কক্সবাজারের টেকনাফে বিমানযোগে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রলোভন, অপহরণ ও প্রতারণার মাধ্যমে পাচারের চেষ্টাকালে নারীসহ ৭ ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে টেকনাফের সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকায় চালানো অভিযানে বিজিবি ৪ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন এফডিএমএন শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা।
আটক দুই পাচারকারী হলেন, টেকনাফ পৌরসভা পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাঈল (২৮) এবং কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. আলম (১৯)।
উদ্ধার ভিকটিম নারায়ণগঞ্জের সুজন জানান, মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে তার দুলাভাই খোকনের কাছে তিনি ২ লাখ টাকা দেন। খোকন এক বছরের বেশি সময় ঘোরানোর পর তাকে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট ধরার কথা বলে লোকজনের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে তাকে টেকনাফের একটি বিলের ভেতরে নিয়ে জিম্মি করা হয় এবং ট্রলারে তুলে সাগরপথে পাচারের চেষ্টা করা হলে সাগরে বিজিবি এসে তাদের উদ্ধার করেছে।
কুতুপালং ক্যাম্পের নজুমুল্লাহ জানান, কক্সবাজার থেকে বাসে ওঠার পর দুই ব্যক্তি তাকে উচ্চবেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে নামিয়ে নেয়। পরে চিপা-চাপা গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে টেকনাফে এনে একটি গোডাউনে আটকে রাখে। সেখান থেকে তার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্ধ্যায় একটি ট্রলারে করে সাগরপথে পাচারের চেষ্টা চলার সময় ডাকাতদল ট্রলার ঘিরে ধরে। পরে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা সরে যায় এবং বিজিবি তাদের উদ্ধার করে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা থেকে অপহৃত ব্যক্তিদের সাগরপথে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের দুইজনকে আটক করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ায় বসে কিছু চক্র ফাঁদ পেতে প্রতারণা করছে। এসব চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। টেকনাফ সীমান্তে মাদক ও মানবপাচার রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি।
শাহীন/মেহেদী/