স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন একদল শিক্ষার্থী। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্নি চিকিৎসক, স্টাফদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। এ ছাড়া চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হাসপাতালের সামনে সড়কে এসে বিক্ষোভ করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী আন্দোলন চলছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা চালু থাকলেও বহির্বিভাগ ও অন্তবিভাগের চিকিৎসকরা সেবা পাচ্ছেন না।
তবে রোগীদের জিম্মি করে দাবি বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে নগরীর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা উভয় পক্ষ এক টেবিলে বসে আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার আমিসহ বরিশালবাসী সবায় চায়। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার আন্দোলনকারীরা যে তিনটি দাবি জানিয়েছে তা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে কষ্ট না দিয়ে উভয় পক্ষকে এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা দরকার। পাশাপাশি রোগীরা যাতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন সেই বিষয়টিও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের খেয়াল রাখা উচিত।
গবেষক ও বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিচুর রহমান স্বপন বলেন, বিশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোনো আন্দোলন সফল হয় না। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে হাসপাতালের পরিচালকের এখতিয়ারভুক্ত দাবিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন এই গবেষক।
এদিকে সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি নাজমুল হুদা বলেন, আমরা স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের দাবির বিরোধী নই। বরং আমরা তা সমর্থন করি। তবে আমাদের নিরাপত্তা আজ চরম হুমকির মুখে। চিকিৎসক ও স্টাফদের ওপর বারবার হামলা হচ্ছে। মেডিসিন ইউনিট-২-এর মেডিকেল অফিসার ডা. দিলীপ রায় স্যারের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। হামলাকারীরা হাসপাতালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরি করে। এতে রোগী ও চিকিৎসকরা ভয় পেয়ে যান, চিকিৎসকদের অনেকে ভয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ‘চিকিৎসকদের ওপর হামলার পর দুপুর থেকে তারা ভয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। চিকিৎসা না পেয়ে রোগী ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকদের অনুরোধ করে পুলিশের সহযোগিতায় তাদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে এনে আপাতত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য খাত সংস্কার আন্দোলনের ২২তম দিনে গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলনকারীরা। পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মহিউদ্দিন রনিসহ ৪ প্রতিনিধি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা।