পাবনার ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) একটি হেয়ার প্রস্তুতকারক কারখানায় অক্সিজেন স্বল্পতায় অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ইপিজেড ক্লিনিক এবং ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে ইপিজেডের ‘বাংলাদেশ হাইজিনটন হেয়ার প্রডাক্ট কোম্পানি লিমিটেড’ কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সকালে নিয়মিত কাজের জন্য শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করেন। হেয়ার প্রডাক্ট উৎপাদন ফ্লোরে পৌঁছানোর পর অনেকে মাথা ঘোরা, গলা শুকিয়ে আসা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে থাকেন। কয়েকজন শ্রমিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। ১৮ জন নারী শ্রমিককে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এয়ার কন্ডিশন (এসি) বন্ধ থাকায় ভেতরে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিয়েছিল।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি শ্রমিকেরা জানান, কাজে এসে অস্বস্তি লাগে। গলা শুকিয়ে আসে, মাথা ঘোরে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কয়েকজন ঢলে পড়লে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ড. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘সাড়ে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক আসে। তাদের মধ্যে ৩১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। সবাই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। ভর্তি রোগীরাও এখন স্থিতিশীল।’
বাংলাদেশ হাইজিনটন হেয়ার প্রডাক্ট কোম্পানি লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (এইচআর অ্যাডমিন) রাশেদুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘ঘটনা বড় কিছু নয়। এসি বন্ধ থাকায় ভেতরে অক্সিজেন কমে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কেউ আশঙ্কাজনক নয়।’
ঈশ্বরদী ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানার এসি বন্ধ থাকায় এ ঘটনা ঘটে। কয়েকজন অসুস্থ হলেও আতঙ্কে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সবাই চিকিৎসা পেয়েছেন।’
জাহাঙ্গীর/রিফাত/