ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন অফিসে ঝামেলা সামলানোর ৭টি টিপস রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চীন ও তারেক রহমানের সফর চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ৭০ ছাড়িয়েছে স্বপ্নের চাকরির খোঁজে তরুণদের ভিড়, ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র পুঠিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত
Nagad desktop

নিজভূমে পরবাসী হাতি, খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম
নিজভূমে পরবাসী হাতি, খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা
খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে আসা একটি হাতির পাল। শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রাংটিয়া অফিসপাড়া এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

ভারত সীমান্তঘেঁষা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা। এখানে থাকা গারো পাহাড় থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় খাবারের সন্ধানে বন্য হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসে। ৪০ থেকে ৫০টি হাতি একসঙ্গে বিচরণ করে বিভিন্ন গ্রামের ফসলের খেত নষ্ট করে। এতে স্থানীয় কৃষকদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। তারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে তাদের এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না। কিন্তু কেন এ অবস্থা?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জঙ্গল ধ্বংস করা হচ্ছে। এতে গারো পাহাড়ে হাতির বিচরণের জায়গার পাশাপাশি খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সীমান্তবর্তী লোকালয়ে। নিজের জায়গায় পরবাসী হওয়া হাতি এখন খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসছে। তখনই দেখা দিচ্ছে বিপত্তি। একদিকে হাতির বেঁচে থাকার সংগ্রাম, অন্যদিকে মানুষের জীবিকার প্রশ্ন- দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো এখন সময়ের দাবি। আর যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন করা না হয়, তাহলে আতঙ্ক থেকেই যাবে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদিগ্রাম, গুমড়া, রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোটগজনী, বড়গজনী ও তাওয়াকুচা এলাকায় এক সপ্তাহের বেশি ধরে হাতির পালটি অবস্থান করছে। দিনের বেলা পাহাড়ি টিলায় ঘোরাফেরা করলেও সন্ধ্যা নামলেই সেগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সন্ধ্যাকুড়ায় গোলাপ ও আকাশমণি কাঠের বাগান, সবজি খেত ও ধানের জমিতে নেমে আসে হাতির দল। মশাল জ্বালিয়ে ও হইচই করে স্থানীয়রা হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করলেও ফসলের ক্ষতি ঠেকানো যাচ্ছে না।

সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক মো. দেলোয়ার বলেন, ‘হাতির দল আমার ২৫ শতাংশ ধানের জমি নষ্ট করেছে। আমি গরিব মানুষ, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। হাতির অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। এটার একটা সমাধান চাই। এভাবে আমাদের ফসল আর কত নষ্ট হবে।’

গুমড়া গ্রামের সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আমার বরবটি আর বেগুনের খেত হাতি নষ্ট করেছে। আমি নিজ চোখে ছোট-বড় হাতি দেখেছি। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টি দরকার। কারণ প্রায় সময়ই এই এলাকায় হাতি আক্রমণ করে। অথচ সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

নলকুড়া ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন নামে এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘গারো পাহাড়ে হাতির খাবার ও আশ্রয়ের সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে হাতি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার ফল। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক ও শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুগনিউর রহমান মনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই গারো পাহাড়ের নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে হাতির বিচরণক্ষেত্র ছিল। কিন্তু পাহাড়ে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে নানাভাবে মূল্যবান গজারিগাছসহ বন-জঙ্গল সাফ করে ফেলছে। এতে হাতি এখন নিজভূমে পরবাসী হয়ে পড়ছে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়ায় খাদ্যের সন্ধানে হাতি অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘হাতি যাতে দ্রুত এ বনে বিলুপ্ত হয়ে যায় এ জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে জেনারেটর এবং সরাসরি বিদ্যুৎ দিয়ে জিআই তারের মাধ্যমে হাতি নিধনে নেমেছে। ফলে প্রতিবছরই হাতি হত্যার ঘটনা ঘটছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এ চক্রকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে এলাকায় জনগণের জন্য বন বিভাগকে সচেতনতামূলক কার্যকরী সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি এটা না হয়, তাহলে এই বনের হাতি দ্রুতই হারিয়ে যাবে। হাতি না থাকলে এ বনটিও হারিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।’

ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, ‘হাতির খাদ্যসংকট নিরসনে গারো পাহাড়ে সুফল বাগান করা হয়েছে। এ মাসে প্রতিটি বিটে দুই হাজার কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি চলছে। এগুলো বড় হলে হাতিদের খাবারের সংকট অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে বন বিভাগ ও ইআরটি সার্বক্ষণিক হাতি পাহাড়ে ফেরাতে কাজ করছে। এরই মধ্যে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমে এসেছে।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘খাদ্যের অভাবেই হাতিরা লোকালয়ে আসছে। আমরা মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। সীমান্ত এলাকায় হাতির খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে তারা লোকালয়ে নামবে না।’

সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ
সিলেটে ১৯ বিজিবির অভিযানে জব্দ ভারতীয় চোরাই পণ্যের একাংশ। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশে বাজেট ঘোষণার পর সিগারেটের দাম বাড়ায় ভারতীয় চোরাইপণ্যে ভারতীয় সিগারেট আসছে। বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীনস্থ জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) পৃথক অভিযানে ভারতীয় সিগারেটসহ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার চোরাচালান জব্দ করেছে।

বুধবার (১৭ জুন) ১৯ বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় লক্ষীবাজার বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শেওলা জিরো পয়েন্ট নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিজিবির টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় পাঁচ হাজার ৯০০ প্যাকেট ভারতীয় সিগারেট ও একটি বাংলাদেশি পিকআপ জব্দ করে। জব্দকৃত মালামালের সিজারমূল্য ৪৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

এর আগে ১৬ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর, লালাখাল ও সুরাইঘাট পৃথক পৃথক আভিযানিক টহল দল অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬টি গরু,  ২৬টি কম্বল, কিটক্যাট চকলেট ৫৫০ পিস, চিনি ২৮৭ কেজি, চা পাতা ৬৮ কেজি জব্দ করে। এসব মালামালের মূল্য ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার পিএসসি বলেছেন, সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে গোয়েন্দা তৎপরতাসহ চোরাচালান বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং এরই অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল কাস্টমস্ এ জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি'র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।  

এসএন/

সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ
এনামুল কুদ্দুছ ও আবু সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) ২০২৬-২৮ মেয়াদকালের সিলেট শাখার কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। দুই বছর মেয়াদের কমিটিতে এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান ও আবু সাঈদ মো. তাইফ (তায়েফ) সেক্রেটারি মনোনীত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। নবগঠিত কমিটি আগামী ১ জুলাই থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ৭ সদস্যের কমিটির অন্যান্যরা হচ্ছেন, পার্থ চৌধুরীকে ভাইস-চেয়ারম্যান, মো. গোলাম কিবরিয়াকে জয়েন্ট সেক্রেটারি, হাবিবুর রহমানকে কোষাধ্যক্ষ এবং সদস্য মো. ফরহাদ হোসেন ও সৈয়দ রেজওয়ানুল হক।

বিসিএসের পক্ষ জানানো হয়, গত ১৪ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৭ সদ্যসের মধ্যে ১৫ জুন পদ বন্টনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সিলেট, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও টাঙ্গাইল শাখা কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন কে এম এইচ শহিদুল হক। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাবেদুর রহমান শাহীন ও মোশারফ হোসেন সুমন।

এসএন/

সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ
সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহননে এলাকায় চাঞ্চল্য। ইনসেটে প্রতারক জনি। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে দুই সন্তানের জননীকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার শম্ভুপুরা এলাকায় ঝুমুর আক্তার নামের ওই নারী আত্মহননে মারা যান, আর এ মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে মো. জনি নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে ঢাকা বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই নারী। এই নির্মম ঘটনার পর অপরাধী জনির গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাতেই ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকার প্রবাসী ইকবালের স্ত্রী ঝুমুর আক্তারের স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এলাহীনগর এলাকার বাসিন্দা মো. জনি।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জনি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুমুরের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেন। এছাড়া জনি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুটে নেন। একপর্যায়ে টাকা হারিয়ে ঝুমুর নিঃস্ব হয়ে পড়লে জনি তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন।

