নোয়াখালী সুপার মার্কেট থেকে ১২৭ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় কুমিল্লা থেকে আন্তঃজেলা চোরের সর্দার মো. মোর্শেদ মহসিন ওরফে মোশারফ ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে পিচ্চি আলাউদ্দিন নামে তাদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তারসহ চোরাইকৃত সোয়া ৯ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যে এ ঘটনায় ১১ জনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য মিলেছে। এরমধ্যে কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে মো. মোর্শেদ মহসিন ওরফে মোশারফ ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তারকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে আলাউদ্দিন ওরফে পিচ্চি আলাউদ্দিনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৯ ভরি ৪ আনা ২ রতি ৭ পয়েন্ট চোরাই স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, আটককৃতদেরকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মীর মোশাররফ হোসেনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দে করা হয়েছে। এরমধ্যে আসামি মো. মোর্শেদ মহসিন ওরফে মোশারফ এবং পিচ্চি আলাউদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামি গ্রেপ্তার ও স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশের আইজি, ডিআইজির সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত আছে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, অনুসন্ধানে আসামি মোর্শেদ মহসিন ওরফে মোশারফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগের আটটি মামলা এবং পিচ্চি আলাউদ্দিনের নামে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের সঠিক কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
গত ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াখালী সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলার নিলয় জুয়েলার্সের তালা কেটে ১২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকানের পরিচালক মীর মোশারেফ হোসেন বাদি হয়ে পরদিন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে সদরের সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন