কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার সারডোব এলাকায় কাজ শেষ হওয়ার আগে ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের সিসি ব্লক ধসে গেছে। এতে হুমকিতে পড়েছে শত শত পরিবার। স্থানীয়রা বলছেন, ডাম্পিং জোনে পর্যাপ্ত সিসি ব্লক না ফেলায় প্রবল স্রোতে বাঁধের ব্লক ধসে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগও তুলছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত থেকে একের পর এক ব্লক ধসে পড়ছে। তবে ইতোমধ্যে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা শুরু করছে। তবে সেটা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা। তারা জানান, আবার পানি বাড়লে বাঁধ রক্ষা মুশকিল হয়ে পড়বে।
পাউবোর সূত্রে জানা গেছে, ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য ২০২০ সালে ৬২৯ কোটি টাকার ‘ধরলা প্রকল্প’ হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও পুরাতন বাঁধ মেরামতকরণ এবং ১৬ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই প্রেকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, কয়েকটি প্যাকেজে পুরো প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সারডোবের ক্ষতিগ্রস্ত ওই বাঁধের কাজ করছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসিবুল হাসান। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। বাঁধের কিছু অংশ ধসে পড়ায় নতুন করে শঙ্কা কাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।
সারডোব গ্রামের আব্দুল হোসন অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁধের কাজে অনিয়ম হয়েছে। প্রয়োজনীয় সিসি ব্লক না ফেলার কারণে বাঁধ তীব্র স্রোত সহ্য করতে পারছে না। যদি বাঁধটি ভেঙে যায়, তবে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’ আরেক বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই বাঁধ আমাদের রক্ষাকবচ। এটি ধসে পড়লে কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি আবার নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ ওই এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২২ সালের বন্যার ক্ষতি আমরা এখনো সামলে উঠতে পারিনি। এবার যদি বাঁধটি ভেঙে যায়, এলাকা শেষ হয়ে যাবে।’
পাউবোর কুড়িগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক বলেন, ‘উজানে চর জেগে ওঠায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত করছে। এ কারণে বাঁধের কিছু অংশ ধসে গেছে। আমরা আপাতত জিও ব্যাগ ফেলছি। পানি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘পুরো প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান। প্রকল্পটি এখনো হস্তান্তর হয়নি। বাঁধের সিসি ব্লক ধসে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ করছে। পানি কমলে ওই জায়গায় আবার সিসি ব্লক ফেলা হবে।’