দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার পরিচিত রেস্টুরেন্ট ‘বেড়ার হোটেল’-এর বিরুদ্ধে নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পরিবেশন, অতিরিক্ত দাম, গ্রাহকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং গ্রাহকদের হেনস্তার একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হোটেলটিতে পরিবেশিত কিছু খাবারে দুর্গন্ধ পাওয়া গেছে এবং খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো সমাধান দেয়নি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অস্বাভাবিক মূল্য নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে তারা জানান।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বলেন, ‘গতকাল রাতে খাবার খেতে গিয়ে গরুর মাংসে দুর্গন্ধ পাই। খাওয়ার সময় আমাদের মনে হয়েছে এটি গরুর মাংস নয়, মহিষের মাংস হতে পারে। বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। বরং আমাদের অভিযোগকে গুরুত্বহীন হিসেবে দেখেছে।’
আরেক ভুক্তভোগী রানা বলেন, ‘আমরা ছয় বন্ধু এক সঙ্গে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। পরিবেশিত মাংস, আলু ভর্তা, সবজি ভর্তাসহ কয়েকটি খাবার ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের ও অরুচিকর। পরে মালিককে বিষয়টি জানাতে গেলে তিনি সমাধান না দিয়ে আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে সেখানে শত শত মানুষ একই ধরনের অভিজ্ঞতা মন্তব্যে উল্লেখ করেন। এতে বোঝা যায়, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।’
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে অনেক সময় তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে কয়েকজন গ্রাহক দাবি করেছেন।
বেড়ার হোটেলটির মালিক হাসান আলী বলেন, ‘আমি নিজেও ওই রান্না খেয়েছি। আমার কাছে তো কোনো সমস্যা মনে হয়নি। একেকজন মানুষের রুচি একেক রকম। আগে তো কেউ এভাবে অভিযোগ করেনি, এবার আপনারা বলছেন। আরও যদি কয়েকজন অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি দেখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব না। কারও ভালো লাগতে পারে, কারও নাও লাগতে পারে।’
এদিকে বিষয়ে দিনাজপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘হোটেলটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কয়েকদিন আগে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সে সময়ও হোটেল মালিকের আচরণ সন্তোষজনক ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, খাদ্যের মান, মূল্য তালিকা, ভোক্তা হয়রানি ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সুলতান মাহমুদ/খাদিজা রুমি/