মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাহেবপাড়া গ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ছেলের মৃত্যুর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই মায়েরও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। মায়ের এমন মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ২টা ১৫ মিনিটে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান সাহেবপাড়ার বাসিন্দা আনছার আলীর ছোট ছেলে আব্দুল আওয়াল (৪১)। তিনি কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছিলেন।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। প্রিয় ছেলের মরদেহ দেখতে গিয়ে মা রেহেলা আক্তার (৬৯) শোকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে চিরতরে নিস্তব্ধ হয়ে যান তিনিও। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, আওয়াল ছিলেন শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। স্থানীয় বাজারে ওষুধের দোকান চালাতেন তিনি। চার ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। রেখে গেছেন এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলের মরদেহ বাড়িতে আনার পর মাটিতে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন রেহেলা। একটু পরেই হঠাৎ চুপ হয়ে গেলেন। যেন ছেলের ডাক শুনে একসঙ্গে চলে গেলেন মা। মা ছেলের সম্পর্কটা কতটা গভীর হতে পারে এ ঘটনাই তার প্রমাণ।
আওয়ালের বড় ভাই মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান জানান, ‘ছোট ভাইয়ের মৃত্যু আমাদের জন্য সহ্য করা কঠিন ছিল। কিন্তু মা যেভাবে মুহূর্তেই চলে গেলেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
আসাদ জামান/মৌসুমী/