ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু দক্ষতার সঙ্গে টিম পরিচালনার কিছু পরামর্শ তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতল রাব্বানীর ‌‌'সাঁতার' সাইবার সুরক্ষায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৩ বাড়ি ভাঙচুর পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলায় নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন ডামুড্যায় শিক্ষকের ওপর হামলা: ‘ভিডিও করতে গিয়ে’ আসামি গণমাধ্যমকর্মী লোহাগাড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ৪ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও মদসহ ২ মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত
Nagad desktop

নোয়াখালী কারাগারে ৯৪১ বন্দি, ভোটের আবেদন ৪৪ জনের

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
নোয়াখালী কারাগারে ৯৪১ বন্দি, ভোটের আবেদন ৪৪ জনের
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দি আছেন ৯৪১ জন। এরমধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন মাত্র ৪৪ জন। যা মোট বন্দির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জেল সুপার আবদুল বারেক খবরের কাগজকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বন্দিরা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগে জামিনের আশায় পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করতে রাজি হয়নি। কারণ এখানে আবেদন করে জামিন পেলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে না। আমরা অনেক বুঝিয়ে ৪৪ জনকে রাজি করিয়ে আবেদন করেছি।

এছাড়া, দেশের বিভিন্ন কারাগারে নোয়াখালীর ছয়টি আসনের মোট ৭২ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এরমধ্যে নোয়াখালী-১ আসনে ১২ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৬ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ৩১ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১২ জন ও নোয়াখালী-৬ আসনে ৪ জন আবেদন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি চাকরীজীবীসহ নোয়াখালীর মোট ১৩ হাজার ৮৫১ জন পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছেন। এরমধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ২৪৬ জন ও মহিলা ৩ হাজার ৬০৫ জন। এছাড়া সরকারি চাকরীজীবী ৯ হাজার ৯৪৪ জন, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৭০৪ জন, আনসার ও ভিডিপি ১৩১ জন ও কারাবন্দি ৭২ জন আবেদন করেছেন।

সরকারি তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশ থেকে নোয়াখালীর ছয়টি আসনের মোট ৬১ হাজার ২৫১ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এরমধ্যে  নোয়াখালী-১ আসনে ১৩ হাজার ৬৬৭ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৯ হাজার ২২৭ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ১২ হাজার ৮৫৯ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ১০ হাজার ৩৬০ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১১ হাজার ৭০৩ জন ও নোয়াখালী-৬ আসনে ৩ হাজার ৪৩৫ জন আবেদন করেছেন।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, পোস্টাল ব্যালটগুলো জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ডাকযোগে এসে পৌঁছলে সেগুলো ছয়টি আসনের বক্সে রাখা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার পরে প্রার্থীদের মনোনীত অ্যাযেন্টদের সামনে খোলা হবে।

ইকবাল হোসেন/নাঈম

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৩ বাড়ি ভাঙচুর

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ৩ বাড়ি ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পরিবারের তিনটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি নিয়ে একই গ্রামের ফাতেমা বেগম তুলির সঙ্গে সালেহা বেগম ও ছেলে নাজমুল ইসলামের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে বিগত সময়ে আদালতে মামলা হলে মালিকানার রায় পান ভুক্তভোগী নাজমুল ইসলাম। তবে এ রায়কে না মেনে অভিযুক্তরা ওই ২ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করলে নাজমুল ইসলাম ও তার পরিবার বাধা দেন।

এর জেরে গত সোমবার বিকেলে অভিযুক্ত ফাতেমা বেগম তুলির স্বামী, নাঈম মোল্যা, নাদিম মোল্যা শামীম মোল্যাসহ প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন লোক নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালান।

নাজমুলের মা সালেহা বেগম, তার চাচা সৈয়দ আহাদ, আহাদের কন্যা হাসিবা খানম ও স্মৃতি বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের একটি জমি নিয়ে মিজানুর মোল্যা, তরিকুল ইসলাম, নাইম মোল্যা, নাদিম মোল্যাসহ ১০০ থেকে ১৩০ জন অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে হামলা ও জমি দখলের চেষ্টা করে।

এদিকে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। এসবে আমরা জড়িত নই।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ভুক্তভোগীরা এখনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরিফুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
পাবনায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: উত্তেজিত জনতার অগ্নিসংযোগে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু
ফইল ছবি

পাবনা সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে ক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই হামলার ঘটনার সময় উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন এবং আগের দিন বিকেলে একজনের মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলেন- সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ জুন বিকেলে পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন শেষে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িতে আগুন দেয়। আগুন দেওয়ার সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে না থাকলেও, মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির ভেতর থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে আগুন দেখতে আসা বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন।

রিয়া খাতুন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রিয়ার প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিরা রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের জেরে অগ্নিসংযোগ ও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল একজন এবং আজ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড ও মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আমিনুল ইসলাম/আজহার/

শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম
অভিযুক্ত ইমাম আবু ইউছুফ পাটোয়ারী। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় ইমাম আবু ইউছুফ পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) চাঁদপুরের আদালতে অভিযুক্ত ইমামকে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার চেড়িয়ারা পাটোয়ারী বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আবু ইউছুফ পাটোয়ারী (৩৫) চেড়িয়ারা এলাকার বাসিন্দা।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু ইউছুফ পাটোয়ারীর মা রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বড় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে আমার ভরণপোষণ, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছে না। বরং বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে টাকা দাবি করতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত।’

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গালিগালাজ ও মারধর করা হতো। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আবু ইউছুফ পাটোয়ারী তার মাকে ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসেবা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এতে রোকেয়া বেগম প্রতিবাদ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় রোকেয়া বেগমের মেয়ে হাওয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে অভিযুক্ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘরে ভাঙচুর করেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এর আওতায় করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ফয়েজ/থিও

যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা
খবরের কাগজ গ্রাফিক্স

যশোরের মনিরামপুর নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করার ঘটনায় ইমামুল হোসেন নামে এক মধ্যবয়সীকে খুন করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।  

সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের দোকানের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইমামুল পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে।

নিহতের ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেন জানান, ইমামুলের নাতনিকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফারাসাতপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে রাব্বি। গত বৃহস্পতিবার তাকে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ইমামুল এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে বাপ্পি ও তার পক্ষের লোকজন ইমামুলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এরই জের ধরে সোমবার রাত ৯টার দিকে রোহিতার স্মরণপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের দোকানের পেছনে তাকে একা পেয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে রাব্বি, রবিউল, হুসাইন, মেহেদীসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, ইমামুলকে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্নস্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, তার ডান পাশের পিঠে গুরুতর আঘাতের কারণে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়। এতে তার মৃত্যু হয়েছে।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি- নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তরা ইমামুলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশ অভিযানে রয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। 

এইচ আর তুহিন/অন্তরা

ডামুড্যায় শিক্ষকের ওপর হামলা: ‘ভিডিও করতে গিয়ে’ আসামি গণমাধ্যমকর্মী

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ডামুড্যায় শিক্ষকের ওপর হামলা: ‘ভিডিও করতে গিয়ে’ আসামি গণমাধ্যমকর্মী
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলা ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সাংবাদিকসহ আটজনকে আসামি করে আদালতে মামলা হয়েছে। এই মামলার চার নম্বর আসামি স্টার নিউজের সাংবাদিক মিরাজ শিকদার।

সাংবাদিক মিরাজ শিকদারের দাবি, ‘ঘটনার সময় তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন’, যা ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে। ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগে সংবাদ প্রকাশ করায় পূর্বের ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ তার। 

ভুক্তভোগী, পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, সুজিত কর্মকার রবিবার (৭ জুন) সকালে অটোরিশায় করে বিদ্যালয়ের ফটকে আসলে কয়েকজন তরুণ টেনেহিঁচড়ে তাকে মারধর শুরু করেন। সুজিত কর্মকারকে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে সেখান থেকে সরিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এই ঘটনায় সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সুজিত কর্মকার আটজনের নামোল্লেখ ও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

মামলার আসামীরা হলেন- ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন (৫০), আশিক বেপারী (৩৫), সাহিন মাদবর (৫২) মিরাজ সিকদার (৪৫), মিঠু শিকদার (২৫), শাহ-আলম (৪২), ইপ্তি সরদার (৩০) ও আলিফ সিকদার (২৮)।
 
৭ জুন সকালের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সুজিত কর্মকারকে যখন মারধর করা হচ্ছিল, তার অদূরে দাঁড়িয়ে অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে স্টার নিউজের সাংবাদিক মিরাজ শিকদার ভিডিও ধারণ করছেন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে মামলার আসামি হয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন মিরাজ শিকদার। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সুজিত কর্মকার ফ্যাসিস্টের দোসর ছিল। সে সাবেক সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের সঙ্গে আঁতাত করে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়াও তিনি অনেক শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। আমি তখন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তার ঘটনার নিউজ করেছিলাম। সেই ক্ষোভেই তিনি মারধরের ঘটনায় আমাকে আসামি করেছেন।’

মামলায় সাংবাদিককে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সুজিত কর্মকার খবরের কাগজকে বলেন, ‘মারধরের ঘটনার মাস্টারমাইন্ড মিরাজ শিকদার। ওনি আর সরকারী প্রধান শিক্ষক যোগসাজ করে ওনাদের বাহিনী দিয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে সে ভিডিও ধারণ করেছে।’

এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা আদালত থেকে এখন পর্যন্ত মামলার কাগজ হাতে পাইনি। পেলে বিস্তারিত জানাতে পারব।’ 

বিধান মজুমদার অনি/খাদিজা রুমি/