গত ১৪ জুলাই সার্ভার জটিলতার কারণে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-২-এর গ্রাহকরা। তবে এখন সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পুরাতন প্রিপেইড মিটার পরিবর্তন এবং নতুন মিটার স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ করেছে বিভাগটি।
বিউবো সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন মিটার ও সার্ভারের ত্রুটির কারণে গত ১ জুলাই থেকে মিটার পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে ৩০ হাজার ৮৯১টি পুরাতন মিটার পরিবর্তন করে নতুন মিটার স্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো নতুন সার্ভারে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৬ হাজার গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের কাজ চলছে, যা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পুরাতন সার্ভারের ত্রুটির কারণে প্রায়ই মিটার লক হয়ে যেত। নতুন মিটারে এই সমস্যা থাকবে না। আগের মিটারে ভালো ব্যাটারি থাকা সত্ত্বেও সার্ভার থেকে ‘ডিসকানেক্ট’ দেখাত। নতুন মিটারে এই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে ব্যাটারি ঘন ঘন পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হবে না।
নতুন মিটারের আরেকটি সুবিধা হলো, সরকারি ছুটির দিনে ব্যালেন্স শেষ হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হবে না। সরকারি ছুটির রাতে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ চালু থাকবে। ওই সময়ের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ রিচার্জের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এই মিটার পরিবর্তন প্রকল্প ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। গ্রাহকদের বিনামূল্যে মিটার পরিবর্তনের বিষয়টি জানাতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও মাইকিং করা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হচ্ছে না।
নগরীর নয়াসড়ক এলাকার পোশাক ব্র্যান্ড সেইলরের আউটলেট ম্যানেজার এমডি নাইম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা ২০ দিন আগে নতুন মিটার স্থাপন করেছি। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাজটি হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। পুরাতন মিটারে থাকা টাকাও ফেরত দেওয়ার আশ্বাস পেয়েছি।’
বিউবো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সিলেট-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন বলেন, ‘১৪ জুলাইয়ের ভোগান্তির পর আমরা দ্রুত গতিতে মিটার পরিবর্তনের কাজ শুরু করি। যারা এখনো মিটার বদলাননি, তাদের অনুরোধ করছি পরিবর্তনকারী দল গেলে যেন সঙ্গে সঙ্গে মিটার পরিবর্তন করেন। কারণ ৩১ অক্টোবরের পর প্রকল্প শেষ হয়ে যাবে। তখন গ্রাহকদের নিজের টাকায় মিটার কিনতে হবে। আমরা নতুন মিটার স্থাপনের পর পুরাতন মিটারের ব্যালেন্স ফেরত দিচ্ছি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। গ্রাহকদের কোনো ক্ষতি হবে না। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি বিনামূল্যে নতুন মিটার স্থাপন করে ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়িয়ে চলুন।’