ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল ৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা নোংরা পানিতে সয়লাব খুলনার প্রবেশদ্বার সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪ গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য হাবিপ্রবির গবেষণায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে লিচুর ক্ষতিরোধ সম্ভব দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লোডশেডিং ও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার পর্যটনে ধস খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধিতে রডের দাম টনে বাড়তে পারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য সাক্ষাৎকার শেষ না করেই চলে গেলেন ট্রাম্প ১০ কার্যদিবস পর কমল সূচক, লেনদেনেও ভাটা বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন ৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল শির উ. কোরিয়া সফরের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চমৎকার ফুল ক্রোসান্দ্রা স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না ৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ
Nagad desktop

সোনারগাঁয় মাদকসহ তিনজনকে আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিল পুলিশ!

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২১ এএম
সোনারগাঁয় মাদকসহ তিনজনকে আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিল পুলিশ!
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকসহ তিনজনকে আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

গত বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) তাদের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের জামপুর ইউনিয়নের পাকন্ডা চেকপেষ্ট এলাকা থেকে ১২ বোতল বিদেশি মদসহ আটক করে। পরে তিন আসামিকে পরদিন শুক্রবার সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠায়। ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

তবে মাদকসহ আসামি আটকের বিষয়টি তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ আব্দুল হক স্বীকার করলেও টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

জানা গেছে, তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. নাসিরউদ্দিন এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে চেকপোষ্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালায়। এ সময় বস্তল থেকে ভুলতা যাওয়ার পথে একটি সিএনজিচালিত রিকশা (নারায়ণগঞ্জ-হ -১১২৯০৫) তল্লাশি করে। পুলিশ তাদের সঙ্গে থাকা বাজারের ব্যাগ ভর্তি ১২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। মদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অটোরিকশার যাত্রী কাঁচপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের মো. শামীম (২৪), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার মহদী গ্রামের শুভ দেবনাথ (২৮) ও অটোরিকশাচালক সাইদুর রহমান সাদু মিয়াকে (৪৫) অটোরিকশাসহ আটক করে।

পরদিন শুক্রবার সকালে আসামিদের আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে তাদের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ১৫১ ধারায় সোনারগাঁ থানার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠায়। ওই দিন বিকেলেই তিন আসামি আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে ফাঁড়ি থেকে তাদের অটোরিকশা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তবে উদ্ধার হওয়ার ১২ বোতল মদের কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি।

জব্দ তালিকার সাক্ষী অপর অটোরিকশাচালক জামাল হোসেন জানান, পুলিশ পাকুন্ডা ব্রিজে রাতে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করে ১২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। এএসআই নাসির সাদা কাগজে জব্দ তালিকায় তার স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের এএসআই মো. নাসিরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে পড়ে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনজনকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। কি মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে কোনোপ্রকার টাকার লেনদেন হয়নি বলে দাবি করেন।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান জানান, ফাঁড়ি পুলিশ কোনো আসামি আটক বা গ্রেপ্তার করলে তারা ফরওয়ার্ডিং লিখে থানায় হস্তান্তর করে। সেই ফরওয়াডিংয়ের ভিত্তিতে আসামি আদালতে পাঠানো হয়। ফাঁড়ি পুলিশ ওই আসামিদের বিষয়ে কী করেছে তা তিনি জানেন না।

ইমরান/মেহেদী/

জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল
আটক ব্যাক্তি। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মো. রাহিম (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন জব্দ করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনের চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়। 

আটক মো. রহিম গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিশেষ অভিযান চলাকালে মোটরসাইকেলে করে চেকপোস্ট অতিক্রমের সময় রাহিমকে থামানো হয়। এ সময় আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার শরীরে তল্লাশি চালানো হয়।

এক পর্যায়ে তার কোমরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় তিনটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি এবং তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটিও জব্দ করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ত্রসহ আটক রাহিম স্থানীয় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের জামায়াতে প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাতে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ ইসহাক খন্দকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

