ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রুয়েটে আবাসিক হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ৪ শিক্ষার্থী আটক গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু দক্ষতার সঙ্গে টিম পরিচালনার কিছু পরামর্শ তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতল রাব্বানীর ‌‌'সাঁতার' সাইবার সুরক্ষায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৩ বাড়ি ভাঙচুর পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলায় নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন ডামুড্যায় শিক্ষকের ওপর হামলা: ‘ভিডিও করতে গিয়ে’ আসামি গণমাধ্যমকর্মী লোহাগাড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ৪ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও মদসহ ২ মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা
Nagad desktop

কাঁঠালিয়ায় ৩ পরিবারের চরম অমানবিক জীবনযাপন

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০১:২১ পিএম
আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৪:০৪ পিএম
কাঁঠালিয়ায় ৩ পরিবারের চরম অমানবিক জীবনযাপন
কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ শৌলজালিয়া গ্রামে ৩টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা না থাকায় ঝুপড়ি ঘরেই অমানবিক জীবনযাপন। ছবি: খবরের কাগজ

বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ না থাকায় চরম ভোগান্তি এবং অমানবিক জীবনযাপন করছেন কাঁঠালিয়ার শ্রমজীবী মো. শের আলীর পরিবারসহ তিনটি পরিবার।

২০১৮ সালের বর্ষা মৌসূমে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রমজীবী মো. শের আলীর স্ত্রী জোছনা বেগম। মুঠোফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রোগের ধরন অনুযায়ী তিনি সকাল ৬টার মধ্যে রোগী নিয়ে দেখা করতে বলেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ না থাকায় প্রতিবেশিরা কেউ এগিয়ে আসেনি সাহায্য করতে। পরিবারের লোকজন নিয়ে অনেক কষ্ট করে হাতে হাতে ধরে বের হতে সকাল ৯টা পেরিয়ে যায়। একটি ভ্যানে করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জোছনা বেগম তখন ৩বছরের ছেলে ও ৫বছর বয়সী মেয়েকে রেখে যান। ছেলে মো. ইয়াছিন (১১) হাফেজি মাদ্রাসায় পড়ে এবং মেয়ে লামিয়া আক্তার এবার এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে। শের আলীর বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলী কাঁচা মালের ব্যবসা করেন। ভ্যানগাড়িতে করে বাজারে বাজারে ঘুরে শাক-সবজি বিক্রি করেন তিনি। তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক।

পারিবারিক অভাব-অনটনের মধ্যেও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন সন্তানদের। ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে মেয়ে আসমা আক্তারকে বিয়ে দিয়েছেন। ওই বাসা থেকেই বরপক্ষ মেয়েকে নিয়ে যান। বাড়িতে যাতায়াতের পথ না থাকায় দীর্ঘ ৫বছরেও জামাইসহ মেয়ের বাড়ির লোকজনকে বেড়াতে (নাইওর) আনতে পারেননি বাড়িতে ঢোকার পথ না থাকায়। 

ছেলে আসলাম হোসেন রাসেল বিএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে, কিন্তু তার কোন সহপাঠি বা বন্ধুকেও বাড়িতে আনতে পারছেন না। 

ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি ২০০৩ সালে বিয়ে করেছেন যশোরের রুকসানা আক্তারকে। তাদের সংসারে ২ মেয়ে- বড় মেয়ে রেজওয়ানা আফরিন উর্মী অনার্সের ছাত্রী এবং ছোট মেয়ের বয়স দুই বছর। মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলেও বাড়ি যাতায়াতের পথ না থাকায় কোনো প্রস্তাব আসছে না, মেয়ে দেখতেও আসছেন না। যাতায়াতের পথ না থাকায় এভাবেই তিনটি পরিবার যুগের পর যুগ ধরে চরম অমানবিক জীবনযাপন করছেন। 

ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ শৌলজালিয়া গ্রামে বিরল এ অমানবিক জীবনযাপন, যা দেখলে যে কারোরই মন কুকড়ে উঠবে। প্রশ্ন তুলবে কীভাবে এমন জীবনযাপন করা সম্ভব? 

শের আলী বলেন, 'পূর্বপুরুষ থেকেই আমাদের যাতায়াতের কোন পথ নাই। আমাদের সীমাহীন কষ্টে চলাফেরা করতে হচ্ছে। তবুও জীবন চলছে অন্যের জায়গা দিয়ে হাঁটা, অন্য বাড়ি থেকে পান করার পানি সংগ্রহ করা। এজন্য অনেক সময় ভিন্ন ধরনের কথা শুনতে হয় প্রতিবেশীর।

অশ্রুভরা চোখে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বর্ষার মৌসূমে মধ্যরাতে হঠাৎ আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি অসুস্থতার ধরন শুনে সকাল ৬টার মধ্যে তার কাছে যেতে বলেন। কিন্তু অতো সকালে তাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়ি থেকে বের হবার পথ নেই। একজন সুস্থ্য মানুষেরই বের হতে অনেক কষ্ট হয়, তারপর অসুস্থ্য মানুষ নিয়ে কিভাবে বের হব? তবুও নিকটাত্মীয়দের সহযোগিতায় হাতে হাতে ধরে তাকে নিয়ে হাসপাতালে ৯টা বেজে যায়। ততক্ষণে সে দুনিয়া ছেড়ে চির বিদায় নেয়। 

