নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে চেয়ারম্যান ঘাট নলচিরা নৌরুটে প্রথমবারের মতো ফেরি সার্ভিস চালুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই ফেরি চলাচল শুরু হবে। এ জন্য দুই প্রান্তে লো-ওয়াটার ও মিড-ওয়াটার মিলে মোট চারটি র্যাম্পের নির্মাণ হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এত দিন হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দাদের যাতায়াত নির্ভর করত সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পিডবোটের ওপর। খারাপ আবহাওয়া, দুর্ঘটনা ও বাড়তি দুর্ভোগের কারণে এসব নৌযান যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সবসময় অনিশ্চয়তা তৈরি করত। দীর্ঘ সময় ধরে নদীভাঙন রোধ ও নিরাপদ নৌযোগাযোগ নিশ্চিতের দাবিতে স্থানীয় সংগঠনগুলো আন্দোলন করে আসছিল। অবশেষে সরকারের উদ্যোগে অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত এগোচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ফেরি সার্ভিস চালু হলে দ্বীপের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, ‘মালবাহী গাড়ি নিয়ে আগে যে কষ্ট করতে হতো, ফেরি চালু হলে সেই ঝামেলা আর থাকবে না।’ স্থানীয় শিক্ষক মফিজ মিয়া বলেন, ‘রোগী পরিবহন সহজ হওয়ায় চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও বড় সুবিধা পাবে সাধারণ মানুষ।’
গতকাল সরেজমিনে নলচিরা এবং চেয়ারম্যান ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, র্যাম্প-রোড নির্মাণ, ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন, বাঁশ-খুঁটিতে ভিত্তি তৈরি করতে কর্মীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে ঘাটের পাড় সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। জিও ব্যাগ ও জিওটিউবের নিচে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনা তাদের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের মন্তব্য, কাজ যদি টেকসই না হয়, ভবিষ্যতে ফেরি চালাতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী রুদ্র চন্দ্র ও সাখাওয়াত হোসেন জানান, নদীশাসন ও তীর সংরক্ষণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের র্যাম্পের ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চলতি মাসের শেষেই ঘাট উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নলচিরা ঘাটে লো-ওয়াটার র্যাম্প নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জে এম এন্টারপ্রাইজ জানায়, পাড় সংরক্ষণ তাদের কাজের পরিধির বাইরে। চারটি র্যাম্প নির্মাণে বেলাল ব্রাদার্স, জে এম এন্টারপ্রাইজসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম আশরাফুজ্জামান জানান, পাড় সুরক্ষায় বড় মাপের জিওটিউব বসানো হচ্ছে এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকেই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি র্যাম্প ও ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ চলছে।’
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল জানান, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে সমীক্ষা শেষে ব্লক স্থাপনসহ একটি বড় প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই নির্মাণ নিশ্চিত হলে হাতিয়ার যোগাযোগব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সহজ হবে। সেই সঙ্গে দ্বীপবাসী অবশেষে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।