খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উপলক্ষে গোপালগঞ্জের খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। গির্জাসহ বাড়ি-বাড়িতে আলোকসজ্জা, গোশালা নির্মাণ, ক্রিসমাস ট্রি সাজানোসহ নানা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন।
বড়দিন উপলক্ষে প্রতিটি গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, বাইবেল পাঠ, কেক কাটা, প্রীতিভোজ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জেলার বিভিন্ন গির্জায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর পালিত হবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। এদিন মুক্তির বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল যিশুখ্রিস্টের। তার জন্মতিথি উপলক্ষে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে এখন উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে। যিশুর আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিতে জেলার ১৬৯টি গির্জা ও খ্রিস্টান পল্লীর বাড়ি-বাড়িতে চলছে নানা আয়োজন।
ইতোমধ্যে জেলার গির্জাগুলো নবরূপে সেজে উঠেছে। আলোকসজ্জার পাশাপাশি গির্জা এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। টানানো হয়েছে বড়দিনের তারা, সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি এবং শুভেচ্ছা ব্যানার। বড়দিন উদযাপনের জন্য গির্জাগুলোর প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৬৭টি গির্জা রয়েছে। এর মধ্যে কোটালীপাড়া উপজেলায় ১০০টি, মুকসুদপুরে ৩৬টি, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ২১টি, কাশিয়ানীতে ৫টি এবং টুঙ্গিপাড়ায় ৫টি গির্জা রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ পৃথকভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জার ফাদার ডেভিড ঘরামী বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বর যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন আমাদের কাছে এক আনন্দঘন দিন। ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বড়দিনের প্রার্থনা চলবে। এরপর কেক কাটা হবে। ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রার্থনা শেষে দুপুরে প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন অংশ নেবেন।’
তিনি আরও জানান, বিকেলে বড়দিনের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বড়দিন উপলক্ষে গির্জায় মহড়া সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ এতে অংশ নিচ্ছেন।
শহরের সেন্ট মথুরানাথ এজি চার্চের পালক সম্যুয়েল এস বালা বলেন, ‘সম্প্রীতির জেলা গোপালগঞ্জে এ বছরও উৎসবমুখর পরিবেশে বড়দিন উদযাপিত হবে। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ আমাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, ‘বড়দিন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য জেলার বড় গির্জাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ছোট গির্জাগুলোতে মোবাইল টিম টহল দেবে।’
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জ্জামান বলেন, বড়দিন উৎসবমুখর ও আনন্দঘন করতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া জেলার প্রতিটি গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে জেলায় মোট ৮৩ টন ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।’
বাদল/রিফাত