সিলেটের জেলা প্রশাসকের আল্টিমেটামের পর নিজ উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ঘনফুট সাদাপাথর জমা দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আজকের পরে যাদের কাছে পাথর পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকালে সাদা পাথর পরিদর্শন শেষে এই তথ্য জানান জেলা প্রশাসক।
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে স্বেচ্ছায় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ঘনফুট পাথর জমা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাকী পাথরগুলো সব বাহিনী মিলে জব্দ করা হয়েছে। ২৬ লাখ ঘনফুট পাথরের মধ্যে ১১ লাখ ঘনফুট পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই কাজে প্রতিদিন সাদাপাথরে ৫০০ এর অধিক শ্রমিক এবং ৫০০ আজকের পরে যাদের কাছে পাথর পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত ২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। আমরা তিন দিনের একটি সময়সীমা দিয়েছিলাম। যেটা আজ বিকাল ৫টায় শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লোকজন স্বেচ্ছায় আমাদেরকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ঘনফুট পাথর জমা দিয়েছেন। বাকী পাথরগুলো সব বাহিনী মিলে আমরা জব্দ করেছি। এই পরিমাণ পাথর আনা ও প্রতিস্থাপন করা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। ২৬ লাখ ঘনফুট পাথরের মধ্যে ১১ লাখ ঘনফুট পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বাকী পাথর ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে। আশা করছি বাকী পাথর এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, এই কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ট্রাক মালিক সমিতি অনেক সহযোগিতা করেছেন। প্রতিদিন সাদাপাথরে ৫০০ এর অধিক শ্রমিক এবং ৫০০ এর অধিক নৌকা এবং ৩০০ এর অধিক ট্রাক কাজ করছে। আজকের পরে যাদের কাছে পাথর পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারওয়ার আলম বলেন, পাথর নিয়ে কয়েকটি ধাপে কাজ চলছে। প্রথমত আমরা পাথর প্রতিস্থাপনে জোর দিয়েছি। একই সঙ্গে যারা এই ঘটনার মূল হোতা তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা এটাও বলতে চাই যারা নির্দোষ নিরপরাধ তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। পুলিশ, যৌথবাহিনী, সেনাবাহিনীসহ সবার সমন্বয়ে কাজ করা হয়েছে। এই টিম ওয়ার্কের কারণে আমরা ২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করতে পেরেছি। আশা করছি এই পুরো পাথর প্রতিস্থাপন করতে পারলে সাদাপাথরে কিছুটা পরিবর্তন হবে।
এর আগে গত শনিবার (২৩ আগস্ট) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে লুট হওয়া সাদা পাথর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যার মধ্যে নিজ উদ্যোগে, নিজ খরচে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। এ সময়ের পর কারও কাছে সাদা পাথর পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়। ২৩ আগস্ট এ ব্যাপারে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় মাইকিংও করা হয়।
শাকিলা ববি/মাহফুজ