বরিশালে গত দুই বছরে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯টি করে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে। এ সময়ে জেলায় রেজিস্ট্রেশন করা বিয়ের তুলনায় বিচ্ছেদের হার প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি। বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় এগিয়ে নারীরা। বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-এর জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত–এই দুই বছরে জেলায় মোট ১৮ হাজার ৬৪৪টি বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে। এর বিপরীতে বিচ্ছেদ হয়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। ২০২৩ সালে ৯ হাজার ৬৬৬টি রেজিস্ট্রি বিয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৫টি সংসার ভেঙে যায়। আর ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৯৭৮টি রেজিস্ট্রি বিয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৪৭টি।
বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার মোহসীন মিয়া বলেন, ‘২০২৩ ও ২৪ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তালাক বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানে এই হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) বরিশালের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট শাহিদা বেগম বলেন, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে আইনি সহায়তা নিতে আসা অনেক নারীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্বামীর বেকারত্ব, মাদকাসক্ত, পারিবারিক কলহ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস থেকেই সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম ও দ্রুত বিয়ে করার প্রবণতাও বিচ্ছেদের হার বাড়াচ্ছে। ‘অনেক ছেলেমেয়ে আবেগের বশে পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে যৌতুক ও পরকীয়ার অভিযোগে সংসার ভাঙার ঘটনাও বেড়েছে।’
বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মৃধা বলেন, ‘বিচ্ছেদ যেন একধরনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। আদালতে প্রতিনিয়ত এ-সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বাড়ছে। অধিকাংশ মামলার পেছনে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।’
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ধৈর্যহীনতা, পারস্পরিক সহনশীলতার অভাব এবং ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিস্তার এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।