ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডলার স্থিতিশীল, বেড়েছে ইউরো ও পাউন্ডের দাম রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত ১৯৭৮ সালে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট বাবা, ৪৮ বছর পর একই মাঠে প্রধানমন্ত্রী ছেলে সিলেটে বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন চা শ্রমিকরা ‘সমর্থকরা আর্জেন্টিনার এই দলকে নিয়ে পাগল’, ইতিহাস গড়ার পর মেসি সিলেট পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে ইতিহাস বদলানোর হুঙ্কার টমাস টুখেলের ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও ১১৪ বছরে শেষ হবে না মাস্কের সম্পদ প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান ভুট্টু গ্রেপ্তার আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির হুমকি, ‘সাংবাদিকতা ছুটিয়ে দেব’ ৬০ বছরের অপেক্ষা বনাম ক্রোয়াট ধারাবাহিকতা নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি জাহাঙ্গীরনগরে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দায়মুক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুনঃতদন্তের দাবি লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয় প্রকল্পের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত কালুখালীতে অগ্নিদগ্ধ মরদেহ: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ ওমরাহ যাত্রীদের অর্থ আত্মসাৎ: দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে মামলা নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ ধামরাইয়ের কালামপুর সাব-পোস্ট অফিস: নাক-মুখ চেপে নিতে হয় সেবা বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
Nagad desktop

ঝিনাইদহে টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ লুট

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৫ এএম
ঝিনাইদহে টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ লুট
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহে হরিণাকুন্ডুতে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অধীনে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা লুট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আজিজুর রহমান। ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তিনি।

শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়বৃদ্ধির জন্য গৃহীত এসব প্রকল্প দারিদ্র্যবিমোচনে কোনো উপকারে আসেনি।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের আগেই ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে উপজেলার কাপাশহাটিয়া ও ভায়না ইউনিয়নের রাস্তায় মাটি ভরাটের
কাজ শেষ করা হয়েছে।

এ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির আওতায় ১৭টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার ২৫৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাবিটা ৩য় ধাপে ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ১২৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাবিটার নয়টি প্রকল্পে ৭৬ দশমিক ৬৪ মেট্রিক টন গম ও ৩০ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচির আওতায় ৩৯টি প্রকল্পের অধীন প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ৯৭ লাখ ৪১ হাজার ১১৯ টাকা এবং ৩য় ধাপে ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৫৫৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পৌরসভায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৪ লাখ ৯৭ হাজার ১২৭ টাকা।

ঝিনাইদহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কর্ণধার কমিটির সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ উপজেলায় টিআর, কাবিখা এবং কাবিটা প্রকল্পে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ১৯২ টাকা এবং ১০৭ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় অস্তিত্বহীন প্রকল্প দিয়ে সরকারি এ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।

উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের তৈলটুপি মিঠুনের বাড়ি হতে ইমানের জমি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নে বরাদ্দ ৩ লাখ ৯০ হাজার, বাকচুয়া দক্ষিণপাড়া ব্রিজ থেকে খবিরের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ও ম্যাকাডম করনে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ওই ইউনিয়নে তিনটি কাবিটা প্রকল্পে ১১ লক্ষাধিক টাকা, টিআর পাঁচটি প্রকল্পে ২০ লক্ষাধিক টাকা এবং ৮ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্ব স্ব প্রকল্পের সভাপতি (পিআইসি) নামমাত্র কাজ করেই বিল তুলে টাকা মেরে খেয়েছেন।

জোড়াদহ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাঙলির বিলের কাবিল মোল্লার জমি থেকে জাকেবের জমি অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬৪ টাকা। এ ইউনিয়নে একাধিক প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