তখন ৩বছর বয়সী দুধের ছেলে ও ৫বছর বয়সী মেয়েকে রেখে যায়। বর্ষায় বাড়িতে ঢুকার পথ না থাকায় আমার স্ত্রীর জানাজা পড়তেও তেমন লোকজন আসতে পারেনি। ছেলেটি হাফিজি মাদ্রাসায় পড়ে এবং মেয়েটি এ বছর এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে। মেয়ের বিয়ে দেয়া নিয়ে বড়ই দুশ্চিন্তায় আছি। আমাদের পথ ঘাট নেই, মেয়েকে কেউ বিয়ে করতেও আসবে না। 

বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলীর স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৫৮) বলেন, আমার স্বামী কাচামালের (শাক-সবজি) ব্যবসা করেন। আমাদের বিয়ের সময় তখন তার বাজারে আড়ত ছিল। বাবার বাড়ির লোকজন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথা বলে বিয়ে চুড়ান্ত করেছেন। তাদের সিদ্ধান্তেই আমাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু বিয়ের বয়স ৪৫বছর হলেও আমার বাবার বাড়ি থেকে এখন পর্যন্ত কেউ বেড়াতে আসেনি। ছেলে-মেয়ে দুটোকে পড়াশুনা করিয়ে উচ্চশিক্ষিত করেছি। মেয়েটাকে ঢাকায় ওর মামার বাসায় নিয়ে বিয়ে দিয়েছি। তখনই তারা নিয়ে গেছে। ৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। বাড়িতে ঢোকার পথ না থাকায় জামাইসহ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো মেহমান আজ পর্যন্ত বেড়াতে আসেনি। ছেলেটাও প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, বিয়ে করানো প্রয়োজন। কিন্তু যাতায়াতের পথ না থাকায় কোনো ঘটক আসছে না বা মেয়ের পক্ষ আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করতেও আগ্রহী হচ্ছে না।' 

তিনি আরও বলেন, তাছাড়াও আমার দুই দেবরের দুটি মেয়ে আছে, তারাও বিবাহ উপযুক্ত। তাদের জন্যও কোনো প্রস্তাব আসছে না। সরকারী সম্পত্তির একটা হালোট তাও বেদখল হয়ে আছে। সেখান থেকে যদি আমাদের চলাচলের জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের একটু হলেও সস্তি আসত।

ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুকসানা বলেন, '২০০৩ সালে ঢাকায় চাকুরিকালীন আমাদের বিয়ে হয়েছে, বাবার বাড়ি যশোরে। বিয়ের পরে আমরাই শুধু বেড়াতে যাই, বাবার বাড়ির কাউকে এখন পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আনতে পারিনি। চলাচলের পথ না থাকায় তাদের আসতেও বলতে পারছি না। মেয়ে বড় হইছে, অনার্সে পড়ে। ওর জন্যও কোন প্রস্তাব আসছে না। আমাদের পথ না থাকলে মেহমান আসবে কিভাবে? বলে ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছেন তিনি। আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলী জানান, এই রাস্তার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বহুবার গেছি। নির্বাচনের আগে এবং পরে জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাসই দেন। তারা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নেয় না। আমরা শ্রমজীবী মানুষ, বারবার যেতেও পারছি না। তাহলে আবার সংসারের উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে। মেয়েটাকে বিয়ে দিয়েছি, তাকেও দেখতে যেতে পারি না। মেয়ে-জামাইকেও এখন পর্যন্ত বাড়িতে আনতে পারিনি।' 

শৌলজালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং হক্কেন্নুর দরবার শরীফের পীর মো. মঞ্জিল মোর্শেদ ওই তিন ভাইয়ের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিকারের ব্যবস্থা দাবি করেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোলাম সরোয়ার শহীদ বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের আরও দুইজন ছোট ভাই আছেন। ওরা তিনটি পরিবার একই বাড়িতে বসবাস করেন। কিন্তু ওদের বাড়িতে যাতায়াতের কোনো পথ নেই। কেউ অসুস্থ হলেও বাড়ি থেকে বের করা যায় না। এ কারণেই শের আলীর স্ত্রী বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। অন্যের ঘরের পাশ, পিছন দিয়ে চলাফেরা করতে গিয়ে অনেকসময় প্রতিবেশীর ভিন্ন ধরনের কটাক্ষমূলক কথাও শুনতে হয়। সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই। চরম অমানবিক জীবনযাপন করতে হচ্ছে ৩টি পরিবারের লোকজনকে।

