নাটোর পৌর এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটা পর্যন্ত ৩০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৮ জন। এদের মধ্যে ৬৮ জন নারী-শিশু এবং ৬০ জন পুরুষ রোগী রয়েছেন।
হঠাৎ ডায়রিয়ার কারণ অনুসন্ধানসহ সার্বিক বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসন ৫ সদস্যের মনিটরিং টিম গঠন করেছে।
প্রাথমিকভাবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ধারণা, সাপ্লাই পানির কারণে ডায়রিয়ার এ প্রকোপ দেখা দিতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাপ্লাই পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, দ্রুতই ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ হবে ও সবাই সুস্থ হবেন।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে একের পর এক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হতে থাকেন। হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়ায় তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে হিমশিম খান চিকিৎসকরা। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল চৌধুরী হাসপাতালে ছুটে যান। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ছুটে যান হাসপাতালে।
সিভিল সার্জন ডাক্তার মুহাম্মাদ মোক্তাদীর আরেফিন জানান, রোগীদের সুচিকিৎসায় ডাক্তার রবিউল আওয়ালের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সব রোগী নাটোর পৌরসভার ১ ও ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
বিষয়টি জানতে চাইলে স্থানীয় অর্নব খান নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নাটোর পৌরসভার দুই নং ওয়ার্ডের পানির পাম্পগুলো প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। এখানে ট্যাঙ্ক থেকে পানি সাপ্লাই দেওয়া হয়। এসব ট্যাঙ্কের অনেক দিন ধরে জমে থাকা পানি পান করেই মানুষের সমস্যা হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নাটোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কখনোই ভালো পানি সাপ্লাই দেয় না। বিগত সরকারের আমল থেকে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে লৌহ বিমুক্তকরণ প্লান্ট তৈরি করেছিল নাটোর পৌরসভা ২নং ওয়ার্ড এলাকায়। অথচ দুজন টেকনিশিয়ান নিয়োগের অভাবে এত বড় প্রকল্প তারা নষ্ট করে ফেলে।’
অপর অধিবাসী আরিফুল ইসলাম জানান, নাটোর পৌরসভার সাপ্লাই পানির অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে ২ নং ওয়ার্ডের কুর্মির মাঠ এলাকায় অবস্থা শোচনীয়।
এদিকে বুধবার দুপুরে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই পৌরসভার সাপ্লাই পানির নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের একজন সহকারী কমিশনার, পৌর প্রতিনিধি ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধির সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করেছেন।এছাড়া বিকল্প বিশুদ্ধ পানি সাপ্লাই করার প্ল্যান করছে জেলা প্রশাসন
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে পানির লাইনে কোনো লিকেজ পাওয়া যায়নি। তবে সাপ্লাই চেকভাল্ভে কোনো সমস্যা থাকলে বা ওই পানি সাপ্লাই কাজে কারো অবহেলা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডায়রিয়ার প্রকোপ এড়াতে তিনি সাপ্লাই পানি ফুটিয়ে ও বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পানি পান করার জন্য সবাইকে আহ্ববান জানান।
কামাল মৃধা/নাঈম/সুমন