শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলা ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সাংবাদিকসহ আটজনকে আসামি করে আদালতে মামলা হয়েছে। এই মামলার চার নম্বর আসামি স্টার নিউজের সাংবাদিক মিরাজ শিকদার।
সাংবাদিক মিরাজ শিকদারের দাবি, ‘ঘটনার সময় তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন’, যা ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে। ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে সংবাদ প্রকাশ করায় পূর্বের ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ তার।
ভুক্তভোগী, পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, সুজিত কর্মকার রবিবার (৭ জুন) সকালে অটোরিশায় করে বিদ্যালয়ের ফটকে আসলে কয়েকজন তরুণ টেনেহিঁচড়ে তাকে মারধর শুরু করেন। সুজিত কর্মকারকে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে সেখান থেকে সরিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এই ঘটনায় সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সুজিত কর্মকার আটজনের নামোল্লেখ ও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
মামলার আসামীরা হলেন- ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন (৫০), আশিক বেপারী (৩৫), সাহিন মাদবর (৫২) মিরাজ সিকদার (৪৫), মিঠু শিকদার (২৫), শাহ-আলম (৪২), ইপ্তি সরদার (৩০) ও আলিফ সিকদার (২৮)।
৭ জুন সকালের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সুজিত কর্মকারকে যখন মারধর করা হচ্ছিল, তার অদূরে দাঁড়িয়ে অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে স্টার নিউজের সাংবাদিক মিরাজ শিকদার ভিডিও ধারণ করছেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে মামলার আসামি হয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন মিরাজ শিকদার। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সুজিত কর্মকার ফ্যাসিস্টের দোসর ছিল। সে সাবেক সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের সঙ্গে আঁতাত করে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়াও তিনি অনেক শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। আমি তখন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তার ঘটনার নিউজ করেছিলাম। সেই ক্ষোভেই তিনি মারধরের ঘটনায় আমাকে আসামি করেছেন।’
মামলায় সাংবাদিককে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সুজিত কর্মকার খবরের কাগজকে বলেন, ‘মারধরের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মিরাজ শিকদার। ওনি আর সরকারী প্রধান শিক্ষক যোগসাজ করে ওনাদের বাহিনী দিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে সে ভিডিও ধারণ করেছে।’
এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা আদালত থেকে এখন পর্যন্ত মামলার কাগজ হাতে পাইনি। পেলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’
বিধান মজুমদার অনি/খাদিজা রুমি/