তাহেরহুদা ইউনিয়নের তাহেরহুদা গ্রামে মন্ডলপাড়া মাহাবুলের বাড়ির সামনে হতে ছোট ক্যানেল হয়ে ব্রিজ অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, শ্রীপুর গ্রামের পাকড়াতালার মাঠ নারায়ণকান্দি অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং নারায়ণকান্দি বালে পাড়া মসজিদের সামনে থেকে পূর্বদিকে শ্রীপুর ব্রিজ অভিমুখে রাস্তা উন্নয়নে ৮ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ দেয়া হলেও এসব প্রকল্পে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে রামচন্দ্রপুর আবু বকর জমি হতে গোপালনগর বিলের অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৫ টাকা, সোনাতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে পাকা রাস্তা হতে খালের অভিমুখে রাস্তা পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, কেষ্টপুর চরের মাঠে আমতলা হতে ব্রিজের অভিমুখে রাস্তা পুনর্নির্মাণ বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং দৌলতপুর ব্রিজ হতে দুবলোকুড়ির মাঠের অভিমুখে রাস্তা পুনর্নির্মাণে ৮ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ ছিল। এসব প্রকল্পে কাজ না করেই প্রকল্প সভাপতির (পিআইসি) নামে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ অন্তত ১১টি প্রকল্পে আংশিক কাজ দেখিয়ে এবং আরও ৫টির অধিক প্রকল্পে একেবারেই কোনো কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা ৪০ দিনের কর্মসূচিতে তালিকাভুক্ত ২৩৭ জন শ্রমিকের নামে প্রায় ৭০ লাখ টাকা কাজের নামে আত্মসাৎ করা হয়েছে, যা সরকারি অর্থ লুটের এক জঘন্য দৃষ্টান্ত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও সামান্য ধুলো মাটি ফেলে দায়সারা ভাবে কাজ করা হয়েছে, আবার কোথাও কোনো কাজই হয়নি। ছয় ইঞ্চি রাস্তা করার কথা থাকলেও মাত্র তিন ইঞ্চি করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। একই রাস্তা একাধিক প্রকল্পে দেখিয়ে একাধিকবার বিল তোলার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রামচন্দ্রপুর, দখলপুর, সোনাতনপুর, দৌলতপুর, কেষ্টপুর, মৃগীবাথান, গোবরাপাড়া ও রিশখালীসহ ইউনিয়নের অন্তত ১৫টির অধিক প্রকল্পে কাজ না করেই নগদ অর্থ তোলা হয়েছে।

মৃগীবাথান গ্রামের রায়হান উদ্দিন বলেন, আমরা নিজেরা রাবিশ ফেলে রাস্তা ঠিক করেছি। পরে শুনি চেয়ারম্যান ওই রাস্তায় সরকারি প্রকল্প দেখিয়ে বিল তুলে নিয়েছেন।

ওই এলাকার রাজন আলী জানান, তারা কোনো প্রকল্পের ব্যাপারে জানতেন না। কাগজপত্র দেখে জানতে পেরেছেন প্রকল্পের টাকা চেয়ারম্যান সব তুলে নিয়েছেন। বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি প্রভাষক আনিসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চেয়ারম্যান সরকারি অর্থ লুটপাট করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে চেয়ারম্যান ওই ইউনিয়নে কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। সাময়িক নয় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে জেল-জরিমানার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের শিতলী মাঠের ভেতর এইচবিবি রাস্তা হতে ইদ্রিস আলীর জমি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা পুনর্নির্মাণে ১৫ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও বাইরে থেকে কিছু মাটি এনে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেখানে কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। শিতলী মাঠের ভেতর ফটিক আলী জোয়ার্দ্দারের জমি থেকে বিশারতের জমি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা পুনঃনির্মাণে টিআর প্রকল্পে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার ২২৪ টাকা এবং শিতলী গ্রামের এইচবিবি রাস্তার মাথা হতে খালের মাথা পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ ও উন্নয়নে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কিসমত ঘোড়াগাছা মিনারের বাড়ি মেইন রাস্তা হতে বিলের মাঠ অভিমুখে রাস্তা মাটি ভরাট ও মেকাডাম করন ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে এসব বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ছাড়া কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের শাখারীদহ আলতাফের বাড়ি থেকে খলিশাকুড়ো বিলের অভিমুখে ভাগাড়ের (সরকারের খাসজমি) কিনারা থেকে মাটি নিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এ প্রকল্পে রাস্তায় মাটি ভরাট বাবদ ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭২০ টাকা (কাবিটা) এবং ১০টি টিআর প্রকল্পে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা এবং ৯ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কাপাশাটিয়া গ্রামের শফি উদ্দিন খবরের কাগজকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা দাঁড়িয়ে থেকে ভেকু দিয়ে ভাগাড়ের মাটি ভাগাড়েই দিয়েছেন।

