ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বমঞ্চে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক, ক্লোসাকে ছুঁয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা! স্বপ্ন ছোঁয়ার শেষ মিশনে রোনালদো নারায়ণগঞ্জে পদ্মার উড়াল সেতুর পিলারের মাটি গেছে শ্রমিক লীগ নেতার ভাটায় বাকৃবিতে নজর কাড়ছে পেলে-ম্যারাডোনার গ্রাফিতি জাল ভিসায় ইউরোপে মানব পাচারের অভিযোগ জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে ব্রহ্মপুত্র কমবে পানি, বাড়বে খরার ঝুঁকি দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু ১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে আছেন যারা হালান্ডের জোড়া গোল, বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা নরওয়ের শেষ সুযোগ মদ্রিচের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ স্মরণীয় করতে চান ইমন হালান্ডের জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নরওয়ে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগে ডি মারিয়ার হৃদয়ছোঁয়া বার্তা ইরানের ড্রেসিংরুমে গিয়ে যা বললেন ফিফা সভাপতি সোনালি ট্রফির খোঁজে কেইন
Nagad desktop

বরিশালে প্রতিদিন গড়ে ৯ বিবাহবিচ্ছেদ

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
বরিশালে প্রতিদিন গড়ে ৯ বিবাহবিচ্ছেদ
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে গত দুই বছরে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এ সময়ে জেলায় রেজিস্ট্রেশন করা বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের হার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় এগিয়ে নারীরা। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-এর জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত–এই দুই বছরে জেলায় মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে। এর বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি রেজিস্ট্রি বিয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৫টি সংসার ভেঙে যায়। আর ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি রেজিস্ট্রি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৪৭টি।

বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহসীন মিয়া বলেন, ‘২০২৩ ও ২৪ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তালাক বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে এই হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) বরিশালের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগম বলেন, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে আইনি সহায়তা নিতে আসা অনেক নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্ত, পারিবারিক কলহ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকেই সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম ও দ্রুত বিয়ে করার প্রবণতাও বিচ্ছেদের হার বাড়াচ্ছে। ‘অনেক ছেলেমেয়ে আবেগের বশে পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে যৌতুক ও পরকীয়ার অভিযোগে সংসার ভাঙার ঘটনাও বেড়েছে।’

বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা বলেন, ‘বিচ্ছেদ যেন একধরনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। আদালতে প্রতিনিয়ত এ-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বাড়ছে। অধিকাংশ মামলার পেছনে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ধৈর্যহীনতা, পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিস্তার এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। 

জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ এএম
জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জেরঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়
মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়। ছবি: খবরের কাগজ

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ভৌগোলিক নির্দেশক ইউনিট ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’-এর নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। সনদ অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের ৬৪তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে এ নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়কে জিআই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ১৫ জুন শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই নিবন্ধন সনদ দেন।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের বিশেষ জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং স্থানীয় গাছিদের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির কারণে হাজারি গুড় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। এর অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এ গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও গোপীনাথপুর এলাকার উৎপাদিত হাজারি গুড় সারা দেশে পরিচিত।

শীত মৌসুমে এসব এলাকার প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার হাজারি গুড় উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এ গুড়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজারি গুড়ের বিশেষত্ব শুরু হয় এর উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই। খেজুরগাছ থেকে প্রথম কাটার যে রস সংগ্রহ করা হয়, সেই উৎকৃষ্ট মানের রস দিয়েই তৈরি করা হয় হাজারি গুড়। আগের দিন গাছে হাঁড়ি বেঁধে রাখা হয়। ভোরে সংগ্রহ করা রস দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এক কেজি হাজারি গুড় তৈরিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ লিটার কাঁচা রস।

অসাধারণ স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে বাজারে হাজারি গুড়ের দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি হাজারি গুড় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে ঝিটকা ও গোপীনাথপুর গ্রামের ২৮টি গাছি পরিবার প্রায় কোটি টাকার গুড় বিক্রির আশা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ইংল্যান্ডের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথও একসময় এই গুড় খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। সেই খ্যাতিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার বাজার।

জিআই স্বীকৃতির ফলে হাজারি গুড়ের বাজারমূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি নকল পণ্যের বিস্তার রোধ, ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণেও এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘জিআই সনদ পাওয়ার মাধ্যমে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই পণ্যের স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হলো। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ স্বীকৃতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।’

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই হলো এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের ভৌগোলিক পরিচয়, সুনাম ও স্বত্ব সংরক্ষণ করে। ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’ জিআই সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য নতুন মর্যাদা অর্জন করল এবং বিশ্ববাজারে পরিচিতি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়
ছবি: খবরের কাগজ

অবশেষে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারি গুড়’। কয়েকশত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই খেজুরের গুড়কে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে সরকার। এর ফলে দেশের অন্যতম সুপরিচিত এ খাদ্যপণ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা লাভ করলো।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ভৌগোলিক নির্দেশক ইউনিট ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’-এর নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। সনদ অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের ৬৪তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে এ নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়কে জিআই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই নিবন্ধন সনদ প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের বিশেষ জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং স্থানীয় গাছিদের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির কারণে হাজারি গুড় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। এর অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এ গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বিশেষ করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও গোপীনাথপুর এলাকার উৎপাদিত হাজারি গুড় সারা দেশে পরিচিত। শীত মৌসুমে এসব এলাকার প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার হাজারি গুড় উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজারি গুড়ের বিশেষত্ব শুরু হয় এর উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই। খেজুর গাছ থেকে প্রথম কাটার যে রস সংগ্রহ করা হয়, সেই উৎকৃষ্ট মানের রস দিয়েই তৈরি করা হয় হাজারি গুড়। আগের দিন গাছে হাঁড়ি বেঁধে রাখা হয়। ভোরে সংগ্রহ করা রস দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এক কেজি হাজারি গুড় তৈরিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ লিটার কাঁচা রস।

