চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি করেন ডা. অপর্ণা বড়ুয়া। একই সময়ে তিনি মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি করেন ফোরএইচ গ্রুপ নামে একটি পোশাক কারখানায়। তার সেই চাকরিটিও স্থায়ী। একসঙ্গে দুটি স্থায়ী চাকরি করছেন তিনি। অর্থাৎ বেতন সরকার থেকে নিলেও কাজ করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডা. অপর্ণা বড়ুয়া প্রাইভেট চাকরিতেই বেশি সময় দেন। সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোনো রকমে হাজিরা দিয়ে চলে যান। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কানে গেলেও তারা কখনো তেমন গুরুত্ব দেয়নি। সেই কারণে অপর্ণা বড়ুয়া নিজের ইচ্ছেমতো চাকরি করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. অপর্ণা বড়ুয়া খবরের কাগজের কাছে দুটি চাকরি করার কথা স্বীকার করেন। চাকরিবিধি অনুযায়ী সেই সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সুযোগ নেই। তবে অন্য অনেক চিকিৎসক একসঙ্গে দুটি চাকরি করেন। তাদের যেহেতু কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তাই আমিও মনে করি একসঙ্গে দুটি চাকরি করলে কোনো সমস্যা হবে না। বাড়তি আয়ের জন্য বেসকারি প্রতিষ্ঠানে আরেকটি চাকরি নিয়েছি। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে আমার দ্বিতীয় চাকরি করা ঠিক হচ্ছে না, তাহলে সেই চাকরি ছেড়ে দেব।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা. অপর্ণা বড়ুয়া ফোরএইচ গ্রুপে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন। ২০১৭ সালে তাকে ফোরএইচ গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে রোগী দেখেন। রোগী দেখা প্রসঙ্গে ডা. অপর্ণা বড়ুয়া দাবি করেন, তিনি পোশাক কারখানায় রোগী দেখেন বিকেলে। তাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর সেবা দিতে কোনো সমস্যা হয় না।
সনাক-টিআইবি চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকারি কোনো চাকরিজীবী যদি বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান, তাহলে সরকার তথা তার মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিতে হবে। এটিই নিয়ম। আর কেউ যদি নিয়মের কথা জেনেও অনুমতি না নিয়ে একসঙ্গে দুটি চাকরি করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আর নিয়ম না জেনে দুটি চাকরি একসঙ্গে করলে সেটিও অপরাধ।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘একজন মেডিকেল অফিসার একসঙ্গে দুটি চাকরি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি শুনলাম। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’