীদের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। তারা বিভিন্ন মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।’
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ পেলেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া হবে, পুলিশের এ বক্তব্যের বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আহমদ কবীর করিম বলেন, আইনি সহায়তা না নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের ভয় দেখানো হয়েছে। তাদের প্রাণনাশের হুমকি আছে। হয়তো এ জন্য ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে যাননি। এ ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশ চাইলে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইন প্রয়োগ করতে পারে। সন্ত্রাসী দমনের জন্য পুলিশ যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে।