নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জেলেরা মধ্যরাত থেকে মাছ শিকারে সাগরে নেমেছেন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় অনেক জেলে ঘাটে ফিরে এসেছেন। এতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে হাতিয়ার বিভিন্ন ইলিশ ঘাটে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বুড়িরচর সূর্যমুখী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাপারীরা মাছ কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঘাটের শ্রমিকরা টুকরিভর্তি মাছ মাথায় করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন, আর ব্যাপারীরা সেই মাছ ডাকে তুলে বিক্রি করছেন।
সূর্যমুখী ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, ‘খুব ভোর থেকে বাজারে মাছ কেনা-বেচা শুরু হয়েছে। জেলেরা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদী থেকে ভালো মাছ নিয়ে ফিরেছেন। তাদের জালে এবার ভালো ইলিশ ধরা পড়েছে।’
স্থানীয় মাঝি আব্দুল কাদের জানান, রাত ১২টার পর সাগরে গিয়েছিলেন, সকালে ঘাটে ফিরে এসেছেন তিন মণ মাছ নিয়ে। আকারে কিছুটা ছোট ইলিশ পেলেও দামে ভালো থাকায় লাভ হয়েছে বেশ।
তিনি বলেন, ‘এখন আবার নদীতে যাব। গত কয়েকদিন মাছ ধরায় লাভ ছিল না। যদি এভাবে এক সপ্তাহ মাছ পাই, তাহলে আগের ক্ষতি পুষিয়ে ভালো লাভ হবে।’
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আগেও জেলেদের কিছু অভিযোগ ছিল। তারা দাবি করেছিলেন, ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৩ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু করা উচিত ছিল। কারণ নিষেধাজ্ঞার আগেই নদীতে ভালো ইলিশ ধরা পড়ছিল। সেই সময় ভারতীয় জেলেদের আগ্রাসন ঠেকাতেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন তারা।
সবশেষে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ৪ অক্টোবর বিকেলেই ঘাটে ফিরে আসেন হাতিয়ার জেলেরা। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে শনিবার মধ্যরাত থেকে জেলার বিভিন্ন ঘাট থেকে সাগরে যান তারা। মৌসুমের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় যে হতাশা ছিল, প্রথম দিনেই ভালো মাছ পাওয়ায় তা কিছুটা কেটে গেছে। জেলেদের আশা, এভাবে মাছ মিললে আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সাকিব/রিফাত/