অসাধারণ স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে বাজারে হাজারি গুড়ের দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি হাজারি গুড় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে ঝিটকা ও গোপীনাথপুর গ্রামের ২৮টি গাছি পরিবার প্রায় কোটি টাকার গুড় বিক্রির আশা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথও একসময় এই গুড় খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। সেই খ্যাতিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার বাজার।

জিআই স্বীকৃতির ফলে হাজারি গুড়ের বাজারমূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি নকল পণ্যের বিস্তার রোধ, ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণেও এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘জিআই সনদ পাওয়ার মাধ্যমে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই পণ্যের স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হলো। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ স্বীকৃতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।’

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই হলো এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের ভৌগোলিক পরিচয়, সুনাম ও স্বত্ব সংরক্ষণ করে। ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’ জিআই সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য নতুন মর্যাদা অর্জন করলো এবং বিশ্ববাজারে পরিচিতি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

আসাদ জামান/এসএন

‘দারুণ মজা!’—কালাই রুটির প্রেমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
‘দারুণ মজা!’—কালাই রুটির প্রেমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী খাবার কালাই রুটির স্বাদে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। খাবারটি খাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'দারুণ মজা!'

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নগরীর উপশহর নিউ মার্কেট এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘রুমন কালাই হাউজ’ পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি রাজশাহীর বিখ্যাত কালাই রুটির পাশাপাশি বেগুন ভর্তা ও রাজহাঁসের মাংসের স্বাদ গ্রহণ করেন।

খাবার উপভোগের আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কালাই রুটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়া আগ্রহভরে পর্যবেক্ষণ করেন। দোকানের কর্মীরা কীভাবে রুটি প্রস্তুত করছেন, তা মনোযোগ দিয়ে দেখেন এবং নিজের মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন। এ সময় তিনি কয়েকটি সেলফিও তোলেন। শুধু কালাই রুটি নয়, বেগুন ভর্তা তৈরি ও রাজহাঁসের মাংস রান্নার প্রক্রিয়াও ঘুরে ঘুরে দেখেন তিনি।

পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কালাই রুটি ও রাজহাঁসের মাংস খেতে বসেন রাষ্ট্রদূত। খাবার শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কালাই রুটি, হাঁসের মাংস ও বেগুন ভর্তার স্বাদ ছিল চমৎকার। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ‘রুমন কালাই হাউজে’ স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই একনজর তাঁকে দেখতে এবং তাঁর খাবার উপভোগের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় পুরো এলাকা ছিল উৎসুক জনতার পদচারণায় মুখর।

সফরকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর সফরসঙ্গীরাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এনায়েত করিম/এসএন

বেদে পল্লীতে এসি লাগিয়ে মাদক কারবার, গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
বেদে পল্লীতে এসি লাগিয়ে মাদক কারবার, গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগিয়ে মাদক কারবারের অভিযোগে সরকারি জায়গায় নির্মিত বেদে পল্লীর কয়েকটি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামে ওই অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেদে পল্লীর সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে বিলাসবহুল আস্তানা বানিয়ে মাদকের পাশাপাশি পতিতাবৃত্তির বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এতে সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে রবিবার (১৪ জুন) ওই আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় এসির রিমোট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাদক ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ কর হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাত মাদক মামলার আসামি ও আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মেয়ে ও ভাগ্নিকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ববিতা ও তার সিন্ডিকেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে অপরাধের আখড়া তৈরি করেছিল। বর্তমানে ওই জায়গার ওপর দিয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চারলেন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পাশাপাশি চলমান সড়ক সম্প্রসারণের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে পুরো আস্তানাটি ভেঙে দিয়েছে।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। চারলেন রাস্তার উন্নয়ন কাজ নির্বিঘ্ন করতে এবং এলাকাকে সব ধরনের সামাজিক অপরাধমুক্ত করতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

অভিযানে নোয়াখালী জেলা সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলামসহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, চাটখিল থানার উপপরিদর্শক শাহজাহানসহ পুলিশের একটি টিম, উপজেলা প্রশাসন ও চাটখিল পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আনসার বাহিনী এই অভিযানে সহায়তা করেন। 

এদিকে প্রশাসন ও পুলিশের এমন দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয়দের মাঝে। এলাকাবাসী এই মাদক ও পতিতাবৃত্তি সিন্ডিকেটের মূল হোতা ববিতাসহ এর নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান, যুবক আটক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান, যুবক আটক
স্লোগান দেওয়ার অপরাধে গ্রেপ্তার সোহেল রানা। ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দেওয়ার অপরাধে সোহেল রানা (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সোহেল উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকার মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল (১৭ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও সমাবেশে যোগ দিতে শ্রীমঙ্গলে আসবেন। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নানান কর্মযজ্ঞ চলছে। সেখানে নিমির্তব্য মঞ্চের সামনের মাঠে হঠাৎ এক যুবক একাধিকবার জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন। স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অসংলগ্ন আচরণও করতে থাকেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন বলেন, “ছেলেটি সম্ভবত নেশাগ্রস্ত ছিল। সে মঞ্চের পাশের মিনি স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিচ্ছিল। পরে সেখানে থাকা লোকজন তাকে মারধর করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে সে থানায় রয়েছে।”

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক খবরের কাগজকে জানান, আমি মাত্র থানায় ঢুকেছি৷ শুনেছি একজনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগামীকাল বুধবার শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শুভ/নাঈম