ইকবাল হোসেন মজনু/অন্তরা

যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা
ছবি: খবরের কাগজ

কৃষকের ঘাম আর মাটির গন্ধে গড়ে ওঠে দেশের খাদ্যভাণ্ডার। সেই কৃষিকেই আরও আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি।

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রকল্পভুক্ত কৃষক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমিল্লা অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন ‘টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষকদের মধ্যে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। উদ্যোগটির লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রম ও সময় সাশ্রয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তামান্না ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আয়েত আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা খবরের কাগজকে বলেন, 'কৃষিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উৎসাহিত করতে প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে, শ্রম সাশ্রয় হবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে'।

মাঠের পরিশ্রমকে সহজ করতে কৃষকের হাতে প্রযুক্তির এই সহায়তা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকের হাতে আধুনিক যন্ত্র পৌঁছে দেওয়ার এমন উদ্যোগ কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলবে-এমন প্রত্যাশাই সবার।

জুটন বনিক/থিও

সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশভর্তি ট্রাকে মুরগিবাহী একটি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে নূরনবী (৬৪), নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মো. পলাশের ছেলে রফিকুল (১৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ভোলা জেলার মো. সেলিমের ছেলে সুমন (২৬)। সুমন রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহত হন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীন্দর গ্রামের আফসার আলী মণ্ডলের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪০)। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া বাজার-সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় একটি ট্রাকে বাঁশ বোঝাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় বড়চওনা থেকে আসা দ্রুতগতির মুরগিবাহী পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাঁশভর্তি ট্রাকে থাকা একজন গুরুতর আহত হন।

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জুয়েল রানা/সালমান/ 

বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি
বরিশালের ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

আগামী আগস্টে বরিশালে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য এখনো কোনো জনবল কাঠামো তৈরি করা হয়নি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত বিভাগের দুই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ছয়টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে এটির কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

  • আগামী আগস্টে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো জনবল কাঠামো তৈরি হয়নি
  • অবকাঠামোগত অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ
  • ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ৭ বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি

এদিকে হাসপাতালটির ভবন স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চললেও পানি ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ২০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে নির্মিত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৫টি বেড স্থাপন করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা, আইসিইউ বেড, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজও শেষ হয়নি। ফলে আগস্টে হাসপাতালটি পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় উদ্বোধন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টে দেশের নবনির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় বরিশাল শিশু হাসপাতালকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।

বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের সাত বছর পরও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উপযোগী করা যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবন প্রস্তুত হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল ছাড়া কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক শিশু বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভবন হস্তান্তরের পরও হাসপাতালটি চালুর আগে অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। শিশুদের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক ইউনিট এবং কার্যকর জরুরি বিভাগ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ভবন তৈরি হলেই হাসপাতাল চালু করা যায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে সাময়িকভাবে হাসপাতাল চালানোর কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ধার করা চিকিৎসক দিয়ে একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

এই চিকিৎসকের মতে, ২০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিতে আসতে পারে। সেই বিবেচনায় চিকিৎসক, নার্স, আয়া, টেকনোলজিস্ট, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্তত ৬০০ জন জনবল প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখনই জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করলে আগস্টের মধ্যে কার্যকরভাবে হাসপাতাল চালু করা কঠিন হবে। শিশুদের জন্য আইসিইউ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের বিষয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

বরিশালের নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটির অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করতে হবে। শুধু উদ্বোধনের জন্য হাসপাতাল চালু করে পরে সেবাদান ব্যাহত হলে তার ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।

তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলার শিশুরা এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করবে। তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া হাসপাতাল চালু করা উচিত হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল মোনায়েম সাদ বলেন, আগে শিশু হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর ছিল। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় সেই দায়িত্ব বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৭ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, বরিশাল শিশু হাসপাতালের ভবন গ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন, পদ সৃজন, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ হাসপাতাল চালুর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো অনুমোদন হয়নি। আপাতত বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, ভবনের বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির সাবস্টেশন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান আছে। প্রয়োজনীয় জনবলসংক্রান্ত তালিকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে প্রাথমিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, হাসপাতালটিতে অস্থায়ীভাবে তিন ফেজ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শুধু ছাদের জলরোধী কাজ এবং স্থায়ী সাবস্টেশন ও জেনারেটর স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবশিষ্ট কাজগুলো জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি।’

জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা
প্রখ্যাত লোকজশিল্পী অনিল হাজারিকা বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছেন। ছবিটি সম্প্রতি মাগুরার শালিখা উপজেলার তিলখড়ি গ্রামে তার বাড়ি থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

‘ঠিলে ধুয়ে দে বৌ, গাছ কাটতি যাবো’খ্যাত লোকসংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী অনিল হাজারিকা আজ বার্ধক্য, অসুস্থতা ও চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। একসময়ে যিনি বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের হাসি-কান্না, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক ভাষাকে গান ও সুরে রূপ দিয়েছেন, লোকজ কণ্ঠের সেই প্রাণপুরুষ আজ জীবনসংগ্রামে দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলা লোকসংগীতের জন্য স্মরণীয় বছর ১৯৭৯ সালে অনিল হাজারিকা তার কালজয়ী অডিও ক্যাসেট ‘কিডারে’ প্রকাশ করেন। এর পর পরই অ্যালবামটি দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে, যা এখনো বিরাজমান।

অনিল হাজারিকার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে–‘আমগাছে ঢেলা মারে কিডারে’, ‘এ যুগের ছেলেরা বোঝে না’, ‘বৌ বাবার বাড়িতে’, ‘আমাদের দৈনিক হাটবারে’, ‘খাজুরগাছে চোমর বারোইছে’, ‘রস গুড় পাটালি বেচে’, ‘সন্ধ্যা রস ঝাড়ে এনে’, ‘কাঁচিপুড়া পিটে বানায়ে’ ও ‘বালি চুঙো আগে আনে দে’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগান। এসব গানে সুর ও কণ্ঠ তিনি নিজেই দিতেন। তার বহু গান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে।

বর্তমানে মাগুরার শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের তিলখড়ি গ্রামে বসবাস করছেন এই গুণী শিল্পী। বয়স প্রায় ৭০ বছর। পাঁচ বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। বেশির ভাগ সময় বিছানায় শুয়েই দিন কাটান তিনি।

শিল্পী অনিল হাজারিকা জানান, শৈশবে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লেখাপড়া ছেড়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করতে হয় তাকে। তার বাবা প্রয়াত হাজারী লাল বিশ্বাস ছিলেন সংগীতপ্রেমী মানুষ। বাবার কাছ থেকেই সংগীতের হাতে খড়ি। তিনি মাত্র ২০ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন। স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই আঞ্চলিক উপভাষায় গান রচনা করতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার গান ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে।

তিনি বলেন, ‘আমার লেখা গানের সংখ্যা এক হাজারের অধিক। আরও অনেক গান ছিল, যেগুলো সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে। মানুষের ভালোবাসাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৫ সালে তিনি খুলনা বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ, যশোরের নৃত্যবিতান ও মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।

তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অসুস্থতা ও আর্থিক সংকট তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বর্তমানে পৈতৃক ভিটায় টিনের একটি সাধারণ ঘরে স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকাকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের সামান্য সহায়তা ও এক বিঘা জমির ধানের ওপর নির্ভর করেই চলছে সংসার।

অনিল হাজারিকার স্ত্রী জ্যোৎস্না হাজারিকা বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে স্ট্রোক করার পর বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। এখন আর চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো আবার কিছুটা সুস্থ হয়ে গান লেখা ও গাওয়ার কাজে ফিরতে পারত।’

তবে এই শিল্পীর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীন হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘লোকশিল্পী অনিল হাজারিকার চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তার চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী ১২ তারিখে এই সহায়তার অর্থ তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।’