বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সিলেটের তামাবিল সীমান্তে অবস্থান করছেন। আজ শনিবার সকালের একটি ফ্লাইটে সিলেট আসার পর তামাবিল সীমান্ত এলাকায় যান। তাকে যে পথ দিয়ে গুম করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তিনি সেই স্থান পরিদর্শন করেন। তাকে নিয়ে তামাবিলে গুম করার দৃশ্যপটের ভিডিও ধারণ করা হয়।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১০ মে সন্ধ্যায় তাকে এই পথে ভারতের শিলং নেওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম-খুন নিয়ে ডকুমেন্টারি করা হচ্ছে। সেই ডকুমেন্টারির অংশের শ্যুটিংয়ে অংশ নিতে তিনি তামাবিল সীমান্তে যান।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ গুম হওয়ার ৬৩ দিন পর তাকে ভারতের শিলংয়ে পাওয়া যায়। শিলংয়ে আইনি জটিলতা ও মামলা মোকাবিলা করার কারণে তিনি প্রায় ৯ বছর ভারতে অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পথ সুগম হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর। ৬ আগস্ট তিনি ভ্রমণ অনুমোদন বা ট্রাভেল পাস পান। ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ। দেশে ফেরার ১০ মাস পর ৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তিনি সরাসরি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গিয়ে এ অভিযোগ দাখিল করেন।
শ্যুটিং চলাকালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মিফতাহ সিদ্দিকীসহ বিএনপির স্থানীয় বিএনপির নেতারাও তামাবিল এলাকায় ছিলেন। এর আগে সকালে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সিলেট এলে শনিবার সকালে একটি ফ্লাইটে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন।
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, এমএ মালিক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির -সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আওয়ামী সরকারের আমলে সিলেটের তামাবিল সীমান্তে গুম হওয়ার বিষয়ে একটি ডকুমেন্টারির শ্যুটিংয়ে তিনি সিলেটে এসেছেন। এ কাজ শেষ হলে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে যাবেন।’ সিলেটে নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো আলোচনা কিংবা সভা হবে কি-না এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো প্রোগ্রাম নেই।’
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন শিলং থাকাকালে সিলেট নগরীর ও তামাবিল এলাকার স্থানীয় দুই নেতার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। তামাবিলে গুম কাহিনির সচিত্রকরণের শ্যুটিংকালে ওই দুই নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের একজন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শ্যুটিং হলেও সালাহউদ্দিন প্রতিটি স্থানে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলেন। দৃশ্যত তিনি আগের অবস্থানে ফিরে যেতে দেখেছেন। এতে করে চিত্রায়নে সেই অবিকল অবস্থা ধারণ সম্ভব হয়েছে।’
মাহফুজ/