ওই এলাকার রিজিয়া খাতুন জানান, শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার কথা থাকলেও ভেকু দিয়ে রাস্তার মাটি রাস্তায় দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারি টাকা চেয়ারম্যান-মেম্বাররা মেরে খাওয়ার জন্য নামমাত্র কাজ করেছেন। ফলসি বোয়ালিয়া বিশ্বাস বাড়ি কবরস্থান থেকে চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত পুকুরের দুই পাড়ের রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ও সংস্কার ২৯৪০০০ রঘুনাথপুর ইউনিয়নের মন্ডলতোলা কুমরোল এবং নতুন ব্রিজ হতে ডা. ওহাবের মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কারে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫১ টাকা, চর আড়ুয়াকান্দি ভিটের মাঠ মকছেদের বাড়ির পাশের মসজিদ হতে নজরুলের বাড়ি রাধানগর অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কারে ৭ লাখ টাকা, পোড়াহাটি আব্দুর রশিদের বাড়ি হতে জামালের বাড়ি অভিমুখে মাটি দ্বারা রাস্তা উন্নয়ন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং কালাপাডিয়া টি-২০ খাল থেকে জোড়াপুকুর মাঠ অভিমুখে রাস্তায় মাটি ভরাট বাবদ ২ লাখ টাকা ছাড়াও একাধিক প্রকল্পে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন এসব প্রকল্পে কাজ করা হয়েছে বলে জানান।

উপজেলায় কয়েকটি প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। ২০২৪- ২০২৫ অর্থবছরের কাজ জুলাই-আগস্ট মাসে করতে দেখা গেছে। আবার কিছু প্রকল্পে একেবারেই কাজ করা হয়নি। প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। লুটপাট করার জন্যই এমনটি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ তদারকি না করেই গত ২৬ জুন সমুদয় বিল ছাড় করেছেন।

দেখা গেছে, সামান্য মাটি কাটার কাজ করে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরকারি অর্থ অপচয় এবং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আজিজুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতিরা (পিআইসি) বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে কাজ করেননি।

তিনি আরও বলেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের কাজ সারাদেশে যেভাবে হয়ে থাকে হরিণাকুন্ডু উপজেলায়ও সেভাবেই হয়েছে। উপজেলার যেসব প্রকল্পে কাজ হয়নি সেসব প্রকল্পে সভাপতির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে। কাজ না করেই ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বলেন কাজ না করলে সরকারি অর্থ ফেরত দিতে হবে।

এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বি এম তারিক-উজ-জামান বলেন, আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং কাজ না করেই সরকারি অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মাহফুজুর/মেহেদী/

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজারবাসী
প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ উপলক্ষে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত প্যান্ডেল। ছবি: খবরের কাগজ

একগুচ্ছ স্বপ্ন ও দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বুকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন প্রবাসী ও পর্যটন-অধ্যুষিত চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার লাখো মানুষ।

বুধবার (১৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম মৌলভীবাজার সফরে আসছেন তিনি।

প্রশাসন, বিএনপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ঢাকা থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে মৌলভীবাজার আসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং পরে মৌলভীবাজার জেলা সদরের মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।

এই কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবার এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারকে তৃতীয় পর্যায়ের পাইলট কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে জেলাবাসীর মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে নতুন করে পুরোনো দাবিগুলো আলোচনায় ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রবাসীবহুল ও পর্যটন এলাকা হিসেবে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, জেলার হাওরগুলোর উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণসহ নানা দাবি সামনে এসেছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, ‘মৌলভীবাজারের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। প্রধানমন্ত্রীর সফর জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আমরা আশা করছি।’

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো উপস্থাপন করব।’

পুলক/রিফাত/

নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
নওগাঁ সীমান্তে স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি
নওগাঁ সীমান্তে ৭০ উর্ধ্ব সন্দেহভাজন ব্যক্তি। ছবি:খবরের কাগজ

নওগাঁ সীমান্তে ৭০ বছর বয়সী সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর (বিজিবি) কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যার ঠিক আগে নওগাঁর চকিলাম বিজিবি বিওপির আওতায় চকশবদল সীমান্ত থেকে তাকে আটক করা হয়।

