বাগেরহাটে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ায় জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যদিও জেলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগীর চাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজনন ধ্বংস করতে হবে, আক্রান্ত হলে নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ।’
বর্তমানে জেলা সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ৬ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি রয়েছেন। গত কয়েকদিনে রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে আশঙ্কাজনক কোনো রোগী নেই।
শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলনে, ‘পৌরসভার বর্জ্য অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘ দিনের ড্রেনেজ সমস্যার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত নিয়মিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রম ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে তাহলে এ ডেঙ্গু ঝুকি থেকে পৌরবাসী রক্ষা পাবে।’
পৌরবাসী জাহিদ হাসান পলাশ বলেন, আমাদের বাগেরহাট পৌরসভায় দুটি স্লুইজ গেট রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। এখানে পানি আটকে থাকায় মশার প্রজনন বাড়ছে। দ্রুত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না করা হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজেদের বাসা-বাড়ি ও আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন।
সিয়াম হাসান সূর্য বলেন, আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রতিনিয়ত পানি জমে থাকে। এতে রাস্তাঘাটে চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বর্তমানে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন বাড়ছে। এছাড়া মাঠে পানি জমে থাকায় আমরা খেলাধুলাও করতে পারছি না।
বাগেরহাট সদর উপজেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমদ্দার বলেন, আগের তুলনায় গত দুই-তিন দিন ধরে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে ছয়জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি রয়েছেন। তবে আমরা পুরোপুরি সতর্ক আছি এবং প্রতিটি রোগীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত ডেঙ্গুরোগীদের পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নয়, সচেতনতাও খুব জরুরি। প্রতিটি পরিবারকে অবশ্যই নিজেদের বাসা-বাড়ি ও আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাড়ির আঙিনায় কিংবা ছাদে, যেখানে পানি জমে থাকে, সেসব জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। ঝোপ কেটে ফেলতে হবে, টব, ড্রাম, ডাবের খোসা বা যে কোনো পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. আ স মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বাগেরহাটে ডেঙ্গুর তেমন প্রভাব না থাকলেও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।
রিফাত/মৌসুমী/