রংপুরের তারাগঞ্জে দাদির কবরের মাটি তোলার ব্যাপারে প্রশ্ন করায় মারামারির ঘটনায় আব্দুল খালেক নামে এক যুবককে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।
শনিবার (১ নভেম্বর) উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর বড়বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা দুপুর ২টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক আধা ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এ ঘটনায় করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে আব্দুল খালেকের ভাই আব্দুল ছালেক তার দাদির কবর জিয়ারত করতে গেলে দেখা যায় কবরের মাটি তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুল ছালেক কবরস্থানের পাশের বাসিন্দা বাবু মিয়া ও লেবু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় বাবু মিয়া, লেবু মিয়া, চাঁন মিয়া, দুলাল মিয়া, আশেকুর রহমান, আব্দুল জব্বার, আবেদা বেগম, সোহানা বেগম ও তানিয়া বেগম দলবদ্ধ হয়ে দেশি অস্ত্র দিয়ে আব্দুল ছালেকের ওপর হামলা চালায়।
খবর পেয়ে আহত আব্দুল ছালেককে উদ্ধার করতে যান তার দুইভাই আব্দুল খালেক ও মাহবুবার। এরপর তাদেরকেও মারধর করা হয়। এ সময় খুন্তি দিয়ে আব্দুল খালেকের মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের বাড়ি পাশেই কবরস্থান। নিহত আব্দুল খালেকের দাদির কবরের ওপরে মাটি কেটে নেয় তারা। ফজরের নামাজ পড়ে কবর জিয়ারত শেষে আব্দুল ছালেক কবর জিয়ারত করতে গেলে মাটি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে মারধরের শিকার হন তিনি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাই আব্দুল খালেককে প্রাণ দিতে হল।
নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে আহাজারি করে বলেন 'আমার স্বামী নির্দোষ। কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব নাই, হামার কাম করি দিন যায়। ওরা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে বিনা দোষে মারলো, সন্তানদের এতিম করল, আমি তাদের ফাঁসি চাই।'
নিহতের ভাতিজা জান্নাতুল ইসলাম বলেন, 'আমার নির্দোষ চাচাকে মেরে ফেলেছে। আমার বাবা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমরা এ ক্ষতি কেমন করে পূরণ করব।'
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, 'পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আব্দুল খালেক। ৪০ শতক জমিই ছিল তাদের একমাত্র সহায়-সম্বল। তার মৃত্যুতে পরিবার এখন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে।'
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক বলেন, 'এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মহাসড়ক থেকে জনতাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যান বাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'
সেলিম সরকার/সুমন/