নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ওয়াজি উল্লাহ আল কোরআন হেফজ মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি আওয়ামী লীগের দোসর ও ভূমিদস্যু ফি উল্লাহ এবং তার দুই ছেলে শরাফ উদ্দিন ও আফাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।
মাদ্রাসার জায়গা দখল বিষয়ে সেনবাগ থানায় ভূমিদস্যু ওই তিনজনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন গোপালপুর গ্রামের হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি।
থানায় অভিযোগ এবং আদালত নির্দেশনা সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর সফি উল্যাহ মাদ্রাসার জায়গা জোর করে দখলে করে চারপাশে দেয়াল নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় হুমায়ুন কবির বাধা দিলে তাকে মারতে আসেন সফি উল্লাহ এবং তার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে হুমায়ূন কবিরকে মেরে ফেলারও হুমকি দেন সফি এবং তার ছেলেরা।
হুমায়ুন কবির জানান, মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের জরুরি প্রয়োজনে সোয়া শতাংশ জায়গা কিনেন আমেরিকা প্রবাসী মোতাহার হোসেন। মোতাহার হোসেন প্রবাসে থাকায় তার সব সম্পত্তির রক্ষণা ও দেখাশুনার জন্য তাকে আইনিভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মোতাহার হোসেন কোরআন শিক্ষা বিস্তারের জন্য একজন দানশীল ব্যক্তি। তিনি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের জরুরি প্রয়োজনে এই জায়গাটি শাহ আলম এবং কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে কিনেছেন।
২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই জায়গা কেনার পর থেকে একই বাড়ির সফি উল্লাহ নানারকম ঝামেলা সৃষ্টি করে চলেছে। নিরুপায় হয়ে হুমায়ুন কবির স্থানীয়ভাবে সালিলে মীমাংসা করার বহু চেষ্টা করেন। কিন্তু সফি উল্লাহ স্থানীয় মীমাংসা মানেননি, তার ছেলেদের প্রভাব খাটিয়ে জায়গাটি জোর করে দখল করার চেষ্টা করে এবং হুমায়ুন কবিরকে ভয়ভীতি দেখায়।
পরে হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর সেনবাগ থানায় এদের নামে অভিযোগ করেন। তারপরও সফি উল্লাহ মাদ্রাসার এই জায়গায় কাজ করার চেষ্টা করায় হুমায়ুন কবির বাধ্য হয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর নোয়াখালীর আদালত থেকে স্থিতাবস্থা জারি করান।
অভিযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই মোহন কৃঞ্চ দাস জানান, তিনি যখন ১৮ ডিসেম্বর সরেজমিনে তদন্তে যান, তখন তার উপস্থিতিতেই হুমায়ুন কবিরকে মারতে আসে সফি উল্লাহ ও তার সহযোগীরা। এবং সফির ছেলে শরাফ উদ্দিন মোবাইলে কল দিয়েও তার সঙ্গে উদ্বত আচরণ করে। ২০ ডিসেম্বর মাদ্রাসার জায়গাটি নিয়ে থানায় বসার কথা ছিল কিন্তু বিবাদী পক্ষ সফি উল্লাহ ও তার ছেলেরা আসনি। তিনি এই ব্যাপারে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট করবেন বলে জানান।
অপরদিকে সফি উল্লাহ দাবি করেন, তিনিও এই জায়গা কিনেন। তার কাছে দলিল রয়েছে। সমস্যা হলো সফি উল্লাহ যার কাছ থেকে জায়গাটি কিনেছিলেন তিনি এইস্থানে সমপরিমাণ জায়গার মালিক ছিলেন না। ঢাকায় অবস্থান করা সফির ছেলের শরাফ উদ্দিনের প্রভাব দেখিয়ে তিনি সবক্ষেত্রে জোর জুলুম করার চেষ্টা করে আসছেন। আওয়ামী লীগের আমলে ঢাকার মিরপুরে তার ছেলে শরাফ উদ্দিনে বিরুদ্ধেও সামছুজ্জামান ইব্রাহিম নামে এক শিক্ষকের স্কুল দখলসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সেখানে শরাফ উদ্দিনের নামে মিরপুর থানায় কয়েকটি অভিযোগ আছে।
এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগের আমলে ঢাকার মিরপুরে সফি উল্লাহর ছেলে শরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্কুল দখলসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। শরাফ উদ্দিন মিরপুরে ১০ নং ওয়ার্ড কমিশনার আওয়ামী লীগ নেতা মানিকের সহযোগী।
শফিকুল ইসলাম/সুমন/