চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর দখল ও দূষণ বন্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের চেরাগি পাহাড় চত্বরে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও ভোরের আলো নামের সাতটি সংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- ক্ষমতার পালা বদলে কর্ণফুলী দখলদারদের তালিকা ভারী হয়ে চলেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনের র্নিলিপ্ততায় গত পনের বছর ধরে দখল হয়ে চলেছে কর্ণফুলী। ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দখলদারদের পক্ষে হাইকোর্টে মামলা লড়েছেন স ম রেজাউল করিম। তিনি মন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পর ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দখলদারদের পক্ষের আইনজীবি ছিলেন, ফজলে নূল তাপস। তিনি ঢাকার মেয়র হওয়ার পর মামলার দায়িত্ব নেন ঢাকার সাংসদ রহমত উল্লাহর জামাতা সাইয়েদ রাজা।
বর্তমানে দখলদারদের পক্ষে মামলা লড়ছেন বার কাউন্সিল সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারী। দখলদারদের পক্ষে রাজনৈতিক ক্ষমতাধর আইনজীবিরা মামলা লড়ার কারনে কর্ণফুলী দখল উচ্ছেদ ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পনের বছর দীর্ঘতর হয়েছে। দখলদারগণ একই বিষয়ে পর পর পাঁচটি রিট মামলা করেছে। সব কয়টি মামলার রায় দখলদারদের বিপক্ষে গেলেও বর্তমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্লিপ্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম নামের তিন সংগঠন গত ২ নভেম্বর এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্ণফুলী উচ্ছেদের আবেদন করেছে। কিন্তু আজকে পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেকে উচ্ছেদের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোন ধরনের আইনী প্রতিবন্ধকতা নাই। অতি দ্রুত কর্ণফুলীর সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে হাইকোর্ট ঘোষিত জীবন্ত সত্ত্বা হিসাবে কর্ণফুলীর প্রবাহধারা স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা না হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএ বিরুদ্ধে রিট পিটিশন নম্বর ৬৩০৬/২০১০ এ প্রদত্ত আদেশ অমান্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননা (কনটেম্পট অফ কোর্ট) মামলা দায়ের করা হবে।
মানববন্ধনে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সিনিয়র সহ সভাপতি মীর্জা ইসমাইল হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে জেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাওসহ কর্ণফুলী অচল করে দেয়ার কর্মসূচী দেয়া হবে। যারা ক্ষমতার ছায়াতলে থেকে দেশের সম্পদ লুট করছে বা সহযোগিতা করছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, গণ সংহতি আন্দোলনের নেতা ও পরিবেশ সংগঠক মারুফ হাসান রুমি, ভোরের আলোর সভাপতি সাংবাদিক সফিকুর রহমান সফিক, গ্রিন ফিংগার্স কো ফাউন্ডার আবু সুফিয়ান, বেলা চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সংকেত দেব, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এ পেয়ার আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, বেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার রেজাউল করিম রাজা প্রমুখ।