নিহত স্কুল ছাত্র মেহেদী হাসান। ছবি: খবরের কাগজ
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার উদয়পুরে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া একাডেমির এক আবাসিক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যালয়টিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা থেতে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার গ্রামবাসী জড়ো হয়ে এ ভাঙচুর চালান।
জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার একটু আগে বিদ্যালয়টির আবাসিক ভবনের একটি কক্ষ থেকে অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মেহেদী হাসানের মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় প্রচার হলে প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
মেহেদী হাসান উপজেলার সোনাপুর বাজারের জিয়া উদ্দিনের ছেলে। সে এই স্কুলের আবাসিক ছাত্র।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোস্টল থেকে মেহেদীর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী শিক্ষক কর্তৃক পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তোলে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
তারা সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে ১২টায় পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুর চালান।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মেহেদী হাসানের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মেহেদী হাসানকে নির্যাতন ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাকে হত্যা করে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীর স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, 'শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা বের করা হবে। হত্যা না স্বাভাবিক ঘটনা সেটা ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'
রফিকুল ইসলাম/আজহার/