তিনি আরও বলেন, ওদের বাড়ির পাশেই সরকারী জমির একটি হালোট রয়েছে। যা বেদখল হয়ে আছে। স্থানীয় সরকার থেকে যদি উদ্যোগ গ্রহণ করে হালোট দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে তাহলে তারা ৩টি পরিবার অমানবিক জীবনযাপন থেকে রক্ষা পেত।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল আলম বলেন, আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নাগর আলীরা তিনভাই যে বাড়িতে বসবাস করে, ওদের চলাচলের কোন পথ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ পেলে তাদের যাতায়াত পথের ব্যবস্থা করা হবে।

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমিতো জানতাম না কেউ এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো আবেদন করেনি। আমি খোঁজ নিচ্ছি। ওই পরিবারগুলোকে আমার কাছে আবেদন দিতে হবে। আবেদন পেলে আমি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।

রুয়েটে আবাসিক হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ৪ শিক্ষার্থী আটক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
রুয়েটে আবাসিক হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ৪ শিক্ষার্থী আটক
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (৯ জুন) রাত ১০টার দিকে শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলে এ অভিযান চালানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের একটি কক্ষে অভিযান চালান। এ সময় চার শিক্ষার্থীকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা সদৃশ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী এবং শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী বলেন, 'ক্যাম্পাসে মাদকসহ যেকোনো ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।'

তিনি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে মাদকমুক্ত ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে।

এনায়েত করিম/এসএন

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৩ বাড়ি ভাঙচুর

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৩ বাড়ি ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পরিবারের তিনটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি নিয়ে একই গ্রামের ফাতেমা বেগম তুলির সঙ্গে সালেহা বেগম ও ছেলে নাজমুল ইসলামের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে বিগত সময়ে আদালতে মামলা হলে মালিকানার রায় পান ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম। তবে এ রায়কে না মেনে অভিযুক্তরা ওই ২ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করলে নাজমুল ইসলাম ও তার পরিবার বাধা দেন।

এর জেরে গত সোমবার বিকেলে অভিযুক্ত ফাতেমা বেগম তুলির স্বামী, নাঈম মোল্যা, নাদিম মোল্যা শামীম মোল্যাসহ প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন লোক নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালান।

নাজমুলের মা সালেহা বেগম, তার চাচা সৈয়দ আহাদ, আহাদের কন্যা হাসিবা খানম ও স্মৃতি বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের একটি জমি নিয়ে মিজানুর মোল্যা, তরিকুল ইসলাম, নাইম মোল্যা, নাদিম মোল্যাসহ ১০০ থেকে ১৩০ জন অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে হামলা ও জমি দখলের চেষ্টা করে।

এদিকে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এসবে আমরা জড়িত নই।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ভুক্তভোগীরা এখনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরিফুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু
ফইল ছবি

পাবনা সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে ক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই হামলার ঘটনার সময় উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন এবং আগের দিন বিকেলে একজনের মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ জুন বিকেলে পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন শেষে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িতে আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে না থাকলেও, মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির ভেতর থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে আগুন দেখতে আসা বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন।

রিয়া খাতুন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রিয়ার প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিরা রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের জেরে অগ্নিসংযোগ ও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল একজন এবং আজ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড ও মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আমিনুল ইসলাম/আজহার/

শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম
অভিযুক্ত ইমাম আবু ইউছুফ পাটোয়ারী। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় ইমাম আবু ইউছুফ পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) চাঁদপুরের আদালতে অভিযুক্ত ইমামকে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার চেড়িয়ারা পাটোয়ারী বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আবু ইউছুফ পাটোয়ারী (৩৫) চেড়িয়ারা এলাকার বাসিন্দা।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু ইউছুফ পাটোয়ারীর মা রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বড় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে আমার ভরণপোষণ, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছে না। বরং বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে টাকা দাবি করতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত।’

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গালিগালাজ ও মারধর করা হতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আবু ইউছুফ পাটোয়ারী তার মাকে ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এতে রোকেয়া বেগম প্রতিবাদ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় রোকেয়া বেগমের মেয়ে হাওয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে অভিযুক্ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘরে ভাঙচুর করেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর আওতায় করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ফয়েজ/থিও

যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স

যশোরের মনিরামপুর নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করার ঘটনায় ইমামুল হোসেন নামে এক মধ্যবয়সীকে খুন করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।  

সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের দোকানের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইমামুল পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে।

নিহতের ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেন জানান, ইমামুলের নাতনিকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফারাসাতপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে রাব্বি। গত বৃহস্পতিবার তাকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ইমামুল এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে বাপ্পি ও তার পক্ষের লোকজন ইমামুলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এরই জের ধরে সোমবার রাত ৯টার দিকে রোহিতার স্মরণপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের দোকানের পেছনে তাকে একা পেয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে রাব্বি, রবিউল, হুসাইন, মেহেদীসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, ইমামুলকে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, তার ডান পাশের পিঠে গুরুতর আঘাতের কারণে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। এতে তার মৃত্যু হয়েছে।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি- নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তরা ইমামুলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযানে রয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। 

এইচ আর তুহিন/অন্তরা