দিনাজপুরে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে গোড়-এ শহিদ বড় ময়দানের পুরাতন কাপড়ের হকার্স মার্কেট। 'দেখে দেখে কিনেন, বাইছা বাইছা লন'- এমন ডাক শুনে এগিয়ে গেলে দেখা যায়, বিক্রেতারা উচ্চস্বরে কণ্ঠ ফাটিয়ে ঘোষণা দিচ্ছেন- 'এখানে সব কাপড় ৬০ টাকা, যে যেটা পছন্দ করবেন ৬০ টাকাতেই পাবেন।'
ক্রেতারাও থেমে থাকছেন না। মোটা কাপড়ের স্তূপ থেকে নিজের পছন্দের পোশাক বেছে নিয়ে কিনে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই।
শীত আসলেই দিনাজপুর শহরের গোড়-এ অবস্থিত গোড় এ শহিদ বড় ময়দানের পাশের হকার্স মার্কেটে পুরাতন কাপড় বিক্রির ধুম পড়ে যায়।
গত কয়েকদিন ধরে শীতের মাত্রা বাড়ায় এই মার্কেটে ক্রেতার ভিড় আরও বেড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু, নারী, পুরুষ ও আবাল-বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুরের গোড়-এ শহিদ বড় ময়দানের হকার্স মার্কেটে শীতের কারণে পুরাতন মোটা কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। অনেক শীতার্ত মানুষ স্বল্প দামে সোয়েটার, ব্লেজার, জ্যাকেট, টাউজার মাফলারসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক কিনে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।
এই হকার্স মার্কেটে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকার মধ্যেই তুলনামূলক ভালো মানের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শিশু থেকে শুরু করে আবাল-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাপড় কিনতে পারছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এই বাজারটি হয়ে উঠেছে শীত নিবারণের অন্যতম ভরসা।
মোটা কাপড় কিনতে আসা ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, 'গোড়-এ শহিদ বড় ময়দানের এই হকার্স মার্কেটে পিরাতন মোটা কাপড়ের দাম অনেক কম। যে কাপড় এখানে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, সেই একই ধরনের কাপড় নতুন মার্কেটে গেলে কয়েক হাজার টাকা লাগে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই মার্কেট অনেক উপকারে আসে। কম দামে কাপড় কিনে শীত নিবারণের চেষ্টা করছি।'
একই কথা বলেন আরেক ক্রেতা মাজেদা বেগম। তিনি জানান, এই হকার্স মার্কেট আছে বলেই আমাদের মতো গরিব মানুষ ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকার মধ্যে মোটা কাপড় কিনতে পারছি। এই কাপড়গুলো দিয়েই শীত থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। আমাদের জন্য এই বাজারটা সত্যিই অনেক স্বস্তিদায়ক।
পুরাতন কাপড় বিক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, 'ঠান্ডার মাত্রা বাড়লেই আমাদের বিক্রি বেড়ে যায়। গতকাল থেকে শীত একটু বেশি পড়েছে, তাই বেচাবিক্রি অনেক ভালো হচ্ছে। আমাদের দোকানে সোয়েটার, ব্লেজার, মাফলারসহ শিশুদের পোশাকও আছে। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দমতো কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।'
বিক্রেতা হারুনুর অর রশিদ বলেন, 'আমরা মূলত সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরাতন মোটা কাপড়ের গাইড কিনে নিয়ে আসি। সেই গাইড থেকেই অল্প লাভ রেখে কাপড় বিক্রি করি। শীত যত বাড়ে, বিক্রিও তত বাড়ে। বিক্রি বাড়লে আমাদের লাভও কিছুটা ভালো হয়।'
এ বিষয়ে দিনাজপুর হকার্স মার্কেট পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ শাহাদাত হোসেন বলেন, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে শীতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে শীত বাড়ার কারণে দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শীতার্ত মানুষজন এই হকার্স মার্কেটে আসছেন। তারা স্বল্প দামে নিজেদের পছন্দের কাপড় কিনতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, 'হকার্স মার্কেট পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ক্রেতারা নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে পুরাতন মোটা কাপড় কিনে বাড়ি ফিরে যেতে পারছেন। শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে আগামী দিনগুলোতে এই হকার্স মার্কেটে ক্রেতার ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করছি।'
সুলতান মাহমুদ/সুমন/