সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার মধ্যনগর সীমান্ত পথ দিয়ে গরু চোরাচালানি ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)-চোরাকারবারি সংঘর্ষের একদিন পর উমর আলী (৩০) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার মধ্যনগর উপজেলার রূপনগর কান্দাপাড়া সংলগ্ন হাওর এলাকায় ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে, মধ্যনগর থানা পুলিশের একটি দল মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত উমর আলী হাওড়পাড়ের খিদিরপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে। তিনি সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, হাওর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত প্রায় রাত ১০টার দিকে গরু বহনকারী দুটি স্টিলবডি নৌকা আটককে কেন্দ্র করে বিজিবি-চোরাকারবারি সংঘর্ষ হয়। উমর ওই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, নৌকা দিয়ে ৩২টি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবির টহলদল ভারতীয় বলে দাবি করে। এ নিয়ে গরু বহনকারীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে বল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বিজিবির ওপর হামলা চালানো হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবিও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় দুটি নৌকায় থাকা লোক একটি নৌকা দিয়ে পালিয়ে যান। ফেলে যাওয়া নৌকায় ৩২টি গরু জব্দ করে বিজিবি।
মঙ্গলবার সকালে এ বিষয়ে বিজিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় বাংগালভিটা বিওপির জেসিও সুবেদার সিগন্যাল মো. ইসরাইল খান ও সঙ্গে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ১১৯০/১৫-এস থেকে আনুমানিক চারশ’ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রূপনগর নামক স্থানে টহলে গমন করে। পরবর্তীতে টহল চলাকালীন আনুমানিক রাত ১০টায় সংঘবদ্ধ একটি চোরাকারবারী দল ভারতীয় গরুভর্তি ট্রলার চোরাচালান করার সময় টহলদলের ওপর আক্রমণ করে। প্রায় ১২০ জনের চোরাকারবারি সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবি টহল দলকে ঘেরাও করে ইট, পাথর ও বল্লম নিক্ষেপ করে এবং গাদা বন্দুক দিয়ে বিজিবির টহলদলকে লক্ষ্য করে ১৫-২০ রাউন্ড ফায়ার করে। পরে গরুসহ একটি ট্রলার রেখে পালিয়ে যায়।’
এতে আরও বলা হয়, চোরাকারবারিদের গুলিতে নায়েক মো. আখিরুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসারত রয়েছেন। অভিযানে ৩৩টি গরুসহ একটি নৌকা (ট্রলার) আটক করা হয়। যেখানে বিভিন্ন বল্লম, দা, কাঁচি, পাথর এবং ঢাল বিদ্যমান রয়েছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জব্দ করা মালামালসহ মধ্যনগর থানায় মামলা করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির সাংবাদিকদের বলেন, চোরাকারবারিরা আমাদের টহলদলকে লক্ষ করে হামলা করে। তাদের গুলিতে আমাদের একজন আহত হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ পোস্টমর্টেমের পর জানা যাবে।
মেহেদী/