ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২ চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তুরস্কের হারে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র নওগাঁর আম আমদানি করতে চায় জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল হাইতি টাঙ্গাইলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ হাজি দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি আজ ‘লম্বা মেয়েদের’ প্রশংসা পাওয়ার দিন আনচেলত্তির সন্তুষ্টি, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই ফিরছেন নেইমার কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

শীত বাড়ে, কাজ কমে

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০৫ পিএম
শীত বাড়ে, কাজ কমে
রাজশাহীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাজের খোঁজে এসে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন দিনমজুর। ছবি: খবরের কাগজ

সোমবার ভোর ৫টা। রাজশাহী শহরের শালবাগান মোড় এলাকা। চারপাশে কনকনে শীত, সঙ্গে হিমেল হাওয়া। হঠাৎ সেখানে এক ব্যক্তি সাইকেল থামান। তার পিঠে গামছা, সাইকেলে ঢাকি-কোদাল বাঁধা। নাম জানালেন মো. আজিদ। বয়স ৬৫ বছর। পেশায় দিনমজুর। পবা উপজেলার হরিয়ান সুগার মিল এলাকা থেকে এসেছেন কাজের খোঁজে। এ জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে ১৫ কিলোমিটার। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও কেউ তাকে কাজে নেননি। বললেন, ‘গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। দীর্ঘ এই পথ আসতে গিয়ে পুরো শরীর ভিজে গেছে। প্রচণ্ড শীতে হাড়ব্যথা হওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু উপায় নেই। পরিবারের আট সদস্যের মুখে খাবার তুলে দিতে এখানে আসতে হয়েছে। পেট তো আর শীত বোঝে না।’

জেঁকে বসা শীতের দিনে রাজশাহীর অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা মো. আজিদের মতো। জেলার বেশির ভাগ মানুষ যখন উষ্ণতার খোঁজে লেপ-কম্বলের নিচে সময় কাটান, আজিদের মতো মানুষরা তখন পেটের তাগিদে কাজের সন্ধানে নামেন। কিন্তু তারা সেই কাজের নিশ্চয়তাও পান না। বছরজুড়ে শ্রম বিক্রি করে কোনোরকম সংসার চালাতে পারলেও বর্ষা ও শীত মৌসুমে তাদের কাজ কমে যায়। এই সময় তাদের জীবনে নেমে আসে গভীর অনিশ্চয়তা। 

শালবাগান এলাকায় কথা হয় আরও কয়েকজন দিনমজুরের সঙ্গে। তাদের মধ্যে পবা উপজেলার পারিলা এলাকা থেকে এসেছেন মোকসেদ ও আব্দুল গফুর, নগরীর খড়খড়ি বাইপাস থেকে মেরাজ উদ্দিন ও মোসলেম। এ ছাড়া আকবর আলী এসেছেন আশরাফের মোড় থেকে এবং আলাউদ্দিন ও আলমগীরের বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুরে। তারাসহ অন্তত ৩০ জন শ্রমিক সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

তারা জানান, আগে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু শীত শুরুর পর ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। উল্টো যাতায়াত খরচ বাবদ প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ হচ্ছে। আয় না থাকায় সংসার চালাতে গিয়ে ধারদেনার ফাঁদে পড়তে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী শহরের রেলগেট, দড়িখরবনা, লক্ষ্মীপুর, শালবাগান ও পবার বায়া এলাকায় প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ শ্রমিক জড়ো হন। এখান থেকেই ঠিকাদার বা ব্যক্তিগত কাজে শ্রমিক নেওয়া হয়। কিন্তু কুয়াশা আর শীতে সেই শ্রমবাজার এখন প্রায় অচল।

রেলগেট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ৫৭ বছর বয়সী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকলে আয় হয়। শীত আর বর্ষায় কাজ থাকে না। তবুও কাজের আশায় শীতের মধ্যেই বের হয়েছি। আয় না করলে সংসার চলবে কীভাবে?’ তিনি বলেন, ‘বয়স হলেও বয়স্ক ভাতা পাইনি। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সহযোগিতা মেলেনি। অসুস্থ হলে আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই।’ 

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে, সোমবারও দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রবিবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এবারের শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিনের অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকছে। এতে সূর্য উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এমন অবস্থায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাট, হাটবাজার, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালে মানুষের উপস্থিতি কম। সরকারি-বেসরকারি অফিসে চাকরিজীবীরা এলেও কাজে গতি কম। ঠিক এই সময় দিনমজুর শ্রেণির মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, রাজমিস্ত্রিসহ নিম্ন আয়ের মানুষরা প্রত্যাশিত কাজ পাচ্ছেন না।

এদিকে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে অসংখ্য রোগী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা বেশি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশু ও বয়স্কদের বাড়ির বাইরে বের না হওয়াই ভালো। তবে খেটে-খাওয়া মানুষরা সেই অনুযায়ী চলতে পারছেন না।

বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেটে বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে নকুল মল্লিক (৫২) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার মুশুড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, বরকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত আলোকসজ্জার একটি ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের তারে নকুল মল্লিকের হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নকুল মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই অসাবধানতামূলক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তামান্না রুপা/

চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি আলী আকবর। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আলী আকবর (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম। সীতাকুণ্ড থানার ছিন্নমূল ১নং সমাজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'আগের দিন রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলার তদন্তে আলী আকবরের নাম উঠে আসে।​ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে যে, আসামি আলী আকবর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।​

আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। 

সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে জমিরিয়া সুলতানুল উলুম মাদরাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদরাসাটির রাস্তার বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুরের পাশাপাশি দেওয়ালে জয় বাংলা লেখারও অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় ওই মাদরাসার চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

এ হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদর পাড়ায় অবস্থিত মাদরাসার হলরুমে পরিচালনা কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আঁধারের এ হামলায় মাদরাসার চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। হামলাকারীরা ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে মোড় দেওয়ার লক্ষ্যে মাদরাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় কালো রঙের স্প্রে দিয়ে ঢেকে দেয়। এরপর দেয়ালে স্প্রে দিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান 'জয় বাংলা' এঁকে দেয়।

তিনি আরও বলেন, জায়গাটি অনেক বছর আগে মাদরাসার জন্য কেনা হয়েছে। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে মাদরাসাটি এখানে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জোরপূর্বক মাদরাসার রাস্তা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হওয়ায় আমরা উপজেলা প্রশাসন ও আদালতের শরণাপন্ন হই। এরপর আদালত ওই জায়গায় উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের আইনি নিষেধাজ্ঞা ও লিগ্যাল এইডের নোটিশ তোয়াক্কা না করেই প্রতিপক্ষের লোকজন এমন তাণ্ডব চালিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মাওলানা মাহমুদুল করিম কাসেমী অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স কালো রঙের স্প্রে ব্যবহার করে ঢেকে দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত আহত হয়েছে। এ ছাড়াও সিসিটিভি ক্যামেরায় স্প্রে করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত হামলাকারীদের প্রবেশ ও গতিবিধির স্পষ্ট ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে হামলাকারীদের স্পষ্ট চেনা যাচ্ছে। তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভাঙচুরের কাজে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। ঘটনার পরপরই আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লাহর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিজেরা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরপর আমাদের উপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামিয়াতুল আরবিয়াতুল হাফেজিয়া ছমদর পাড়া বড় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবুল হোসাইন, ঠাকুরদিঘী হেমায়েতুল ইসলাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হক, বোর্ড অফিস মাদরাসার পরিচালক মাওলানা ফয়সাল হাকিম, সাতকানিয়া জামে মসজিদের খতিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ, ঘাটিয়াডেঙ্গা আইনুল উলুম মাদরাসা পরিচালক মাওলানা আব্দুল মুবিন, রাহে নাজাত মাদরাসার পরিচালক মাওলানা জুনায়েদ, খরাইয়ানগর মাদরাসার পরিচালক মাওলানা তৌহিদুর রহমান, উলামা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা হাফেজ হারুন বিন রশিদ, ছিটুয়া পাড়া দারুল আরকাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা জোনায়েদ ফয়েজী, ছমদরপাড়া বড় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা হাফেজ শোয়াইব ও সাতকানিয়া উলামা পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ারসহ প্রমুখ।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার টেলকি জলই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং নেইমার ম্রং (১০)। তারা সবাই উপজেলার জলই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে একটি ছাগল বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধার করার জন্য প্রথমে গ্রাব্রিয়েল নকরেক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হলেও তিনি আর উপরে উঠতে না পারায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধারের জন্য একে একে রতন নকরেক, বাবলু হাদিমা এবং শিশুপুত্র নেইমার ম্রং ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তারাও আর ফিরে আসতে পারেননি।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনকে উদ্ধার করে।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, সেফটিক ট্যাংক, কূপ কিংবা গভীর গর্তে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এসব স্থানে নামা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুর হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

জুয়েল/আমান

ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫১ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ফেনী স্টেশনে মেঘনা ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের ভোগান্তি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেনী রেলস্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা পড়েছেন অন্তত ৮০০ যাত্রী। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। 

শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেনটি ফেনী জংশনে প্রবেশের সময় ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্টেশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের মোটরে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে মোটরে আগুন লাগার আশঙ্কা দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটি স্টেশনের ডাউন লাইনে থামিয়ে রাখা হয়।

দীর্ঘ সময় ট্রেন আটকে থাকায় অনেক যাত্রী স্টেশনে নেমে বিকল্প পরিবহনের খোঁজ করেন।

লাকসাম থেকে চট্টগ্রামগামী যাত্রী একরামুল হক বলেন, ’সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ট্রেনে উঠেছি। ফেনীতে এসে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। অনেক যাত্রী ট্রেন ছেড়ে সড়কপথে চলে যাচ্ছেন।’

আরেক যাত্রী সাহেদা বেগম বলেন, ’এতক্ষণে চট্টগ্রামে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। দুই সন্তান নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এখানে আটকে পড়ে খুব ভোগান্তিতে পড়েছি।’

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ হারুন জানান, চট্টগ্রাম থেকে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ফৌজদারহাট অতিক্রম করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিন অপসারণের পর ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, ফেনী থেকে যেসব যাত্রীর এই ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তাদের কেউ কেউ টিকিট ফেরত দিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে মেঘনা এক্সপ্রেস একটি লাইনে আটকে থাকলেও পাশের দুটি লাইন সচল থাকায় অন্যান্য ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তোফায়েল নিলয়/খাদিজা রুমি/