ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মানসিক রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ চকরিয়া থেকে অপহৃত ৫ জনকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার ঈশ্বরগঞ্জে অবৈধভাবে প্লাস্টিক পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে  ডিজেল জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল ৫ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে: শুভেন্দু অধিকারী যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা নোংরা পানিতে সয়লাব খুলনার প্রবেশদ্বার সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪ গুরুত্বপূর্ণ খনিজে চীনের আধিপত্য হাবিপ্রবির গবেষণায় ব্যাগিং পদ্ধতিতে লিচুর ক্ষতিরোধ সম্ভব দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লোডশেডিং ও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার পর্যটনে ধস খামেনির মৃত্যুর ১০০ দিন পার: যুদ্ধ-পরবর্তী ইরান নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধিতে রডের দাম টনে বাড়তে পারে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার জীবনসংগ্রামে লোকগানের বরপুত্র অনিল হাজারিকা বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য সাক্ষাৎকার শেষ না করেই চলে গেলেন ট্রাম্প ১০ কার্যদিবস পর কমল সূচক, লেনদেনেও ভাটা বরিশাল বিভাগে কমেছে ইলিশের উৎপাদন ৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল শির উ. কোরিয়া সফরের নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চমৎকার ফুল ক্রোসান্দ্রা
Nagad desktop

সিলেট নগরীতে আজ থেকে রাত ৯টার পর সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৭ পিএম
আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১৩ পিএম
সিলেট নগরীতে আজ থেকে  রাত ৯টার পর সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ
ছবি: খবরের কাগজ

নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিলেট মহানগরীতে আজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার পর সব বিপণিবিতান ও সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশনা জারি করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। তবে এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে রেস্তোরাঁ, হোটেল ও ওষুধের দোকান।

গত ১ ডিসেম্বর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

ওই সভায় এসএমপি কমিশনার আরও জানান, শহরের যানজট নিরসনে সব মার্কেট ও শপিং মলের জন্য নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নকশায় পার্কিং স্পেস থাকলেও তা দোকানে রূপান্তর করা হয়েছে, সেগুলো সরিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পার্কিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

এর আগে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কয়েক দফায় একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এবারের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন এসএমপি কমিশনার।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘মূলত নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সিলেট নগরীতে রাত ৯টার পর ট্রাক প্রবেশ করে। তখন সড়ক খালি থাকলে দুর্ঘটনা ও যানজট কম হবে। রাত ৯টার পর সব বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে মানুষজন কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রাত ১০টার মধ্যে ঘরে ফিরবেন। এতে সবাই নিরাপদে থাকতে পারবেন। পাশাপাশি যান চলাচলের শৃঙ্খলাও বজায় রাখা যাবে। সিলেটে লোডশেডিংও হয় অনেক, তাই রাত ৯টার পর সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। নগরীর শৃঙ্খলা, যানজট নিরসন ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটের বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং নেই। অনেকেই আবার পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। সেজন্য নগরীর যানজট নিরসনে আমাদের বেগ পেতে হয়। এ কারণে সব মার্কেট ও শপিং মলের জন্য নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান করেছেন, তাদের সেগুলো সরিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পার্কিং উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

রিফাত/

চকরিয়া থেকে অপহৃত ৫ জনকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
চকরিয়া থেকে অপহৃত ৫ জনকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার
টেকনাফের রাজারছড়া পাহাড়ী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচ শিশু ও কিশোর টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের সাথে। ছবি: খবরের কাগজ
কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় মানবপাচার মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত পাঁচ শিশু-কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
 
সোমবার (৮ জুন) তাদের উদ্ধার করা হয়।
 
উদ্ধাররা হলেন, চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরাজপুর ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল হামিদের ছেলে ইসাদুল হোছাইন সামিম (১৫), ছাবের আহমদের ছেলে মো. মাহিম (১৩) এবং নুরুল আবছারের ছেলে মো. শহিদ হোছন (১৪), বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের বিলছড়ি পশ্চিমপাড়া ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইদ্রিছ আহমদের ছেলে হেফাজ উদ্দিন শিপাত (২৩) ও মৃত মো. পেঠানের ছেলে মো. নুরুল আমিন (২৭)।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ জুন চকরিয়া থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত পাঁচ জনকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 
শাহীন/আজহার 

জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
জামায়াত কর্মীর কোমরে মিলল তিনটি বিদেশি পিস্তল
আটক ব্যাক্তি। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মো. রাহিম (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন জব্দ করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় গোপালপুর-বাংলাবাজার সড়কের বায়তুন নূর জামে মসজিদের সামনের চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়। 

আটক মো. রহিম গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিশেষ অভিযান চলাকালে মোটরসাইকেলে করে চেকপোস্ট অতিক্রমের সময় রাহিমকে থামানো হয়। এ সময় আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার শরীরে তল্লাশি চালানো হয়।

এক পর্যায়ে তার কোমরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় তিনটি বিদেশি পিস্তল, আট রাউন্ড গুলি এবং তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ সময় ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটিও জব্দ করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ত্রসহ আটক রাহিম স্থানীয় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের জামায়াতে প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাতে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ ইসহাক খন্দকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে পরে জানানো হবে।

