ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ হাজি, মৃত্যু ৫৪ ‘দোষ সব আমার, খেলোয়াড়দের ওপর থেকে নজর সরান’: প্যারাগুয়ে কোচ শুক্রবারের নির্ধারিত মার্কিন-ইরান আলোচনা বাতিল : সুইজারল্যান্ড মিথ্যার চোরাস্রোত বয়ে যায় আর্থিক সংকটে ভর্তি অনিশ্চিত, শিক্ষার্থীর পাশে প্রতিমন্ত্রী অনুবাদ হয় না মানুষের স্মৃতির ভেতর অন্ধকারের গান প্রেমের এলিজি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত দুবাইগামী যাত্রীর লাগেজ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ

গৌরীপুরে আবর্জনা ফেলে কৌশলে খাল দখল

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম
গৌরীপুরে আবর্জনা ফেলে কৌশলে খাল দখল
দাউদকান্দির গৌরীপুরের মাইথারকান্দি খাল দখলের উদ্দেশ্যে আবর্জনা ফেলা হয়েছে। একজন পরিবেশকর্মী তা গণমাধ্যমকর্মীদের দেখাচ্ছেন   ছবি: খবরের কাগজ

গোমতী ও পুরোনো তিতাস নদীবিধৌত উপজেলা কুমিল্লার দাউদকান্দি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই উপজেলা এক সময় পাট ব্যবসার জন্য ছিল বিখ্যাত। উপজেলা সদর ও গৌরীপুরে থাকা নদীবন্দরকে ঘিরে এ অঞ্চলটি হয়ে উঠেছিল ব্যবসায়িক কেন্দ্র। পার্শ্ববর্তী হোমনা, তিতাস, মেঘনা এবং চাঁদপুরের কচুয়া ও মতলব উত্তরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল দাউদকান্দি। উপজেলায় থাকা তিনটি খাল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। বিভিন্ন নৌযানে করে এসব খাল দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া হতো। বর্ষা মৌসুমে জমা পানি খালগুলো দিয়ে মিশে যেত গোমতী ও পুরোনো তিতাস নদীতে। 

কিন্তু এখন সবই অতীত। ঐতিহ্যবাহী বাটাখাসি, মাইথারকান্দি ও বলদাখাল এখন মৃতপ্রায়। কোথাও জমেছে কচুরিপানার স্তূপ, কোথাও ময়লার ভাগাড়। অনেকে খালের জমিতে বহুতল পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এতে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নৌযানকেন্দ্রিক এক সময়ের বাণিজ্যও থমকে গেছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিচ্ছে। গত বছরের বন্যা শেষে যখন সব এলাকার পানি নেমে যাচ্ছিল, তখন দাউকান্দিবাসীকে জমে থাকা পানির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়রা বলছেন, খালের গতিপথ দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক না করলে আসন্ন বর্ষায় পৌরবাসীকে জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হবে। 

তিনটি খালের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা যায়, খালের দুই পাশ ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট-বড় বিভিন্ন স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন। খালের মাঝখানের অংশ গোচারণভূমি ও ফসলি খেতে পরিণত হয়েছে।

বিভিন্ন নথি ঘেঁটে ও একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী বলদাখালটি একসময় গোমতী নদীর গোয়ালমারী ইউনিয়নের অংশ থেকে উৎপন্ন হয়ে দাউদকান্দি পৌরসভা ও আশপাশের এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হতো। তখন এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রথমে এটি আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়, এরপর হয় বেদখল।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল মাইথারকান্দি। গোমতীর শাখা নদ কালাডুমুর থেকে উৎপত্তি হয়ে গৌরীপুর এলাকার পাশ দিয়ে এটি প্রবাহিত হতো। এই খালকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল গৌরীপুর। কিন্তু এটি এখন দখল-দূষণের শিকার। গোমতীর জলধারা থেকে জন্ম নেওয়া উপজেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাল বাটাখাসি। গৌরীপুর বাজারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি মিশত কালাডুমুর নদে। ভরাট হতে হতে এটিও এখন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে।

বলদাখাল গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘এই খাল দিয়ে এক সময় নৌযান চলত। মাছ পাওয়া যেত। পানি দিয়ে ধানের সেচ দেওয়া হতো। এখন এই খালে কোনো পানি নেই। বর্ষায় এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ।’ তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে মৃত খালটি সংস্কারের দাবি জানান।
পৌর বাজারের বাসিন্দা মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘বাজারের ভেতরে এখন খালের অস্তিত্বই নেই। আবর্জনা ফেলে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদল হলেও কাউকে উচ্ছেদ করা হয়নি।’

গৌরীপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলী আশরাফ খান বলেন, ‘গত বছর বৃষ্টির সময় বাজারে পানি জমেছিল। অনেক দোকানের পণ্যের ক্ষতি হয়। পানি সরে যাওয়ার পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা কয়েক মাস স্থায়ী হয়। এখনই খালগুলোর পানির গতিপথ ঠিক না করলে আগামী বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যা দেখা দেবে।’

এ বিষয়ে দাউদকান্দি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম বলেন, ‘তিনটি খালের দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। উচ্ছেদের পর খালগুলোর দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল, লোহার ফেন্স (বেড়া) ও ওয়াকওয়ে বানানো হবে—যেন ভবিষ্যতে কেউ আবর্জনা ফেলে আবারও খালের জায়গা দখল করতে না পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে।’

খাল দখলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা প্রথমে আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট করে। এরপর তাদের প্রতিষ্ঠানের খালের দিকে অংশ ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকে। কোথাও কোথাও ৪০ ফুটের খাল ২০ ফুটে নেমে এসেছে।’

জানা গেছে, রিটেইনিং ওয়াল হলো এমন একটি কাঠামো যা অসমতল জায়গায় মাটি, পানিকে ধরে রাখতে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে মাটির ক্ষয় বা ধস রোধ করা যায়।

চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি
শফিউল আজম। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় শফিউল আজম নামের এক বাক প্রতিবন্ধী যুবক ( ৩০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে চকরিয়া মালুমঘাট থানার আওতাধীন ডুলহাজরা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে ডুলহাজরা ডিগ্রি কলেজ থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার উত্তরে হাইওয়ে সড়কের পাশে ওই যুবককে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পুলিশ । ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কোনো অজ্ঞাত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

বর্তমানে ওই যুবক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার নাম শফিউল আজম বলে জানা গেলেও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিস্তারিত পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারেনি হাইওয়ে পুলিশ।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আহত যুবকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে পিবিআইকে অবহিত করা হয়েছে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো  ব্যক্তি ছবিতে থাকা  যুবকের পরিচয় জেনে থাকেন, তবে অবিলম্বে মালুমঘাট হাইওয়ে থানা অথবা কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি।

রকিবুল হাসান/অন্তরা 

আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব মাধনগর এলাকায় আগুন সন্ত্রাসীদের তান্ডবে নির্ঘুম আর আতঙ্কে রাত কাটছে কৃষকদের। কেননা, গত বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া। তবে যে খড়ের গাদার পাশ বা ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার রয়েছে, সেগুলোর পাশে চিরকুট লিখে আগুন না, দিয়ে তারা দেখাচ্ছে দয়াও।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে দুটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় কৃষক মুনীরের খড়ের গাদার ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার সংযোগ থাকায় ওই গাদায় আগুন না দেওয়ার চিরকুট রেখে গেছে আগুন সন্ত্রাসীরা।

তথ্যমতে, ওই গ্রামের কৃষকরা ধান ঘরে তোলার পর বাড়ির আঙ্গিনা বা রাস্তার পাশে খড় গাদা করে রাখেন। সারা বছর ওই খড় খাওয়ান গবাদি পশুকে। আবার কেউ কেউ খড় বিক্রি করে করেন বাড়তি আয়ও। তবে গত ২-৩ দিন থেকে আবারও শুরু হয়েছে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া।

গত বছর ওই গ্রামের বিভিন্ন খড়ের গাদায় রাতের আঁধারে আগুন দেয় সন্ত্রাসীরা। ফলে পুড়েছে ১৫-২০ টি খড়ের গাদা। ওই সময় নানা তৎপরতায়ও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক সোবাহান কাজী খবরের কাগজকে জানান, রাতে একটা খড়ের গাদার আগুন নিভিয়ে এলাকাবাসী বাড়ি ফেরেন। এরপর আরেকটি গাদায় আগুন দেয় সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই দিন রাত ১ টা থেকে ৩টার মধ্যে মামুন সরদার, সিহাব সরদার ও সোবাহান কাজির দুটি বড় খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আগুন নেভানোর পাশাপাশি আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে গ্রামবাসীর।

