সিলেট অঞ্চলে বালু-পাথর পরিবহনের নৌযান ‘বারকি’ নৌকা। যা ব্যবহার হয় বর্ষাকালে। আর শুকনো মৌসুমে এ নৌকার ব্যবহার হচ্ছে বালু লুটের কাজে। সিলেট-সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় বিস্তৃত দোয়ারাবাজারের চেলা নদীর পাড় কেটে বালু লুটপাটে বাহন হিসেবে বারকি ব্যবহার হচ্ছে। অবৈধভাবে ব্যবহার করায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে তিনটি বারকি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ৪৮ বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট ব্যাটালিয়নের ৪৮ বিজিবির দায়িত্বাধীন ব্যাটালিয়ন সদর, বিছনাকান্দি, উৎমা, সোনালীচেলা, সংগ্রাম, সোনারহাট, পান্থমাই, বাংলাবাজার এবং প্রতাপপুর বিওপি কর্তৃক চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ভারতীয় ওষুধ, কসমেটিকস, ফল, পেঁয়াজ, সুপারি, গরু, কম্বল, চকলেট, সোয়েটার, বিড়ি, জিরা, জুস, বাংলাদেশি শিং মাছ এবং বারকি নৌকা জব্দ করে। জব্দ করা মালামালের সিজারমূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ৫১০ টাকা।
জানা গেছে, বালু তোলার জন্য চেলা নদীর বালুমহাল ইজারাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করে আসছে। চক্রটি সারপিনপাড়া, পূর্বচাইরগাঁও, পূর্বসোনাপুর এলাকার পাড় কেটে বালু লুট করে নিচ্ছে। ইজারার নিয়মনীতি অনুযায়ী নদীর পাড় হতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা থাকলেও ইজারদার কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। বিকেল চারটা পর্যন্ত বালু উত্তোলনের সময় সীমা থাকলেও রাতের বেলায় বেশি বালু লুটপাট হচ্ছে। পাড় কেটে বালু উত্তোলন করায় ইতোমধ্যে চেলা নদীর তীরের ছয়টি গ্রাম সারপিনপাড়া, পূর্বচাইরগাঁও, সোনাপুর, রহিমের পাড়া, পূর্বসোনাপুর, নাছিমপুর এলাকার অনেক পতিত জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজন বলেছেন, নদীর পানি শুঁকিয়ে গেলে নদীর মাঝে কোথাও স্তূপের মতো জেগে উঠেছে। গ্রামগুলোর শেষ সীমানায় বর্তমানে পাকা বসতঘরের অংশ নদীতে পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে ইজারাদার, রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের লোকজনও জড়িত। বালু লুটে ব্যবহার করা হচ্ছে শ্রমজীবীদের বাহন বারকি।
লম্বা আকৃতির যন্ত্রবিহীন হাতে বাওয়া ‘বারকি নাও’ নামের নৌকাটি প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো। চলাচল করে কেবল সিলেট অঞ্চলে। বালু ও পাথরমহালে এটি বেশি ব্যবহার হয়। স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, সতেরো শতকের শেষভাগে জলপথে চুনাপাথর পরিবহনে জন বারকি নামের একজন ব্রিটিশ নৌকারিগর তার উদ্ভাবনী চিন্তা থেকে নৌকাটি প্রথম তৈরি করেন এবং তার হাতেই জলপথে চলাচলের প্রচলন ঘটে। সে কারণে নৌকাটির উদ্ভাবকের নামে প্রচলিত হয়।
অমিয়/