ঠাকুরগাঁওয়ে বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর চিনতে না পারার অভিযোগ তুলে বিয়ের এক দিনের মধ্যেই তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলায় বিষয়টি এখন আদালতে গড়িয়েছে। কনে বদলের অভিযোগ নাকি যৌতুক বিরোধ এ নিয়ে এখন জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায় গত বছরের ১ আগস্ট ঘটনাটি ঘটে।
ওই দিন পীরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর এলাকার রায়হান কবিরের সঙ্গে বিয়ে হয় স্থানীয় জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের। বিয়ের আয়োজন ও নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সবকিছুই চলছিল স্বাভাবিকভাবে। তবে অভিযোগ ওঠে, বাসররাতেই হঠাৎ পাল্টে যায় পুরো পরিস্থিতি।
ছেলেপক্ষের অভিযোগ, বাসররাতে কনে মুখ ধোয়ার পর বর রায়হান কবির বুঝতে পারেন যাকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিল, তিনি সেই নারী নন। তাদের দাবি, ঘটকের মাধ্যমে প্রথমে একটি মেয়েকে দেখানো হলেও বিয়ের সময় কৌশলে অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে বিষয়টি বোঝা না গেলেও পরে তা স্পষ্ট হয় বলে দাবি ছেলেপক্ষের।
অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ছেলেপক্ষ জানায়, ঘটনার এক দিনের মধ্যেই তারা তালাক দেন।
এ বিষয়ে রায়হান কবিরের ভাগ্নে মো. বাদল বলেন, 'আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিয়ের এক দিনের মধ্যেই আমরা তালাক দিই। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।'
এদিকে ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, 'ছেলেপক্ষের অভিযোগ, কনে বদলের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। প্রথম দিকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় এটি এখন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।'
তবে কনে বদলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মেয়েপক্ষ। তাদের দাবি, বিয়ের আগে ছেলেপক্ষ মেয়েকে দেখে গেছে এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে বহু বরযাত্রী উপস্থিত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কনে বদলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
মেয়েপক্ষের আরও অভিযোগ, বিয়ের পর ছেলেপক্ষ বিদেশ যাওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তারা ৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও পুরো ১০ লাখ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছেলেপক্ষ কনে বদলের মিথ্যা অভিযোগ তোলে। এ ঘটনায় কনের বাবা প্রথমে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মেয়েপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আকবর বলেন, 'এই মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিয়ের পর বিদেশ যাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়েছিল। পুরো টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ছেলেপক্ষ কনে বদলের মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।'
পরে বর রায়হান কবিরও কনের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। উভয় পক্ষের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গতকাল রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিয়ের এক দিনের মাথায় তালাক এবং অভিযোগ প্রতিঅভিযোগে ঘটনাটি এখন আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। কনে বদল নাকি যৌতুক বিরোধ এই ঘটনার প্রকৃত সত্য এখন আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে।
নবীন/রিফাত/