নওগাঁ ১৪ বিজিবি ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার কিছু আগে চকিলাম এলাকায় লুঙ্গি-গেঞ্জি পরিহিত বয়স্ক এক ব্যক্তিকে ঘুরতে দেখেন স্থানীয়রা। সন্দেহ হলে তাকে আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দেন গ্রামবাসী। তবে তিনি তার নাম ঠিকানা কিংবা পরিচয় কিছুই বলতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে সে মানসিক প্রতিবন্ধী। এরই মধ্যে বিষয়টি স্থানীয় বিএসএফ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

অধিনায়ক জানান, ১৪ বিজিবির আওতাধীন পুরো সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার আছে। কোনো ভাবেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরে অবৈধভাবে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত লোক দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসীও বিজিবিকে সহযোগিতা করছেন।

গত ৫ জুন নওগাঁর হাপানীয়া ও ৭ জুন নীতপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে তা বিজিবির প্রতিরোধের মুখে ভারত অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

হারুন/আজহার

সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
সিলেট নগরীর ৪টি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে বুধবার মৌলভীবাজার যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই তাকে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপি। এ উপলক্ষে নগরীর চারটি পয়েন্টে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন।

 বুধবার  (১৭ জুন) মৌলভীবাজার সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি সড়কপথে সিলেট নগরী হয়ে মৌলভীবাজার যাবেন। সেখানে তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেট বিভাগ সফর করছেন তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের পাশাপাশি সিলেট জেলাতেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

সিলেট মহানগর বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সিলেট নগরীর চৌকিদেখী পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, কুমারপাড়া-নাইরপুল পয়েন্ট এবং উপশহরের রোজভিউয়ের সামনে থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর পয়েন্টে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন। প্রতিটি পয়েন্টে মনিটরিংয়ের জন্য দুইজন সহ-সভাপতি ও দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন।

চৌকিদেখী পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি জিয়াউল গনি আরিফিন জিল্লুর ও সাদিকুর রহমান সাদিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার ও মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব।

আম্বরখানা পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ১, ২, ৩, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া ও মাহবুব কাদির শাহী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা বেলায়েত হাসান লিটন, শাহনেওয়াজ বক্ত তারেক ও মতিউল বারী খুর্শেদ।

কুমারপাড়া থেকে নাইরপুল পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি আমির হোসেন ও সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুয়াইব আহমদ শোয়েব ও রেজাউল করিম আলো।

উপশহরের রোজভিউয়ের সামনে থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি এবং ছাত্রদল, তাঁতীদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। নেতৃত্ব দেবেন সহ-সভাপতি সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল ও আফজাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হাসান মঞ্জু, নাদির খান ও আবুল কালাম।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে উৎসবমুখর পরিবেশে সফল করতে মহানগর বিএনপি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা করেছে। সভায় সিলেট নগরীর চারটি পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেতা-কর্মীদের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সফল ও উৎসবমুখর করতে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

রিফাত/

শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
শাহরাস্তিতে নারীর পেট থেকে ৩ কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি টিউমার অপসারণ। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ২২ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় তিন কেজি ওজনের একটি টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে একই হাসপাতালে আরেক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের বিশাল টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব ও ব্যথা অনুভব করছিলেন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে বড় আকারের টিউমার শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচারে রোগীর পেট থেকে টিউমারটি অপসারণ করা হয়।

অস্ত্রোপচারকারী সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান বলেন, রোগী দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়। সফলভাবে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। রোগী এখন শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশ নিহত
ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) নুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকচাপায় ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) নুরুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়ক এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. ত‌রিবুর রহমান আহত হয়েছেন। তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার মৃত সিরাজউদ্দিনের ছেলে। এঘটনায় পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড় এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছিলেন এটিএসআই নুরুল ইসলাম। এ সময় ঢাকা অভিমুখী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকটি রং সাইড ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দায়িত্ব পালনরত এটিএসআই নুরুল ইসলামকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রাকচালককে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মোফাকখারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটিএসআই নুরুল ইসলাম অত্যন্ত কর্মঠ, দায়িত্বশীল ও সৎ একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিকেলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ঢাকা অভিমুখী একটি ডিসট্রিক্ট ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিশির/রিফাত/