নলডাঙ্গা থানার ওসি নূরে আলম খবরের কাগজকে জানান, অপরাধীদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ।

কামাল মৃধা/থিওটোনিয়াস

নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীতে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ১৭ বেড়ের হাম ওয়ার্ডে মোট ৮৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এতে ভাতরুম-শয্যাসহ নানা সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ চরমে ওঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকটের মধ্যেও সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১৯জুন) সকালে গিয়ে দেখা যায়, হাম ওয়ার্ডের ভেতরে বাহিরে সিটে মেঝেতে অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জনসহ হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ জন। এখানে এ পর্যন্ত তিনজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ওয়ার্ডে গত আড়াইমাস থেকে দুজন ডাক্তার নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে এ হাসপাতালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিঘ্ন ঘটছে। এখানে ৩০ জন সুইপারের পদের বিপরীতে ৮টি পদ খালি রয়েছে। সিনিয়র কনসালটেন্ট (নিয়মিত-৫ ও নব সৃষ্ট-৫) ১০টি পদের মধ্যে ৬টি পদই খালি রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স ২১জন, স্টাফ নার্স ৬জন ও মিডওয়াইফ নার্স ৩জনের পদও খালি রয়েছে।

রোগীর স্বজনরা জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১৭ বেডে ১৭ জন হামের রোগীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু রোগী ভর্তি আছে ৮৭জন। এদের সঙ্গে আরও দুই শতাধিক স্বজনসহ এ ওয়ার্ডে তিন শতাধিক লোকজন ভিড় করছেন। যেহেতু ব্যাপক হারে হামের উপদ্রব দেখা দিয়েছে তাই এ ওয়ার্ডের শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো জরুরি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ১৭ বেডে ৮৭ জন রোগী ভর্তি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এ ওয়ার্ডে গত আড়াই মাস ডা. রাশেদ ও ডা. ইউসুফসহ দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দিয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নতুন তত্ত্বাবধায়ক আরও দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স যুক্ত করেছেন। তবে রোগীর চাপ অনুযায়ী এখানে জনবল আরও বাড়ানো উচিত।

গত মঙ্গলবার (১৬জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয় এবং তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে এ হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ইকবাল মজনু/তামান্না রুপা/

মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের মধুখালীতে গত দুইদিনে একই এলাকার দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

বুধবার (১৭ জুন) রাতে দুষ্কৃতকারীরা উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সর্বজনীন কালিমন্দিরে শিবের মাথা ভেঙ্গে ফেলে। এর আগে গত সোমবার রাতে বামুন্দি বাজারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, পাকা ভিত, পাকা দেয়াল এবং ওপরে চারচালা টিনের ছাউনী দেওয়া শতবর্ষী বামুন্দী সার্বজনীন কালি মন্দিরটি সামনে গ্রিল দিয়ে আটকানো। দুর্বৃত্তরা গ্রিলের ভিতর দিয়ে বাঁশ বা বাঁশ সদৃশ্য কোন বস্তু ঢুকিয়ে বাড়ি দিয়ে শিবের মাথা ভেঙ্গে ফেলতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মন্দিরের পূজারি বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলার দৃশ্যটি দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দির কমিটির সভাপতিসহ এলাকাবাসীকে জানান।

এ ছাড়াও গত সোমবার রাতে বামুন্দি (বিল আড়ালিয়া) বাজারে অবস্থিত কালী মান্দিরে দুর্বৃত্তরা হামলা করে কালি প্রতিমার মাথা ভেঙ্গে ফেলে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। মন্দিরটি বাজারের মধ্যে অবস্থিত। মন্দিরের তিন দিকে দেয়াল ও ওপরে টিনের ছাদ থাকলেও সামনের অংশটি খোলা ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম ঘটনার দুই দিন পরে ওই বাজার থেকে অর্ধ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বামুন্দী সর্বজনীন কালিমন্দিরে দ্বিতীয়বারের মত শিব প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রথম ঘটনায় পুলিশ কঠোর ভূমিকা পালন করলে দ্বিতীয় ঘটনা ঘটতো না।

বামুন্দী সর্বজনীন কালিমন্দিরের সভাপতি রঞ্জন সরকার খবরের কাগজকে বলেন, 'এ ঘটনার পর থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।'

বামুন্দি বাজার মন্দির কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাজারের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার জানা নেই। তাই কাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো?’

