দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ভিড় বেড়েছে আগ্রহী তরুণদের। সরকারের এই উদ্যোগ আত্মপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তা হতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে যুব ও যুব মহিলাদের। সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ও ১২টায় রাঙামাটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে দেশের ৪৮ জেলার সঙ্গে একযোগে ৪র্থ ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে আইটি প্রতিষ্ঠান ‘ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড’।
রাঙামাটিতে এবার ২৬৭ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন ও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরিক্ষাসহ চূড়ান্ত ফলাফল এসএমএসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জানানো হবে।
পরীক্ষা তদারকি করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ফেরদৌস সেলিম, রাঙামাটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান ও ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি।
প্রকল্পটি যুব সমাজের মাঝে প্রভূত কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৪র্থ মেয়াদে (অক্টোবর ২০২৫–ডিসেম্বর ২০২৫) প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির লক্ষ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে লক্ষাধিক আবেদন পড়ে। যেখানে প্রতি জেলায় ৭৫টি আসন করে ৪৮টি জেলায় মোট ৩৬০০ জন ভর্তির সুযোগ পাবে।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের তিন পার্বত্য জেলার সমন্বয় কর্মকর্তা নিরত বরণ চাকমা বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৩টি ব্যাচে ৭২০০ জন যুব ও যুব মহিলা প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, তাদের ৬২ শতাংশের অধিক সরাসরি আয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। উদ্যোক্তারা প্রায় ৯ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১ কোটি টাকা এবং এ আয় চলমান রয়েছে।’
রাঙামাটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, ‘এর আগে সম্পন্ন হওয়া তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং করে মোটামুটি আয় করছেন। তারা একটা আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন। এ ধারা যদি অব্যাহত থাকে, আশা করি আমাদের যুবরা আর বেকার থাকবেন না। তারা ক্রমান্বয়ে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবেন।’
জুয়েল/এসজি/