মাগুরায় রাজাকারদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নির্মিত ঘৃণা স্তম্ভে জুতা-স্যান্ডেল ও থুতু নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রজনতা।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে মাগুরা সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে রাজাকার ঘৃণা স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জুতা-স্যান্ডেল ও থুতু নিক্ষেপ করে তাদের ঘৃণা প্রকাশ করে।
এ সময় জুতা নিক্ষেপকারী ছাত্রনেতা জুলফিকার আলী বলেন, ১৯৭১ সালে যারা দেশের বিরোধিতা করেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছে এবং নিরীহ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যায় সহায়তা করেছে, তাদের প্রতি ঘৃণা জানাতেই এ কর্মসূচি। রাজাকারদের ভূমিকা জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়। সেই ঘৃণাকে স্মরণ করতেই এই আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই দেশে আর নতুন করে আলবদর ও আলশামসের দোসরদের উত্থান দেখতে চাই না। তারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। পাঁচ তারিখ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশেও তারা আবার নতুন করে ফ্যাসিবাদ চালু করার চেষ্টা করছে। আমরা রাজপথে সোচ্চার থাকব।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্র যেন আর কখনো নতুন করে দেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত হতে না পারে এবং ১৯৭১ সালের মতো গণহত্যা ও দমন-পীড়নের পুনরাবৃত্তি না ঘটে- এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
অপর জুতা নিক্ষেপকারী ছাত্র রিমন বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী এক মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়। ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুটি সংগঠন স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করেছিল- আলবদর ও আলশামস বাহিনী। আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিল গোলাম আযম। পরবর্তীতে দেশবিরোধী রাজাকারদের রক্ষার জন্য একটি সংগঠন তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী।
তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর একটি স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ আগস্টের মাধ্যমে উদ্ধার পাই। এরপর লক্ষ্য করছি, এই দল দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, অথচ এখন নিজেদের দেশের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এমনকি যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টাও চলছে।
রিমন বলেন, আমরা বাঙালি জাতি আগামীতে এমন একটি দলকে ভোট দেব, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করবে, যেন এসব রাজাকার ও সন্ত্রাসীরা আর কখনো বাংলাদেশের মাটিতে বিচরণ করতে না পারে।
কর্মসূচিতে জুতা নিক্ষেপ শেষে বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসানুর রহমান হাসু। তিনি বলেন, অতীতে যেমন বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, ঠিক তেমনি আবারও একটি মহল দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, সেটিকে নস্যাৎ করতে খুনের রাজনীতি শুরু করা হয়েছে। আমরা মাগুরাবাসী এসব ফ্যাসিস্ট শক্তিকে কঠোর হাতে দমন করব। যারা আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে মাগুরাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করা হবে।
কাসেমুর রহমান/সুমন/