ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার মাদরাসার শিক্ষার্থীকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দারুত তাক্বওয়া খলেছাতুন নেছা মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার পরিচালক হাফেজ আবু তালেবের বিরুদ্ধে।
২নং আখানগর ইউনিয়নের ফেলানপুরের উত্তর ঝড়গাঁও গ্রামের দারুত তাক্বওয়া খলেছাতুন নেছা মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে কৌশলে বাইরে ডেকে নিয়ে যায় আবু তালেব। পরে রান্নাঘরে নিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানায়।
ধর্ষণের শিকার শিশুটির মা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েটার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে ওই নরপিশাচ। আমরা গরিব মানুষ, দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য মাদরাসায় দিয়েছিলাম। এখন আমি কার কাছে বিচার চাইব? আমার আর কিছু চাওয়ার নেই, আমি শুধু আমার সন্তানের সামনে ওই লম্পটের ফাঁসি দেখতে চাই। দ্রুত যেন তাকে ধরে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়।’
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের ফাঁসি ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফেলানপুর মাদরাসা এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে আসা এলাকাবাসী হবিবর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক যখন এমন ঘৃণ্য অপরাধ করে, তখন আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা কোথায় খুঁজব? শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা থামানো যাবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি- ধর্ষক আবু তালেবকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। এমন নরপিশাচের জায়গা সমাজে নয়, ফাঁসির কাষ্ঠে।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা রুহিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ জানান, শিশুটির মুখজবানি ও মেডিকেল সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নবীন/রিফাত/