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায় খবরের কাগজকে বলেন, বাজারের মন্দিরের ঘটনায় এখনও মামলা করার সুযোগ আছে। পাশাপাশি বামুন্দি সার্বজনীন মন্দিরে কালি প্রতিমা ভাঙচুরের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এনকেবি নয়ন/থিওটোনিয়াস 

কমল দাদার পাঠশালা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
কমল দাদার পাঠশালা
নিজ বাড়ির উঠানে পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াচ্ছেন আনসার সদস্য কমল চন্দ্র রায়। ছবি: খবরের কাগজ

নেই কোনো পাকা ভবন বা শ্রেণিকক্ষ। নিজ বাড়ির উঠানে চটের বস্তা বিছিয়ে চলে পাঠদান। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুদের বিনামূল্যে পড়ান আনসার সদস্য কমল চন্দ্র রায় ও তার স্ত্রী লতা রানী রায়।

কমল চন্দ্র রায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের আনসার কমান্ডার। সামান্য বেতনের চাকরিতে অভাব-অনটনের সংসার তার। স্ত্রী লতা রানী রায় এইচএসসি পাস। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তাদের ছোট্ট পরিবার। নিজেদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ না পেলেও গ্রামের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেন এই দম্পতি। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০২৩ সালে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন ‘কমল দাদার পাঠশালা’। 

বর্তমানে পাঠশালাটিতে বেবি শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৫ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছে। শুধু পাঠদানই নয়, প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুদের জন্য বিস্কুট, চানাচুরসহ ছোটখাটো নাশতার ব্যবস্থাও করেন কমল।

কমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের এলাকার অধিকাংশ আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মানুষ খুবই দরিদ্র। তারা সারা দিন মাঠে-ঘাটে কাজ করেন। শিশুদের দেখভাল করার সময় পান না। অনেক শিশু স্কুলের পড়া ঠিকমতো করতে পারে না। তাই তাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এই পাঠশালা শুরু করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অর্থ চাই না। এই শিশুরা শিক্ষিত হোক, সমাজের ভালো মানুষ হোক, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

লতা রানী বলেন, স্বামীর এই মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতা করছি। অনেক সময় তিনি আনসারের দায়িত্বে বাইরে থাকেন। তখন আমি নিজেই শিশুদের পড়াই। কেউ দেরি করে বাড়ি ফিরতে না পারলে তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিই। শিশুরা পড়াশোনা করছে, ভালো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে–এটাই আমাদের আনন্দ।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী দীপা বেসরা বলে, তিন বছর ধরে এখানে পড়ছি। এখন স্কুলের পড়া অনেক ভালো বুঝি। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে কমল দাদা আর লতা দিদি শিখিয়ে দেন। আমাদের কোনো টাকা দিতে হয় না। আরেক শিক্ষার্থী সুনীল মুরমু বলে, আগের চেয়ে অনেক ভালো পড়তে পারি।
অভিভাবক সুমিদ্র মুর্মু বলেন, ‘আমরা সারা দিন কৃষি কাজ করি। সন্তানদের দেখার সময় পাই না। কমল দাদা নিজের সন্তানের মতো তাদের পড়াশোনা করান। রাত হলেও নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

অভিভাবক শ্যামল মাড্ডি বলেন, ‘আমার দুই সন্তান এখানে পড়ে। তাদের বই-খাতা কিনতেই কষ্ট হয়। সেখানে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। এমন মানুষ সমাজে খুব কম আছে।’

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সমাজে অনেক সামর্থ্যবান মানুষ থাকলেও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের নিয়ে এভাবে ভাবেন না। অথচ একজন আনসার সদস্য নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে শিশুদের পড়াচ্ছেন। কমল চন্দ্র রায়ের এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের মানুষদের সহযোগিতা করা গেলে পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সঙ্গে আরও দ্রুত সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

দিনাজপুর সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বলেন, অভাব-অনটনের মধ্যেও কমল ও লতা দম্পতি প্রমাণ করেছেন–মানুষ চাইলে নিজের সামর্থ্যের মধ্যেই সমাজ বদলের বীজ বপন করতে পারে। আর সেই বীজ থেকেই হয়তো একদিন জন্ম নেবে শিক্ষিত, আলোকিত ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একটি নতুন প্রজন্ম।