কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গোমতী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে চলছে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন। ফলে ভাঙনের মুখে রয়েছে নদীর পাড়ের শত একরের ফসলি জমি ও বসতভিটা। এদিকে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি-গোলাপের চরের শতাধিক পরিবারের। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে চেঙ্গাকান্দি গ্রামের পাশে গোমতী নদী থেকে দিন-রাত ড্রেজার মেশিন বসিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল লাগাতার বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিলে রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে তাদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। বর্তমানে স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। তবে এখানে প্রশাসনের নজরদারি নেই।
স্থানীয় আব্দুল হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে অনেক ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। এর ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চেঙ্গাকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে চেঙ্গাকান্দি গ্রামের ৫৩ ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরসহ একটি লিখিত অভিযোগ ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফসলি জমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
চেঙ্গাকান্দি গ্রামের আবদুল বাতেন বলেন, ‘ভাঙন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে ভয় হয়। কখন পাড় ভেঙে আমাদের বাড়ি নদীর পেটে চলে যায়। এই বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আমাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নদীতে চলে যাবে।’
আবদুল বাতেন আরও বলেন, ‘দলীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অনেক দিন হলো লিখিত অভিযোগ করে এসেছি। কিন্তু কোনো ফল দেখছি না। আমরা এতটাই অসহায় যে, কিছু করতেও পারছি না।’
এসব বিষয়ে দাউদকান্দির ইউএনও নাছরীন আক্তার বলেন, ‘আমি বালু উত্তোলনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে শুনেছি, এরা নাকি বিআইডব্লিউডির অনুমোদন নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
এদিকে কয়েক মাস আগে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বাধার শিকার হয়েছেন দাউদকান্দি সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম। এই সময় দূর্বৃত্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেওয়ান ইসলামের সঙ্গে থাকা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন ও পুলিশ সদস্য মহসিন হোসেনসহ মোট পাঁচজন আহত হন। দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় হাশেম নামে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই সময় দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলামসহ সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা।