ছবি: খবরের কাগজ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাকরাইল জিরো পয়েন্টে পুশইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ) রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে দফায় দফায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহেশপুরের সামন্তা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শরিফের নেতৃত্বে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্য ও গ্রামবাসীদের নিয়ে সীমান্তে প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং পাহারা জোরদার করা হয়েছে।
মহেশপুর সীমান্তের যাদবপুর বিওপি এলাকায় পুশইনের ঘটনা বেশি ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন যানবাহনে করে মানুষ এনে জড়ো করা হচ্ছে। সুযোগ পেলেই যেকোনো সময় পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে।
এদিকে পুশইন রোধে মহেশপুর সীমান্তের অন্যান্য বিওপিতেও টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে পাকরাইল, চাঁদরতনপুর, কচুয়ারপোতা, বেলেয়াটি ও জীবননগর পাড়াসহ বিভিন্ন জিরো পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। বিজিবির নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) এবং সাধারণ গ্রামবাসীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গভীর রাত পর্যন্ত সীমান্তের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন তারা।
সামন্তা বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ পারাপার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব।
বর্তমানে পাকরাইল জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিনে মহেশপুর সীমান্তে পুশইনের ১০টি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত মহেশপুর সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশের (পুশইন) ঘটনা ঘটেনি। পুশইন মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দফায় দফায় বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।’
রিফাত/