শরীয়তপুরের একমাত্র বিসিক শিল্পনগরী নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রায় এক বছর ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, খানাখন্দে ভরা সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সংকটের অন্ত নেই প্রতিষ্ঠানটির। রাস্তাঘাট বেহাল হওয়ায় দুর্ভোগের সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বিসিক শিল্পনগরী।
এদিকে ড্রেনের পচা পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ কর্মচারী ও স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্লাবিত হয় বিসিকের রাস্তাঘাট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবকাঠামোর উন্নয়ন করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিসিক কর্মকর্তা বলছেন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ড্রেনেজ পরিষ্কার করা যাচ্ছে না।
শরীয়তপুর বিসিক শিল্পীনগরী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক শরীয়তপুরে বিসিকের জন্য জায়গা নির্ধারণ করেন। তার এই উদ্যোগে প্রায় ১৪ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০১ সালের ১০ জুলাই শিল্পনগরীর উদ্বোধন করা হয়। বিসিকের ১০০টি প্লটের মধ্যে ৪টি প্লট নিয়ে গড়ে উঠেছে শিল্পনগরী কার্যালয়।
৯৬টি প্লটে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প গড়ে ওঠার কথা থাকলেও ৪২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিসিক কর্মকর্তা। অথচ গত ২৫ বছরে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। রয়েছে সুপেয় পানির সংকট। এক বছর ধরে পানির লাইন বন্ধ। নেই কোনো নিরাপত্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা। যেখানে-সেখানে ময়লার স্তূপ।
বেকারিতে তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানুষের খাবার। সড়কগুলোর বিভিন্ন জায়গা ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে যায় কারখানাগুলো। বারবার বিসিক কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উদ্যোক্তদের। এ কারণে ৯০ ভাগ কারখানার বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্জ্য অব্যবস্থাপনা আর দুর্গন্ধে কাজ করা কঠিন বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
বিসিকের একটি ফ্যাক্টরির শ্রমিক সোহেল বলেন, ‘বিসিকের রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এত বেশি খারাপ যে, কাজ করাই কষ্ট।’ মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার ও জাকির হোসেন নামের দুই কর্মচারী বলেন, ‘বিসিকে পণ্য উৎপাদন করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। পানি নেই। চারদিকে দুর্গন্ধ। পানির বিল দিই, তার পরও এক বছর ধরে পানি পাই না। এখান থেকে তো সরকার রাজস্ব পায়। তার পরও কেন অবহেলিত আমরা?’
দেশ ফুডের স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই ফ্যাক্টারির ভেতরে পানি উঠে যায়। চারদিকে নোংরা। কাজ করাই এখন কষ্টকর। সাপ্লাইয়ে পানি নেই। বিসিক কর্মকর্তাকে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাইনি। এ সমস্যা সমাধানের দ্রুত পদক্ষেপ চাচ্ছি।’
স্থানীয়রা জানান, পচা পানি আর নোংরা ময়লা-আর্বজনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন তারা। চলাচল এখন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বরাদ্দের ঘাটতির কারণে সঠিকভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা না করতে পারার কথা জানালেন শরীয়তপুর বিসিক শিল্পনগরী উপ-ব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হক। তবে পানির ব্যবস্থা খুব শিগগিরই করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন জানান, বিসিক শিল্পনগরীতে নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।