ভারী বর্ষণ আর ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে কুষ্টিয়ায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বাড়ছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পদ্মা নদীর পানি আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এ কারণে পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার চেয়ে মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। জেলার দৌলতপুরে পানি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে উপজেলার সীমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারি এলাকার অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে।
এতে চিলমারী ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের মোট ১৯টি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামে আরও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পদ্মার তীরঘেঁষা ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে।
পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে ১২.৯০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। বিপৎসীমা ১৩.৮০ মিটার হওয়ায় বর্তমানে পানি ০.৯০ মিটার নিচে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৫৩০ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সবজি, ভুট্টা, ধান, কলা ও মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত দুই ইউনিয়নের ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ‘প্রতিদিন নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। মঙ্গলবার আমার বাড়িতে পানি ছিল না, আজ পানি ঢুকে গেছে। ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। সবাই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নিম্নাঞ্চলের ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৬ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ‘নদীর পাশের ১৬টি গ্রামে অন্তত ৩০ হাজার মানুষের বসবাস, তারা এখন পানিবন্দি। বন্যায় তাদের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, গবাদিপশুও মারা গেছে। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।