কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের উত্তর পাড়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। এর আগে সীমান্তবর্তী মায়ানমার অংশ থেকে গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ শোনা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে শনিবার সকাল ১০টা থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) হোয়াইক্যংয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। তবে এর আগের দিন সকালে উত্তর পাড়া জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) ও নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে টানা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার চারটি ঘরে গুলি এসে পড়ে।
জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর পাড়া, তুলাতলী, খারাইংগাঘোনা, তেলিপাড়া, বালুখালী পাড়া ও কোমার পাড়া এই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও এখনো কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি, তবুও এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় কাজ করছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, শনিবার চারটি বাসায় গুলি এসে পড়ছে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর অবহিত করেছি। পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, রবিবার গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত আছে। সীমান্তে টহল জোরদারের পাশাপাশি আরও ৫০ জন বিজিবির সদস্য মোতায়েন করেছে।
তিনি আরও বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার রাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে।
এলাকাবাসী আশা করছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে শান্ত থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুতই ফিরবে। তবে তারা যে-কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সীমান্তে আরও কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসিম উদ্দীন জানান, সীমান্ত ও নাফ নদীতে বিজিবির টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে।
মোঃ শাহীন/এসএন