ঢাকা ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মোস্তফা কামালের বিষাদ বসুধা স্বাধীনতার অবিনাশী ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব চাকরি দিচ্ছে ওয়ালটন, রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: জীবনযাত্রা হবে আরও ব্যয়বহুল বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নেইমারকে ছাড়াই খেলবে ব্রাজিল সুন্দর পুরুষ টিভিতে আজকের খেলা কেমন হবে মুমিনের হজ-পরবর্তী জীবন জীবন একদিন শেষ হয়ে যায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ বিষাদ-বেদনার আঙুলে চুমো খাও নির্বাচনের খরা কাটল মাসুদুজ্জামানের শান্তি নিদ্রা আব্বার সেই ম্লান হাসিটা আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ পানির বোতল চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত যে বই কেউ ছাপতে চায়নি সেই বইয়ের বুকার জয় কেরানীগঞ্জে শ্রমিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু বেড়েছে মুরগি, কাঁচা মরিচ-কাঁচা পেঁপের দাম বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল তিন ক্যাটাগরিতে রিটেইল এশিয়া অ্যাওয়ার্ডস পেল এপেক্স ফুটওয়্যার গোপালগঞ্জে ইজিবাইকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস পড়ল পদ্মা নদীতে চুয়াডাঙ্গায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার খুলনায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড় শাহরাস্তিতে ১৮ মামলার আসামি ‘সাদা আনোয়ার’ গ্রেপ্তার গোপালগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ ৬ ঘণ্টা পরে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
Nagad desktop

হদিস মিলছে না ‘কোপা শামছু’র

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম
হদিস মিলছে না ‘কোপা শামছু’র
ছবি: খবরের কাগজ

‘আমার বাবাকে জমি দেওয়ার কথা বলে মনির মেম্বার জাগলার চরে নিয়ে গেছে। সঙ্গে আমার ভাইও ছিল। ভাইয়ের মরদেহ আমরা পেয়েছি, কিন্তু বাবার কোনো খোঁজ পাইনি। তাকে বাগানের ভেতর দিয়ে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। জীবিত হোক বা মৃত— আমরা বাবার সন্ধান চাই।‘ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতিয়া থানার সামনে এসব কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জাগলার চরে সংঘর্ষে নিখোঁজ শামছুদ্দিন ওরফে কোপা শামছুর ছেলে মো. ফখরুল ইসলাম।

নিখোঁজ মো. শামছুদ্দিন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং ছায়দুল হকের ছেলে। তার কলেজপড়ুয়া সন্তান মোবারক হোসেন শিহাবসহ মোট পাঁচজনের মরদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অন্য নিহতরা হলেন— সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন, হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম লক্ষিদিয়া এলাকার মৃত শাহী আলমের ছেলে হক সাব ও মো. কামাল উদ্দিন, এবং সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম।

শামছুদ্দিনের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন,‘আমার স্বামী খুব ভালো মানুষ ছিল। জমিতে চাষাবাদ করে আমাদের সংসার চলত। ভূমিহীন হিসেবে জমি দেওয়ার কথা বলে তাকে জাগলার চরে নেওয়া হয়। সঙ্গে আমার ছেলেও ছিল। ছেলের সামনেই ওরা আমার স্বামীকে মারধর করে গুলি করে। এখন আমি শুধু চাই— আমার স্বামীর খোঁজ চাই, জীবিত বা মৃত। আর অপরাধীদের বিচার চাই।‘

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

জানা গেছে, জাগলার চরের জমি এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী প্রতি দাগ ২০ হাজার ৫০০ টাকায় জমি বিক্রি শুরু করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং আরও বেশি দামে জমি বিক্রি করতে থাকে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় আলাউদ্দিন বাহিনী কোপা সামছু বাহিনীকে বিতাড়িত করতে তৎপর হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে কোপা সামছু বাহিনী, আলাউদ্দিন বাহিনী ও ফরিদ কমান্ডারের বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে গেলে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। এতে আলাউদ্দিনসহ পাঁচজন নিহত হন। পরে ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে যায়।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর হাতিয়া উপজেলায় দেওয়া এক বক্তব্যে চর জাগলা ও চর আতাউরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ। ৩৮ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘চর জাগলা ও চর আতাউরে সন্ত্রাসীদের এনে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি জমি চাইলেই কেউ বুঝিয়ে দিতে পারে না। প্রশাসনকে বহুবার বলেছি— এখনো ব্যবস্থা না নিলে আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।‘