ইকবাল হোসেন মজনু/অন্তরা

যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
যন্ত্রের ছোঁয়ায় মাঠে নতুন সম্ভাবনা
ছবি: খবরের কাগজ

কৃষকের ঘাম আর মাটির গন্ধে গড়ে ওঠে দেশের খাদ্যভাণ্ডার। সেই কৃষিকেই আরও আধুনিক ও উৎপাদনমুখী করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি।

সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রকল্পভুক্ত কৃষক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমিল্লা অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন ‘টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় কৃষকদের মধ্যে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়। উদ্যোগটির লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রম ও সময় সাশ্রয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তামান্না ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আয়েত আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা খবরের কাগজকে বলেন, 'কৃষিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষকদের প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উৎসাহিত করতে প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে, শ্রম সাশ্রয় হবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে'।

মাঠের পরিশ্রমকে সহজ করতে কৃষকের হাতে প্রযুক্তির এই সহায়তা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকের হাতে আধুনিক যন্ত্র পৌঁছে দেওয়ার এমন উদ্যোগ কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলবে-এমন প্রত্যাশাই সবার।

জুটন বনিক/থিও

সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশভর্তি ট্রাকে মুরগিবাহী একটি পিকআপভ্যানের ধাক্কায় চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে নূরনবী (৬৪), নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মো. পলাশের ছেলে রফিকুল (১৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ভোলা জেলার মো. সেলিমের ছেলে সুমন (২৬)। সুমন রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহত হন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীন্দর গ্রামের আফসার আলী মণ্ডলের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪০)। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া বাজার-সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় একটি ট্রাকে বাঁশ বোঝাইয়ের কাজ চলছিল। এ সময় বড়চওনা থেকে আসা দ্রুতগতির মুরগিবাহী পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাঁশভর্তি ট্রাকে থাকা একজন গুরুতর আহত হন।

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জুয়েল রানা/সালমান/ 

বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বরিশালে জনবল ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি
বরিশালের ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

আগামী আগস্টে বরিশালে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য এখনো কোনো জনবল কাঠামো তৈরি করা হয়নি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আপাতত বিভাগের দুই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ছয়টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৪১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এনে এটির কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

  • আগামী আগস্টে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো জনবল কাঠামো তৈরি হয়নি
  • অবকাঠামোগত অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ
  • ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ৭ বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি

এদিকে হাসপাতালটির ভবন স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চললেও পানি ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ২০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে নির্মিত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৬৫টি বেড স্থাপন করা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা, আইসিইউ বেড, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজও শেষ হয়নি। ফলে আগস্টে হাসপাতালটি পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় উদ্বোধন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টে দেশের নবনির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় বরিশাল শিশু হাসপাতালকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।

বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। ১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের সাত বছর পরও হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উপযোগী করা যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবন প্রস্তুত হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল ছাড়া কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক শিশু বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভবন হস্তান্তরের পরও হাসপাতালটি চালুর আগে অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। শিশুদের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক ইউনিট এবং কার্যকর জরুরি বিভাগ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু ভবন তৈরি হলেই হাসপাতাল চালু করা যায় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে সাময়িকভাবে হাসপাতাল চালানোর কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ধার করা চিকিৎসক দিয়ে একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

এই চিকিৎসকের মতে, ২০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিতে আসতে পারে। সেই বিবেচনায় চিকিৎসক, নার্স, আয়া, টেকনোলজিস্ট, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্তত ৬০০ জন জনবল প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখনই জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করলে আগস্টের মধ্যে কার্যকরভাবে হাসপাতাল চালু করা কঠিন হবে। শিশুদের জন্য আইসিইউ-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স, আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের বিষয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন।’

বরিশালের নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটির অবকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করতে হবে। শুধু উদ্বোধনের জন্য হাসপাতাল চালু করে পরে সেবাদান ব্যাহত হলে তার ভোগান্তি পোহাতে হবে সাধারণ মানুষকে।

তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলার শিশুরা এই হাসপাতালের ওপর নির্ভর করবে। তাই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া হাসপাতাল চালু করা উচিত হবে না।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল মোনায়েম সাদ বলেন, আগে শিশু হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর ছিল। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় সেই দায়িত্ব বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ১৭ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, বরিশাল শিশু হাসপাতালের ভবন গ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন, পদ সৃজন, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ হাসপাতাল চালুর প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো অনুমোদন হয়নি। আপাতত বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, ভবনের বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানির সাবস্টেশন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ চলমান আছে। প্রয়োজনীয় জনবলসংক্রান্ত তালিকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে প্রাথমিকভাবে সেবা কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, হাসপাতালটিতে অস্থায়ীভাবে তিন ফেজ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শুধু ছাদের জলরোধী কাজ এবং স্থায়ী সাবস্টেশন ও জেনারেটর স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবশিষ্ট কাজগুলো জুন মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছি।’