​সর্বস্ব হারিয়ে রবিবার বিয়ের দাবিতে জনির বাড়িতে অবস্থান নেন ঝুমুর। সেখানে চরম মানসিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ও অভিমানে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা বার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

​মেয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহতের বাবা বাসেদ মিয়া জানান, জনি দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ করে এখন রাতারাতি বিএনপি নেতা সেজে আমাদের ভয় দেখাচ্ছে। সে দম্ভ করে বলে এমপি তোদের কী করবে? ঝামেলা করলে টাকা দিয়ে থানা থেকে বের হয়ে আসবো। এলাকার লোক দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে যেন মামলা না করি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই, জনির ফাঁসি চাই।

​নিহতের চাচী মরিয়ম বেগম জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং আর্থিক প্রতারণার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। 

এদিকে অভিযোগ, এই নির্মম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা তৎপর হয়ে উঠেছেন। শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেদ আলী, সদস্য শামীম, এজাজ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করার চেষ্টা চালায়।

শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেদ আলী নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে ইউপি মেম্বার শামীম অন্যান্য মেম্বারদের নিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি।

​এদিকে ইউপি সদস্য শামীম পরকীয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঝুমুরের সাথে জনির পরকীয়ার সম্পর্ক আছে মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার কথা হয়েছে। তবে এটি আইনবহির্ভূত কি না এমন প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

অভিযুক্ত জনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করার চেষ্টা করলেও গণমাধ্যমের কাছে সদুত্তর দিতে পারেননি, উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি নিউজ করে কী করবেন, কইরেন।

​এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের জোরে যেন এই নির্মম ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে না যায়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতারক জনি এবং তাকে রক্ষায় সহায়তাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এই নির্মম ঘটনায় কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন
ছবি: খবরের কাগজ

প্রায় ৫৪ বছর পর ঢাকার ধামরাইয়ে 'ধামরাই সরকারি কলেজ' এ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে কলেজের উদ্যোগে দুটি দ্বিতল বাস উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১ টার দিকে ধামরাই সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন ঢাকা-২০ আসনের এমপি তমিজ উদ্দিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আমরা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছি। পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের  অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। দূর থেকে শিক্ষার্থীদের আসতে এখন আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বাস না থাকায় রাস্তায় অনেক ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে। অনেক সময় গাড়ির লোকজনের সাথে বাক-বিতণ্ডা করতে হয়েছে। এখন আর সেই সমস্যা নেই। আমরা সঠিক সময়ে বাসে করে কলেজে আসতে পারবো।

দুইটি বাসের মধ্যে একটি আশুলিয়া জিরানি থেকে ধামরাই কলেজ পর্যন্ত এবং অন্যটি কাওয়ালীপাড়া থেকে কলেজ পর্যন্ত চলাচল করবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফি, ওসি ( তদন্ত) শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান স্বপনসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা।

রুহুল/আমান

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন
রায় শেষে আসামী মনির হোসেনকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। 

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ শুধু শারীরিক ক্ষতি করে না, বরং তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে। শিশু সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি যখন একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন সে শুধু একটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরআগে গত ১০ জুন ভুক্তভোগী শিশু, তার বাবা ও মামলার বাদী মেহেদী হাসান, নানা, নানী, খালা সহ ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরদিন ১১ জুন শিশুটির মা, জবানবন্দি রেকর্ডকারী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সবশেষ গত ১৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। 
গত ১৫ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির পরীক্ষা শেষ হয়। গত ১৬ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৭ জুন মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। 

গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। পরে ৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুন বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। 

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

এ সময় আটককৃত আসামিকে পুলিশ থানায় নেয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। তারা বলেন- তারাই ওই যুবকের শাস্তি নিশ্চিত করবেন। পরে দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে নিয়ে আসতে না পেরে
পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সেদিন রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। অপরদিকে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

পরবর্তীতে ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আসামী মনির হোসেন।

এসএন/