স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ বলেন, জাগলা চর বিক্রির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। মুশফিক, ফখরুল, ফরিদ, সামছু, মনিরসহ আলাউদ্দিন ডাকাত গ্রুপ সক্রিয়। মুশফিক ১ নম্বর হরণী ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসক। তার জলদস্যু বাহিনী এখনো সক্রিয় রয়েছে।

আরেক বাসিন্দা হাছান উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই চরে উশৃঙ্খলা চলছে। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, জমি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট হয়েছে। এখানে শত শত কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। অনেক রাজনৈতিক নেতা জড়িত। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, লাশ গোপন করা হয়েছে।‘

অভিযোগ অস্বীকার করে হরণী ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসক মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি। রাজনৈতিক সভা করেছি মাত্র। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।‘

মনির উদ্দিন মেম্বারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিহিংসাবশত আমার ভাইয়ের নাম জড়ানো হচ্ছে। তিনি গত ছয় মাস ধরে এলাকায় নেই।‘

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। শামছুদ্দিনের মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। একজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান।‘


হানিফ/মেহেদী/

চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

চুয়াডাঙ্গা সদরের ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় পূর্বাশা পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আকিব হোসেন (২৬) নামের এক ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঘোড়ামারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আকিব হোসেন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলামপাড়ার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা খবরের কাগজকে জানান, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী আকিব হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতের পকেটে পাওয়া একটি ভিজিটিং কার্ড থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ওষুধ ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

মিজানুর রহমান /থিও

কেরানীগঞ্জে শ্রমিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
কেরানীগঞ্জে শ্রমিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ফার্নিচার কারখানার শ্রমিকদের জন্য নির্মিত আবাসিক সেড থেকে মো. বাবু (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদের উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার দ্বীন ফার্নিচার কারখানার তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. বাবু দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় পান-সিগারেটের ব্যবসা করতেন। প্রতিদিন ব্যবসা শেষে তিনি দ্বীন ফার্নিচারের শ্রমিকদের আবাসিক সেডের তৃতীয় তলায় থাকতেন। ঈদুল আজহার ছুটিতে কারখানার অধিকাংশ শ্রমিক নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় তিনি সেখানে একাই অবস্থান করছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার দারোয়ান আবাসিক সেড থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তিনি কক্ষের ভেতরে মো. বাবুকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের চাচা আসলাম ভান্ডারী জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবু তার কাছে মানুষ হয়েছেন। গত তিনদিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দ্বীন ফার্নিচারে এসে জানতে পারেন, শ্রমিকদের থাকার স্থানে কম্বল মোড়ানো অবস্থায় তার ভাতিজার মরদেহ পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন, বাবুকে হত্যা করে তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা লুট করা হতে পারে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর ঘটনা তিন থেকে চার দিন আগে ঘটেছে। এ কারণে মরদেহ ফুলে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নয়ন/তামান্না রুপা

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি আরও ১৯ শিশু

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে ভর্তি  আরও ১৯ শিশু
ছবি: খবরের কাগজ

হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ১৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট ৮৯টি শিশু।

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ৫ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৮৭১টি শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৩টি শিশু। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৭৩৬টি শিশু। সেখানে এ পর্যন্ত মোট ৪৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কামরুজ্জামান/আমান

বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
বাতাসে যেন আগুনের হলকা, কষ্টে প্রাণিকুল
হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে ব্রয়লার মুরগির শরীরে ঠাণ্ডা পানি স্প্রে করা হচ্ছে। ছবি: খবরের কাগজ

জ্যৈষ্ঠের খরতাপে পুড়ছে পাবনা। প্রখর রোদ, তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কয়েক দিন ধরে চলা এই তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ খেটে খাওয়া মানুষ। গত সোমবার পাবনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ছিল ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৫০ শতাংশে পৌঁছালে গরমের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নেয়।

এমন অবস্থা গত এক সপ্তাহ ধরে। বাতাসে যেন আগুনের হলকা বইছে। তপ্ত রোদে মাঠে এক বেলার বেশি কাজ করতে পারছেন না কৃষি শ্রমিকরা। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পাবনায় অসহনীয় ভ্যাপসা গরমের মূল কারণ বাতাসে আর্দ্রতার উচ্চ পরিমাণ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তখন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫০ শতাংশ। পরদিন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলেও বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশে, যার ফলে গরমের অস্বস্তি আরও প্রকট হয়। সর্বশেষ বুধবার তাপমাত্রা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

এদিকে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় দিনভর দাবদাহের পর রাতেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। তীব্র গরমে ঘাম ঝরছে অবিরাম। বিদ্যুৎচালিত পাখার বাতাসেও স্বস্তি মিলছে না। দুপুরের দিকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষি শ্রমিক ও দিনমজুররা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিল গ্যারকা পাড়ের চাষি আবুল হোসেন কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘সকাল ১০টার পর আর মাঠে কাজ করতে পারছি না। অতিরিক্ত গরমে অনেক কৃষক ও শ্রমিক ফসলের মাঠে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ফসল বিক্রির সময় নানা কথা ওঠে, কিন্তু এই কষ্টের দাম কেউ দেয় না।’

সাঁথিয়া উপজেলার কৃষি শ্রমিক বাবু আলী বলেন, ‘যে তাপমাত্রা, তাতে এক বেলা কাজ করাই কঠিন। আমরা দিনমজুর মানুষ, কাজ করতে না পারলে সংসার চলে না।’

তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যেও। শহরের কাপড় ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, ‘ক্রেতারা দোকানে এসে বেশিক্ষণ থাকতে চান না। গরমে অনেক সময় তারা না কিনেই ফিরে যান।’ একই সুর শোনা গেল মুদি দোকানি রফিকুল ইসলামের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘বেচাকেনা আগের চেয়ে অর্ধেক কমে গেছে।’

তবে এই গরমে চাহিদা বেড়েছে ডাব, শরবত ও হাতপাখার। পাবনার পাঁচমাথা মোড়ের ডাব বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, ভ্যাপসা গরমে ডাব ও ঠাণ্ডা শরবত বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। জেলার অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র কাশীনাথপুরের হাতপাখা বিক্রেতা আফজাল হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক দিনে গরমে অতিষ্ঠ মানুষের কাছে তার হাতপাখা বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে।’ অন্যদিকে বনগ্রাম বাজারের ওষুধ বিক্রেতা আবু জাফর খান জানান, বাজারে এখন খাবার স্যালাইন, জ্বর ও ডায়রিয়ার ওষুধের বিক্রি অনেক বেশি। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চরম বিঘ্নিত হচ্ছে। কাশীনাথপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন হাসান আক্ষেপ করে বলে, সকাল-বিকেল বা রাতে যখনই পড়তে বসি, তখনই ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হতে হয়। ঘামতে ঘামতে পড়ার টেবিলে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আতাইকুলার মুরগি ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন জানান, মুরগিগুলো রাতে ছটফট করে। ফলে আমাদেরও জেগে থাকতে হয়। দিনের গরমও মারাত্মক। তাই সব সময় বৈদ্যতিক পাখা চালাতে ও পানি স্প্রে করতে হচ্ছে। বামনডাঙ্গা গ্রামের গো-খামারি আরজু প্রধান বলেন, ‘খামারের গরুকে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে বারবার পানি দিয়ে গোসল করাচ্ছি। পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা পানি ও স্যালাইন খাওয়াচ্ছি।’

গোপালগঞ্জে ইজিবাইকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
গোপালগঞ্জে ইজিবাইকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকেরচাপায় সুলাইমান শিকদার (১১) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান।

নিহত সুলাইমান শিকদার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেবাড়িয়া উত্তরপাড়া গ্রামের সেলিম শিকদারের ছেলে।

ওসি জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক পার হচ্ছিল শিশু সুলাইমান। এ সময় দ্রুতগামী একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচাপা দিলে মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলাইমানকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহটি গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আফতাব জিলানী বলেন, 'সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সুলাইমান নামের এক শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়'।

বাদল সাহা/আজহার